ঈদযাত্রায় ১৮৫ দুর্ঘটনা ২৪৭ প্রাণহানি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ

ঈদযাত্রায় ১৮৫ দুর্ঘটনা ২৪৭ প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৯

print
ঈদযাত্রায় ১৮৫ দুর্ঘটনা ২৪৭ প্রাণহানি

এবারের ঈদুল ফিতরে গত ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ১২ দিনে ১৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও ২৬ জন। এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ঈদকেন্দ্রিক যাত্রীর চাপ, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যান, যাত্রীদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাকে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এ তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশের ১৮টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক দৈনিক, ১০টি অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ এবং জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি ব্রি. জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ২১২টি দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ১৮৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২৪৭ জন, আহত হয়েছেন ৬৬৪ জন। এর মধ্যে সড়ক ও মহাসড়কের দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত, ৬৫২ জন আহত এবং ৩৭৫ জন পঙ্গু হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর মধ্যে গাড়িচাপার ঘটনা ছিল ৫১টি, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৮১টি, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১৯টি এবং অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি। এসব দুর্ঘটনায় ৬৩টি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি কার-মাইক্রোবাস, ৩০টি নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা, ৬৪টি মোটরসাইকেল এবং ২৬টি অন্যান্য যানবাহন জড়িত ছিল।

এছাড়া নৌপথের ৫ দুর্ঘটনায় চার ব্যক্তি নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। আর ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ১৩ জন এবং পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদকেন্দ্রিক যাত্রীর চাপ, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাত্রী বহন, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন-করিমন, মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল, বিরতিহীন/বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, যাত্রীদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা ইত্যাদি এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

এসব সমস্যা সমাধানে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়ক বাঁক সোজা করা, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা, চালকের প্রশিক্ষণ, যাত্রী সচেতনতা বাড়ানোসহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ করে সংগঠনটি।