তিন ইউনিটের দুটিই বন্ধ!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র

তিন ইউনিটের দুটিই বন্ধ!

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৯

print
তিন ইউনিটের দুটিই বন্ধ!

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২-নং ইউনিটটি (১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন) মঙ্গলবার ভোরে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে এই কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১-নং ইউনিটটি ওভারহোলিং কাজের জন্য ২০১৭ সালের ৮-১৩ অক্টোবর বন্ধ করে চাইনিজ ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অর্থাৎ প্রায় ১৮ মাসের বেশি সময় ধরেই ১-নং ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে এ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩-নং ইউনিটটি উৎপাদনে আছে। এটি থেকে বর্তমানে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

জানা যায়, ১ ও ২-নং ইউনিট দুটির গড়ে সর্বোচ্চ উৎপাদন ৭০-৮০ মেগাওয়াটে নেমে আসায় সেগুলো ওভারহোলিং করে পূর্ণ ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতায় আনার জন বিউবো এবং চাইনিজ কোম্পানি CMC-SEC Consortium ২০১৭ সালে প্রায় ১৯০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরত হয়। একই কাজের জন্য আরও ১৪.৫০ কোটি টাকা মূল্যের বয়লার টিউব জরুরি বিবেচনায় কেনা হয়। চুক্তির শর্তাবলিতে ওভারহোলিং কাজ পর্যায়ক্রমে ১-নং ইউনিট ৩ মাস, common szstem ১ মাস ও ২-নং ইউনিট ৩ মাস অর্থাৎ মোট ৭ মাসের মধ্যে সমুদয় ওভারহোলিং কাজ সমাপ্ত করার কথা। বাস্তবে ১-নং ইউনিটের ওভারহোলিং ১৮ মাস, যা চুক্তিবদ্ধ বরাদ্দ সময়ের ছয়গুণ অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া কর্তৃপক্ষ ১-নং ইউনিটটির ওভারহোলিং কাজ শেষে চালু করতে পারেনি।

গতকাল ২-নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোয়ালিটি বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। এদিকে তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এ কেন্দ্র থেকে এখন উৎপন্ন হচ্ছে মাত্র ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

জানা যায়, গতকাল ভোরে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ২-নং ইউনিটটি বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে রাত থেকেই ওই ইউনিটটির টারবাইনে বেশ সমস্যা দেখা দেয়। বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংরক্ষণ শাখার ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার ভোরে সমস্যা হওয়ায় কেন্দ্রের ২-নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেছে। সেটি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের ১-নং ইউনিটটি ওভার হোলিংয়ের জন্য প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকলেও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা লোডশেডিং হতে পারে। তবে অন্য স্থান থেকে বিদ্যুৎ এনে লোডশেডিং মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন এ কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার টন কয়লা সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ৩-নং ইউনিটির জন্য প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টন কয়লার প্রয়োজন। আর ১-নং ও ২-নং ইউনিটের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন হয় প্রায় ১ হাজার ২০০ টন কয়লা। যেহেতু ১-নং ও ২-নং ইউনিটি বন্ধ, তাই বাড়তি কয়লা মজুদ রাখা হচ্ছে। যাতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা উৎপাদন সমস্যা হলেও তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা সংকটে পড়তে না হয়।