একাদশ সংসদে উত্থাপিত প্রথম বিল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

একাদশ সংসদে উত্থাপিত প্রথম বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

print
একাদশ সংসদে উত্থাপিত প্রথম বিল

একাদশ সংসদে উত্থাপিত প্রথম বিল হিসেবে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ সংশোধন আইন, ২০১৯’ সংসদে তুলে ধরা হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পরিবেশন, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাবুদ্দিন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন।

বিলটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৫ দিনের মধ্যে সংসদে রিপোর্ট দেয়ার জন্য পরিবেশ বন ও জলাবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

সংশোধনী আইনে ইট ও ইটভাটার সংজ্ঞা সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২(ঙ) ইট এর সংজ্ঞায় প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে- ‘ইট অর্থ বালি, মাটি বা অন্য কোনো উপকরণ দ্বারা ইটভাটায় পোড়াইয়া প্রস্তুতকৃত কোনো সামগ্রী’। ২(ছ) এ ইটভাটার সংজ্ঞা প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, ‘ইটভাটা অর্থ উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং বায়ুদূষণকে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ অনুসারে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রাখিতে সক্ষম এমন কোনো স্থান বা অবকাঠামো যেখানে ইট প্রস্তুত করা হয়।’

ধারা-৪ এ সংশোধন এনে প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসকের নিকট হইতে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে, কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিতে পারিবে না: তবে শর্ত থাকে যে, ব্লক প্রস্তুত করিবার ক্ষেত্রে এ রূপ লাইসেন্স এর প্রয়োজন পড়িবে না।’

অ-৫ ধারা এর উপধারা-২ ও প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, ‘জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিবার উদ্দেশ্যে মজা পুকুর বা খাল বা বিল বা খাড়ি বা দিঘি বা নদ-নদী বা হাওর-বাওড় বা চরাঞ্চল বা পতিত জায়গা হইতে মাটি কাটিতে বা সংগ্রহ করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, ইটভাটার লাইসেন্সের জন্য আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত ইটভাটার মালিক কর্তৃক ইট প্রস্তুতের মাটির উৎস উল্লেকপূর্বক হলফনামা দাখিল করিতে হইবে। উপধরা (৩) এ পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে- ‘ইটের কাঁচামাল হিসেবে মাটির ব্যবহার হ্রাস করার উদ্দেশে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইটভাটায় উৎপাদিত ইটের একটি নির্দিষ্ট হারে ছিদ্রযুক্ত ইট ও ব্লক প্রস্ততের জন্য নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে।’

একই উপধারা ৩ ক যুক্ত করে বলা হয়েছে- ‘মাটির ব্যবহার হ্রাস করিবার উদ্দেশে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক উৎপাদন ও ব্যবহার বাধ্যতামূলক করিতে পরিবে।’

আইনের ধারা ৫ এ নতুন উপধারা (ক) যুক্ত করে বলা হয়েছে, ‘সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রস্তুাবিত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা অনুসারে ইটভাটার জায়গার পরিমাণ ও কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ইটভাটা স্থাপরে সংখ্যা নির্ধারণ করিতে পারিবে।’

আইনের বিধান লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে সংশোধিত আইনে।

বিলটি পাস হলে কৃষির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় টপ সয়েল রক্ষাসহ ইটভাটাজনিত পরিবেষ দূষণ কমবে মর্মে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে প্রণীত বিদ্যমান আইনের কিছু ধারায় কিছু বিধি-নিষেধ, শর্ত থাকায় আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। এ ছাড়া দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফসলী জমির টপ সয়েল ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে ইটের বিকল্প হিসেবে ’ব্লক’ব্যবহার উৎসাহিত করার জন্য বিদ্যমান আইনে কতিপয় ধারা সংযোজন বিয়োজন ও সংশোধন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সংশোধনী আইনটি আনা হয়েছে।