এখনো প্রস্তুত নয় বিজিএমইএ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

হাতিরঝিলে ভবন ভাঙতে সময় বাকি দুই মাস

এখনো প্রস্তুত নয় বিজিএমইএ

জাফর আহমদ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

print
এখনো প্রস্তুত নয় বিজিএমইএ

রাজধানীর বেগুনবাড়ি-হাতিরঝিল প্রকল্পের খালের ওপর নির্মিত বিজিএমইএ-র ১৬ তলা ভবন অপসারণে (ভাঙতে) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা (১১ এপ্রিল) শেষ হতে বাকি আর দুই মাস। কিন্তু এখনো এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিদের।

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে, বিজিএমইএ-এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে ‘মনগড়া’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একই স্থানে সোনারগাঁও হোটেলের মতো প্রতিষ্ঠান থাকে আর বিজিএমইএ ভবন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে আদালত আমাদের কোনো কথা শোনেনি। পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতেই আদালত রায় দিয়ে দিয়েছেন। ভবন অপসারণে উচ্চ আদালত থেকে রায় দেওয়ার পর দুইবার সময় নেয় বিজিএমইএ। ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল ‘ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না’- বিজিএমইএ-এর দেওয়া এক মুচলেকার পর ভবন ভাঙতে এক বছর সময় দেন সর্বোচ্চ আদালত। সে সময় আদালত বলেছিলেন, ‘আপনাদের আবেদন গ্রহণ করলাম। ১২ মাস ১০ দিন সময় পাচ্ছেন এটা মনে রাখবেন। এবার যেন আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন হয়।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী আগামী ১১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে এ সময়সীমা। এ হিসাবে বাকি আর দুই মাস।

রোববার বিজিএমইএ ভবন এবং সেখানে অবস্থানরত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়। তারা অধিকাংশই বিজিএমইএ ভবন থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো নোটিস পাননি বলে জানান।

]এ বিষয় বিজিএমইএ ভবন সরিয়ে নেওয়া সম্পর্কিত আদালতের রায় নিয়ে ‘পক্ষপাতিত্ব’র অভিযোগ তোলেন সংস্থাটির সভাপতি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সোনারগাঁও হোটেল যদি থাকতে পারে তাহলে বিজিএমইএ কি করল? পৃথিবীর অনেক দেশে পানির মধ্যে অনেক ভবন আছে। বিজিএমইএ-এর ভবন সরালে পরিবেশ উদ্ধার হয়ে যাবে!

তিনি বলেন, বিজিএমইএ-এর নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে। আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নতুন ভবনে আমরা চলে যাব। ভবনে যারা আছে তাদের নোটিস দেওয়া হয়নি। আদালতের রায়েই তো তারা জেনেছেন।

এ মামলায় হাইকোর্টের অ্যামিকাস কিউরি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ মনে করেন, আদালতের রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা আদালতই দেখবেন। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, বিজিএমইএ নানা অজুহাত দেখিয়েছে। যারা ক্ষমতাশালী তারা দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ভবন ভাঙার জন্য আদালত থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর বারবারই বিজিএমইএ আদালতে গেছে। সময় নিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে একবছর সময় দেওয়া হয়েছে। ১১ এপ্রিল সে সময়ও শেষ হচ্ছে।

পত্রিকার রেফারেন্স দিয়ে তিনি বলেন বলেন, বিজিএমইএ ভবন ভাঙা বা ভবনে যারা আছে তাদের চলে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো নোটিস দেয়নি। এর মাধ্যমে বিজিএমইএ আদালতকে কোনো সম্মান দেখাচ্ছে না। তবে আদালতের রায় মানতেই হবে। আদালতের শেষ রায় অনুযায়ী এক বছর সময় অতিক্রম হলে রাজউক বিজিএমইএ ভবন ভাঙবে।

বিজিএমইএ ভবনের যে সব প্রতিষ্ঠান ফ্লোর কিনেছে তাদের অন্যতম হলো এক্সিম ব্যাংক। সেখানে তাদের কারওয়ান বাজার শাখা অবস্থিত। দুই বছর ধরে ভবন ভাঙার কথা শোনা গেলেও কয়েক দফায় সময় পায় বিজিএমইএ। এ জন্য তারাও শাখা স্থানান্তরেও ততটা গুরুত্ব দেয়নি। ব্যাংকটির শাখা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা খোলা কাগজকে বলেন, বিজিএমইএ টাকা ফেরত বা অন্য কোনো অ্যাডজাস্টমেন্ট করলে আমরা কারওয়ান বাজারের অন্য কোথাও শাখা স্থানান্তর করবো। ব্যাংকটি এখনো নতুন শাখার জন্য বাড়ি দেখেনি।

বিজিএমই ভবনে অবস্থিত অন্য একটি প্রতিষ্ঠান দুলাল ব্রাদার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে অন্যত্র অফিস স্থানান্তর করছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ জব্বারের ভাই এমএ ফিরোজ খোলা কাগজকে বলেন, আমাদের নতুন অফিস ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শীঘ্রই সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাব।

বিজিএমইএ-এ নির্মাণাধীন নতুন ভবনে গেলে সেখানে স্থান পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মিস্টার ফিরোজ। ভবন ভাঙা, অফিস স্থানান্তর এবং নতুন করে আবেদন করার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় আছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, সামনে এখনো দুই মাস সময় আছে। বিজিএমইএ-এর কার্যক্রম উত্তরায় স্থানান্তর করা হবে, নাকি নতুন করে আবার সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে- এ ব্যাপারে এখনো চিন্তাভাবনা করা হয়নি। তিনি বলেন, উত্তরায় বিজিএমইএ-এর নতুন ভবন নির্মাণ ইতোমধ্যে পাঁচতলা পর্যন্ত হয়ে গেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ নাও হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।