গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে প্রস্তুত প্রার্থীরা

ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে প্রস্তুত প্রার্থীরা

তানজেরুল ইসলাম, গাজীপুর ১০:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

print
 গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে প্রস্তুত প্রার্থীরা

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী ২৬ জুন।

১৮ জুন থেকে প্রচারণায় নামবেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার অথবা রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। পবিত্র রমজানের শেষ পর্যায়ে দলীয় বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে প্রধান দুদলের মেয়রপ্রার্থীরা বাগ্যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। বহুমুখী নাগরিক সমস্যা পুঁজি করে কৌশলে ভোট চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার ইস্যু পুঁজি করে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদিও ইসির বেঁধে দেওয়া ১৮ জুনের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষেধ। তবে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চাঙ্গা রাখতে এবং ঈদের পর পূর্ণ শক্তিকে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে কৌশলী প্রধান দু’দলের মেয়রপ্রার্থী। পবিত্র রমজানেও প্রধান দু’দলের মেয়রপ্রার্থীর বাগ্যুদ্ধ জানান দিচ্ছে- ‘১৮জুন থেকে নির্বাচনে মাঠ দখলে তারা কতটা মরিয়া।’
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে নৌকা প্রতীকে বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে ভোট চাচ্ছেন মন্ত্রী-এমপিসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীসহ ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে সমালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নির্বাচনী আচরণবিধি লক্সঘনের অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তবে এই দুই মেয়রপ্রার্থীর বাগ্যুদ্ধের পাশাপাশি ঈদের ছুটি শেষে শ্রমিক ভোটারদের গাজীপুর ফেরা নিয়েও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। শিল্পসমৃদ্ধ গাজীপুর সিটিতে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। ভোটারদের বিরাট একটি অংশই গার্মেন্ট শ্রমিক। নগরের টঙ্গী ও কোনাবাড়ী এলাকায় দুটি বিসিক শিল্প নগরী রয়েছে। এছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ ওয়ার্ডেই ছোট-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আসছে সিটি নির্বাচনের আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। যানজট এড়াতে কয়েকদিন আগে থেকেই গাজীপুর মহানগর ছাড়তে শুরু করেছে গার্মেন্ট শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ নাড়ির টানে গাজীপুর ছেড়েছেন। রমজানের শেষ মুহূর্ত দলীয় বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে শ্রমিক ভোটারদের সমর্থন পেতে কৌশলী প্রধান দুদলের মেয়রপ্রার্থী। সেইসঙ্গে নির্বাচনের আগেই তাদের গাজীপুরে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করছেন মেয়রপ্রার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটির প্রথম নির্বাচনে বিএনপির এম.এ মান্নান এক লাখেরও বেশি ভোটে বিজয়ী হয়ে বর্তমানে মেয়রের দায়িত্বে আছেন। সে সময়ে নির্বাচনে নৌকাডুবির অন্যতম কারণ ছিল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। তবে গত পাঁচ বছরে নগরীতে পাল্টে গেছে ভোটের পূর্বের হিসাব-নিকাশ। দলীয় কোন্দল ভুলে কেন্দ্রীয় নির্দেশে নৌকার পালে হাওয়া দিচ্ছেন মন্ত্রী-এমপিসহ দলটির জেলা ও মহানগরের সিনিয়র নেতারা। বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিই জানান দিচ্ছে- ‘একাট্টা আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ে কতটা মরিয়া।’ তবে ভোটাররা মনে করছেন, নির্বাচনে প্রধান দুদলের মেয়রপ্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের কয়েক যুগের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার নিজ বাসস্থান নগরের টঙ্গী জোনে। এই জোনে বিসিক শিল্পনগরীসহ ছোট-বড় মিলে ১৯টি বস্তি রয়েছে। ভোটার সংখ্যা ৩ লাখের ৮৫ হাজার ৭৭৪। অন্যদিকে বিএনপির বর্তমান মেয়র এম.এ মান্নানের নিজ বাসস্থান নগরের সালনা জোনে। এই জোনে মোট ভোটার ৮৪ হাজার ৩৪৪। ক্ষমতাসীন দলের মেয়রপ্রার্থীকে এই দুটি জোনের ভোটারদের সমর্থন পেতে অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। তবে নির্বাচনে কেন্দ্র কমিটি গঠন, পুলিং এজেন্ট নির্ধারণসহ ভোটের মাঠে দলীয় নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে হাসান উদ্দিন সরকারকেও অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

 

 
.