ক্রাইস্টচার্চ হামলা: নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি, গুলিবিদ্ধ ৭

ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ক্রাইস্টচার্চ হামলা: নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি, গুলিবিদ্ধ ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক ২:১৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯

print
ক্রাইস্টচার্চ হামলা: নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি, গুলিবিদ্ধ ৭

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছে। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও গুরুতর আহত হয়ে ৫ জন আছেন হাসপাতালে।

অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম সুফিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভুঁইয়া জানিয়েছেন, নিহতরা হলেন ড. আব্দুস সামাদ ও হোসনে আরা।

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আবদুস সামাদ। হামলার সময় আব্দুস সামাদের সঙ্গে তার স্ত্রী ছিলেন। স্ত্রীর নাম জানা যায়নি। তবে তিনি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

হোসনে আরার বিস্তারিত আর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ডিনস এভে অবস্থিত মসজিদ আল নুর এবং লিনউড এভের লিনউড মসজিদে গোলাগুলির ঘটনায় ২৭ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র।

কমপক্ষে দু’জন বন্দুকধারী ওই হামলা চালিয়েছে। এদের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। যখন তিনি মসজিদে হামলা চালাচ্ছিলেন তখন নিজেই সেই দৃশ্য ভিডিও করেছেন। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে যে, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের বাইরেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

প্রায় ছয় মিনিট ধরে হামলা চালানো হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রথমে মসজিদের বাইরে গুলি চালানো হয়েছে। এরপর হামলাকারী মসজিদের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। মেঝেতে পড়ে থাকা মৃতদেহের ওপর একের পর এক গুলি চালিয়ে যায় হামলাকারী। সে প্রায় তিনবার তার গুলি রিলোড করেছে। সে সব দিক থেকেই গুলি ছুড়েছে বলে জানিয়েছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।

মসজিদ আল নুরে থাকা প্রায় দুইশো জনের মধ্যে একজন হলেন মোহন ইব্রাহিম। তিনি সেখান থেকে কোনমতে পালিয়ে বেঁচেছেন। তিনি ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে চালানো ওই হামলা সম্পর্কে বলেন, প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটা ইলেক্ট্রিক শক। পরে সবাই পালাতে শুরু করে। সেখানে অনেকেই মারা গেছে এবং বহু লোক আহত হয়েছে। আমার বেশ কিছু বন্ধু এখনও ওই মসজিদের ভেতরে রয়েছে। আমি আমার বেশ কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করছি কিন্তু তারা ফোন ধরছে না। আমি তাদের জীবন নিয়ে আতঙ্কিত।

ওকফোর্ড ক্লোজের বাসিন্দা রবার্ট ওয়েদারহেড নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, হামলাকারীর গায়ের রং ফর্সা। তার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর। তিনি একটি ইউনিফর্ম পরা ছিলেন। কিন্তু এটা কিসের ইউনিফর্ম তা বোঝা যায়নি। তার পায়ের কাছে আরও অনেকগুলো ম্যাগজিন বাধা ছিল।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ দল এখন অবস্থান করছে ক্রাইস্টচার্চে। তবে ভয়াবহ ওই হামলা থেকে টাইগার সদস্যদের সবাই অক্ষত রয়েছেন। আজ (শুক্রবার) পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে এ ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তামিম ইকবাল, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামদের।