ঢাবিতে অনড় অনশন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ | ৬ চৈত্র ১৪২৫

পুনঃনির্বাচন দাবির তৃতীয় দিন

ঢাবিতে অনড় অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:০৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৯

print
ঢাবিতে অনড় অনশন

কারচুপি-অনিয়মের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি চলছে। বৃহস্পতিবার এ অনশন তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো বিকার নেই। উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান শিক্ষার্থীদের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে। এখানে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষার্থীরাও অবশ্য সাফ বলে দিয়েছেন, তাদের শরীরে যতক্ষণ শক্তি আছে ততক্ষণ অনশন চলবে। শুধু ডাকসু নির্বাচন বাতিল বা পুনঃনির্বাচন নয়, উপাচার্য, প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সবার পদত্যাগও দাবি করেছেন তারা।

একইভাবে হল সংসদে নতুন করে নির্বাচন, প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বুধবার রাত থেকে হলের প্রধান ফটকে অনশন শুরু করেন রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রী। হল সংসদ নির্বাচনের ওই ৫ প্রার্থীর দাবি প্রাধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। ওই রাতেই ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অনশনরত শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

যদিও রাব্বানী এ অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, ‘হলের গেট খোলা রেখে ছাত্রীদের অবস্থানের কথা শুনে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে আমি আসি। এসে দেখি, কয়েকজন মদ-গাঁজা খেয়ে এখানে আন্দোলন করছে। এই ১০-১৫ জনের কারণে অন্যদের ক্ষতি হলে সে দায় নেবে কে?’

গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা জানিয়েছেন, হলে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার এখতিয়ার প্রাধ্যক্ষের নেই। ছাত্রীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কেউ তো এ দাবি নিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করেননি।

তিনি জানান, অনশনরত ছাত্রীদের তিনি ডেকেছিলেন, কিন্তু তারা দেখা করেনি। রোকেয়া হলের সামনে অনশন করছেন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফিয়া সুলতানা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা। গতকাল দুপুরে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।

এ সময় তিনি বলেছেন, রোকেয়া হলের নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে। সে হিসেবে প্রাধ্যক্ষ পদে থাকার নৈতিক অধিকার অধ্যাপক জিনাত হুদার নেই। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও যদি অনশন করে তার গুরুত্ব রয়েছে। রোকেয়া হলের ছাত্রীরা পুনঃনির্বাচনের যে দাবি করেছে তা অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। ভিপি নুর ছাড়াও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে রোকেয়া হলের অনশনরত ছাত্রীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে। একইভাবে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও সংহতি প্রকাশ করেছেন, ডাকসু নির্বাচন বর্জনকারী প্যানেল ও ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গত বুধবার অনশনরত অবস্থায় সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অনিন্দ্য মণ্ডল। হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। অনশনরত অন্যরা হলেন, ভূতত্ত্ব বিভাগের আল মাহমুদ ত্বাহা, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শোয়েব মাহমুদ, পপুলেশন সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের মাঈন উদ্দীন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তাওহীদ তানজিম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাফিয়া তামান্না।

এদের মধ্যে তাওহীদ স্বতন্ত্র জোটের প্যানেল থেকে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক পদে এবং অনিন্দ্য, শোয়েব ও মাঈন উদ্দিন হল সংসদের বিভিন্ন পদে প্রার্থী ছিলেন। অনিন্দ্য অসুস্থ হওয়ার পরপরই এ অনশনে যোগ দেন আরো দুজন শিক্ষার্থী। তারা হলেন বাম জোটের আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মীর আরাফাত মানব এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল ইসলাম।

দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অনড় শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচির তিন দিনেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি বলে জানিয়েছেন অনশনরতরা। অনশনরত রাফিয়া তামান্না বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি হাসপাতালে অনিন্দ্যকে কেউ দেখতেও যায়নি।
গত মঙ্গলবার অনশনে বসেই চার শিক্ষার্থীর পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী শোয়েব মাহমুদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশের দরকার, আমি লাশ হতে চাই। সেই লাশ আন্দোলন বহন করে নিয়ে যাব একটি সুন্দর আগামীর দিকে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১১ তারিখের ডাকসু নির্বাচন পুরোপুরিভাবেই একটি জালিয়াতির ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন। এই ধরনের একটি জালিয়াতির নির্বাচন আমাদের সম্মানিত শিক্ষকরা আমাদের উপহার দেবেন সেটি আমাদের কল্পনাতীত। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলঙ্কিত হয়েছে, আমি শিক্ষার্থী হিসেবে লজ্জিত। আমি তাই নিজে ডিসিশন নিয়েছি এই ভোট চুরির নির্বাচনকে বাতিল করে পুনরায় তফসিল ঘোষণা না করলে আমি আমরণ অনশন করে যাব।’

ডাকসুর পুনঃনির্বাচন দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান এবং সে দাবি নাকচ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও অনড় অবস্থান নির্বাচনোত্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তুলছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলো। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সাবেক ডাকসু নেতারাও মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে অগ্রাহ্য করা হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভুল সিদ্ধান্ত। ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে হলে সিলমারা ব্যালটভর্তি বাক্স ও ট্রাঙ্ক উদ্ধার, ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে হলে হলে ভোটগ্রহণ ইত্যাদি কারণে এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দেশের গণতন্ত্রের সূতিকাগার ও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ নির্বাচনকে কলঙ্কজনক অধ্যায় বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

ছাত্রলীগ ছাড়া প্রায় সব প্যানেলই ডাকসু নির্বাচন বর্জন করেছে। এরই মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের প্যানেল সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও বামপন্থীদের প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যসহ পাঁচটি প্যানেল ৩১ মার্চের মধ্যে নতুন করে ডাকসু নির্বাচন এবং সে লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবারের (১৬ মার্চ) মধ্যে পুনঃতফসিল ঘোষণার আল্টিমেটাম দিয়েছে। তারা বলেছে, বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেবে।

এখতিয়ার নেই পুনঃনির্বাচনের
নিজস্ব প্রতিবেদক


হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দেওয়ার এখতিয়ার নিজের নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। তিনি বলেছেন, ‘এ সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি না।’

রোকেয়া হল সংসদে নতুন করে নির্বাচন, প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ১২ মার্চ থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছে হলের শিক্ষার্থীরা। পরে বুধবার রাত ৯টা থেকে হলের সামনে অবস্থান নিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থী অনশন শুরু করেন। তারা জানিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। ইতোমধ্যে অনশনরত ছাত্রীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন ডাকসু নির্বাচন বর্জনকারী বিভিন্ন প্যানেল ও ছাত্র সংগঠনগুলো।

কিন্তু এসবকে গায়ে মাখছেন না জিনাত হুদা। অনশনের তিন দিনেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় না বসা এবং নিজের দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি। এ প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন তিনি।

সাংবাদিকরা শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার এখতিয়ার হল প্রাধ্যক্ষের নেই। এই সিদ্ধান্ত তাই আমি নিতে পারি না।
হলের ছাত্রীদের নামে নিজে কোনো মামলা করেননি দাবি করেন তিনি। মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারে তিনি কোনো সহযোগিতা করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে তো ছাত্রীদের আসতে হবে।’

অনশনরত ছাত্রীদের সঙ্গে এখনো দেখা করেননি কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি ওদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। ওদের কথা বলার জন্য ডেকেছিও। কিন্তু ওরা কথা বলতে আসেনি।’ তিনি নিজে কেন অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করেননি তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ওদের এসে আমার সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমি তো হলের বাইরে যেতে পারি না। ওরা তো হলের বাইরে আছে।’

তবে অনশনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রক্টরিয়াল টিম রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘আমি নিজেও আবাসিক শিক্ষকদের পাঠিয়েছি, যেন ওদের নিরাপত্তায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। আমি নিজেই তো তিন রাত ঘুমাতে পারিনি ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে।’ ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর অনশনরত শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করার খবর জানেন না বলেও দাবি করেন প্রাধ্যক্ষ।

এ সময় সাংবাদিকরা তার পদত্যাগের দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জিনাত হুদা প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘ওদের সঙ্গে আমি ফোনে কথা বলেছি। তাদের বলেছি, তোমাদের হয়তো কিছু ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। আমাদের হাউজ টিউটররা কাল সারাদিনই প্রায় হলের ছাত্রীদের কাছে বলেছে, যদি তোমাদের কাছে কোনো গুজব ছড়ানো হয় বা কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয় যে মেয়েদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়েছে বা কাউকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেটি ভুল। রাতেও আমি সেটি বলেছি।’

অধ্যাপক জিনাত হুদা

 

জিনাত হুদার পদত্যাগ চেয়েছেন ভিপি নুরও
নিজস্ব প্রতিবেদক
হল সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের দায় নিয়ে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, রোকেয়া হলের নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে। সে হিসেবে প্রাধ্যক্ষ পদে থাকার নৈতিক অধিকার অধ্যাপক জিনাত হুদার নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ্যের পদত্যাগের দাবিতে হলের সামনে অনশনরত ছাত্রীদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নুর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও যদি অনশন করে তার গুরুত্ব রয়েছে। রোকেয়া হলের ছাত্রীরা পুনঃনির্বাচনের যে দাবি করেছে তা অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ করছে আমি নৈতিকভাবে তার প্রতি সমর্থন দিয়েছি, এখনো দিচ্ছি।

রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার পদত্যাগ দাবি করে নুর বলেন, তিনি আমাকে এবং ছাত্রীদের দেখে নেওয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, তাতে করে তিনি আর ওই পদে থাকতে পারেন না। তার অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত। আমি আমার বোনদের সঙ্গে একমত হয়ে ভিসি মহোদয়কে বলেছি যে, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ম্যামের বিরুদ্ধে যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, তাই উনাকে পদত্যাগ করতে হবে। যেমনিভাবে কুয়েত-মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আসার পর তাকে সরে যেতে হয়েছিল।

এর আগে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যান্য প্রার্থী ও নেতাদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সাংবাকিদের সঙ্গে কথা বলেন। ডাকসু নির্বাচন, তার ফলাফল, ভিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। নির্বাচিত ভিপি হিসেবে নির্বাচনে ‘অনিয়ম ও কারচুপির’ বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রশ্নে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নুর বলেন, আমার একটি সংগঠন রয়েছে। তারা আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছে, শ্রম দিয়েছে, সময় দিয়েছে। নির্বাচনে এত কারচুপির মধ্যেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার পক্ষে কাজ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, তাদের মোটিভ কী, তারা কী চাচ্ছে সেটা বোঝার চেষ্টা করছি। তারা যদি চায় যে, আমি ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তাদের জন্য লড়াই সংগ্রাম করি, তাহলে আমি সেটা করব। তারা যদি না চায় তাহলে আমি দয়িত্ব গ্রহণ করব না।

গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন প্যানেল ছাড়া অন্য সব প্যানেল। ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভিপি নুরুল হক নুরও।

অধিকাংশ প্যানেল নতুন নির্বাচনের দাবি জানালেও সে দাবি নাকচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, নিয়ম মেনেই নির্বাচিতদের দায়িত্বগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে।

এদিকে নতুন করে ভোটের দাবিতে মঙ্গলবার রাত থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ডাকসু হল সংসদের কয়েকজন প্রার্থীও আছেন। একই সঙ্গে বুধবার রাত থেকে রোকেয়া হলেও পুনঃনির্বাচন ও হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে হলের ফটকে অনশনে বসেছেন পাঁচ শিক্ষার্থী।
তারা হলেন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফিয়া সুলতানা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা।

নুরুল হক নুর