আসছে রেলের ১৫টি নতুন কোচ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

আসছে রেলের ১৫টি নতুন কোচ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯

print
আসছে রেলের ১৫টি নতুন কোচ

এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রথম দফায় আসছে মিটার গেজের ১৫টি কোচ। আগামী সপ্তাহ থেকেই আসা শুরু করছে রেলের নতুন কেনা ৫০ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ। প্রথম চালানে ১৫টি, ২য় চালানে ১৮টি, ৩য় চালানে ১৭টি ব্রডগেজ কোচ চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যে রেলে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে চুক্তিপত্র অনুযায়ী ২০০টি মিটারগেজ কোচও আসা শুরু করবে জুন-১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এসব কোচের চালান আসলে রেলের কোচ সংকট কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন একাধিক ট্রেন সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। ইতোমধ্যে প্রথম চালানের ব্রডগেজ কোচের জিআইবিআর পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে প্রধান যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগ (উন্নয়ন)।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জন্য মিটারগেজ ও ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের অধীনে ইন্দোনেশিয়ান রাষ্ট্রায়ত্ত্ব রেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান পিটিইনকা থেকে এসব কোচ ক্রয় করা হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বিদেশী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ১৫টি কোচ সরবরাহ করবে।

বুধবার এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিআরবিতে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদসহ বিভিন্ন দফতরের প্রধান ও এডিশনার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভাও করেছেন। এতে কোচগুলো সরবরাহের পর কিভাবে আরও কাজ করা যায় সে বিষয়ে দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও রেলের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (উন্নয়ন) হারুন-অর-রশীদ বলেন, বর্তমানে রেলের বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতিশীল বেড়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কোচ ও ইঞ্জিন সংকটও কমে আসছে। নতুন নতুন কোচ ও ইঞ্জিন ক্রয় করা হলে ট্রেন চলাচলে আরও নতুনত্বও আসবে। তাছাড়া চলতি মাসের শেষের দিকে প্রকল্পের অধীনে নতুন কোচ বাংলাদেশে আসছে। এরপর ধারাবাহিক ভাবে ক্রয় করা কোচগুলো প্রতি মাসেই বিভিন্ন লটে বাংলাদেশে আসবে।

আগামী বছরের মে মাসের মধ্যেই সবগুলো কোচ রেলের বহরে যুক্ত হবে। ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ২৫০ কোচ বাংলাদেশে আসলে বাংলাদেশ রেলওয়ে আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, ৫০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজের মধ্যে থাকবে প্রথম শ্রেণির এসি প্যাসেঞ্জার কোচ ৪টি, এসি চেয়ার কোচ ৮টি, শোভন চেয়ার কোচ ২৫টি, খাবার গাড়ি (গার্ডব্রেকসহ) ৮টি, পাওয়ার কার (নামাজ ঘরসহ) ৫টি। মোট ৫০টি ব্রডগেজ প্রথম চালানে পর্যায়ক্রমে আসবে।

এদিকে রেলওয়ে সূত্রমতে, কোচগুলো তৈরির কাজ শেষ হলে সর্বশেষ ২১ নভেম্বর প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উৎপাদনকারী ইন্দোনেশিয়ান কোম্পানি পিটিইনকার কারখানায় পরিদর্শন করে। ৮ দিনের ওই সফরে বিভিন্ন টাইপের কোচের নকশা ও প্রস্তুতকৃত একটি করে কোচ পরীক্ষা করে দেখে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। অর্ডার দেয়ার সময় যে ধরনের সুবিধা চাওয়া হয়েছিল সেভাবেই কোচগুলো তৈরি হচ্ছে কিনা পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন প্রদানের পরই বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য বাণিজ্যিক ভাবে কোচ তৈরির কাজ শুরু করে কোম্পানিটি।

শুরুতে সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ১৫টি এবং ২০১৯ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ব্রডগেজ কোচগুলো বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একমাস বিলম্বে এসব কোচ বাংলাদেশে সরবরাহ শুরু করতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়ান কোম্পানিটি। ২৫০ কোচ আমদানিতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) দিচ্ছে ১ হাজার কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করছে ৩৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি কোচ আমদানিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের খরচ হচ্ছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।

আমদানির বহরে থাকা ২০০ মিটারগেজ ও ৫০ ব্রডগেজ কোচের রেল সাজাতে এরই মধ্যে একটি প্রস্তাব দিয়েছে রেলের পরিবহন বিভাগ। পূর্বতন কোচগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমজি কোচগুলো আমদানি করায় পূর্বাঞ্চল রেলের বেশকিছু আন্তঃনগর ট্রেনে নতুন কোচ সংযোজনের পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। এরমধ্যে বিজয় এক্সপ্রেস, পাহাড়িকা, উদয়ন, উপকূল, সূবর্ণ, চট্টলা, যমুনা, উপবন, জয়ন্তিকা ট্রেনের রেকগুলো নতুন কোচ দিয়ে সাজানো হবে।

বর্তমানে চট্টলাসহ রেলের বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন দ্বিতীয় শ্রেণির কোচ দিয়ে চলাচল করে। চট্টগ্রাম-সিলেট ও ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেনগুলোর কোচও পুরনো। পুরনো রেল নতুন করে সাজানো হবে নতুন ক্রয় করা কোচ দিয়ে।