৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে কবি আল মাহমুদ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ | ৫ বৈশাখ ১৪২৬

৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে কবি আল মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

print
৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে কবি আল মাহমুদ

‘সোনালী কাবিন’-এর কবি আল মাহমুদ গুরুতর অসুস্থ। তাকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে ধানমন্ডি শঙ্করের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শনিবার আইসিইউতে নেয়া হয়।

আল মাহমুদের পারিবারিক বন্ধু কবি আবিদ আজম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আল মাহমুদ নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। হাসপাতালে ভর্তির পর কবিকে প্রথমে সিসিইউতে ও পরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে আছেন।

ইবনে সিনার আইসিইউ’র ইনচার্জ জানান, কবি আল মাহমুদের বয়স বিবেচনায় নিতে হবে। কবির অবস্থা স্থিতিশীল। এজন্য আমরাও বেশ আশাবাদী। সব চেষ্টা করা হচ্ছে, বাদবাকি আল্লাহর ইচ্ছা। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেই তাকে এইচডিইউতে নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘নিউমোনিয়া ছাড়াও কবির হার্টে সমস্যা, বার্ধক্যজনিত রোগ ছাড়াও একাধিক প্রত্যঙ্গ কাজ করছে না। এজন্য তাকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এখনই নির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল গ্রামের মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিতাস নদীর পাড়েই বেড়ে ওঠা। লেখালেখি শুরু সপ্তম শ্রেণি থেকে। এরপর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেন।

১৯৭৪ সালে গণকণ্ঠের সম্পাদক থাকাকালে কারাবরণ করেন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক পদ থেকে অবসর নেন তিনি।

কবি আল মাহমুদের রচনার মধ্যে রয়েছে, কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, একচক্ষু হরিণ, দোয়েল ও দয়িতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন, নদীর ভিতরে নদী, না কোনো শূন্যতা মানি না, বিরামপুরের যাত্রী, বারুদগন্ধি মানুষের দেশ, সেলাই করা মুখ, তোমার রক্তে তোমার গন্ধ ইত্যাদি।

কবির সাড়া জাগানো উপন্যাস কাবিলের বোন, পানকৌড়ির রক্ত, উপমহাদেশ, ডাহুকি, যেভাবে বেড়ে উঠি, আগুনের মেয়ে, যমুনাবতী, চেহারার চতুরঙ্গ, যে পারো ভুলিয়ে দাও, ধীরে খাও অজগরী ইত্যাদি। সাহিত্যকর্মের জন্য আল মাহমুদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।