শুধু শক্তি বৃদ্ধি নয় জনমতেও নজর দিন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

শুধু শক্তি বৃদ্ধি নয় জনমতেও নজর দিন

আ.লীগের কার্যনির্বাহী সভায় শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

print
শুধু শক্তি বৃদ্ধি নয় জনমতেও নজর দিন

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতা’ অব্যাহত রাখার জন্য আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনমত যেন পক্ষে থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে। এ বিষয়ে তিনি নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। শুক্রবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী দিনে দেশকে কোথায় নিয়ে যাব সে পরিকল্পনাও আছে এবং সেটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তুতিটা আমাদের নিতে হবে। সেই পথগুলো আমাদের ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। বাধাগুলো অতিক্রম করতে হবে। তার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে যেমন শক্তিশালী করা, তেমনি জনমত সৃষ্টি করা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, পাশাপাশি চিন্তাচেতনাগুলোকে সমন্বয় করে প্রতি পদক্ষেপে আমরা যেন সুষ্ঠুভাবে পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারি, যা আমাদের চলার পথে যত বাধাই আসুক অতিক্রম করে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।

গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জোট। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার মর্যাদা পেয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

এসব অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা যে জায়গাটায় এসেছি, আমাদের কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের একটা চিন্তাভাবনা ছিল, পরিকল্পনা ছিল। আমরা সরকারে গিয়ে কী করব, সেগুলো মোটামুটি একটা তৈরি করা ছিল বলেই কিন্তু আমরা সরকারে আসার পরপরই কাজগুলো করতে পেরেছি।

জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রেখে গিয়েছেন। আমরা তারই পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের চলার পথ কিন্তু খুব সহজ ছিল তা না। প্রতি পদে পদে বাধা। অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। আমরা যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি সেটা ধরে রাখা। আর রাজনৈতিক শক্তিটা খুব বেশি প্রয়োজন, সংগঠন প্রয়োজন, জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমরা আরও সামনে যেতে চাই। আমরা বাংলাদেশটাকে দক্ষিণ এশিয়ায় একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে চাই। আমাদের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রেখেছি। এই বছরে কিন্তু কখনো আমরা হোঁচট খাইনি বা পিছিয়ে যাইনি। আবার হঠাৎ করে কিন্তু আমরা লাফ দিইনি। আমরা খুব স্থিরভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে লক্ষ্য স্থির করে কাজগুলো যে করা সম্ভব সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। সরকারের সমালোচনাকারীদের নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটাও ঠিক আমাদের দেশে কিছু লোক থাকেই কোনো কিছুই ভালো লাগে না। এই যে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যতদূরই আগাই কিছু লোকের সব সময় এটাকে ভিন্ন একটা চোখে দেখার অভ্যাস।

এরা আসলে কখনো গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয়, তাদের দমবন্ধ, তারা মনে হয় নিঃশ্বাস নিতে পারে না- এরকম একটা ভাব তাদের।

দেশে ‘অস্বাভাবিক একটা অবস্থা’ থাকলে তাদের ‘খুব দাম বাড়ে’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কাজেই দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা অব্যাহত থাকুক সেটাই আমরা চাই।

দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব কিছুর ব্যাপারেই আমরা যথেষ্ট সজাগ রয়েছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার সেই সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে।

আমরা প্রতিনিয়ত খবর নিচ্ছি। যার যা দায়িত্ব সেটা দেওয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক দলও সক্রিয় থাকতে হবে। কারণ যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছি।

আওয়ামী লীগকে নিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের এই রাজনৈতিক দল, যে দল এদেশের মানুষের কথা বলার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল। আর যে দলটিকে সুসংগঠিত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

সেই স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেকটা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। এই বাংলাদেশের একটি মানুষও দরিদ্র থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না, বিনাচিকিৎসায় কষ্ট পাবে না। বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ হবে।