সরকারি থেকে বেসরকারি শহর থেকে গ্রাম

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | ৫ মাঘ ১৪২৫

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিবাণিজ্যের দৌরাত্ম্য

সরকারি থেকে বেসরকারি শহর থেকে গ্রাম

রহমান মুফিজ ১১:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

print
সরকারি থেকে বেসরকারি শহর থেকে গ্রাম

শহর থেকে গ্রাম, সরকারি থেকে বেসরকারি বিদ্যালয় সর্বত্র চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিবাণিজ্যের মচ্ছব। বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ভর্তিবাণিজ্য রমরমা রূপ নিয়েছে। ভর্তিবাণিজ্য বন্ধে আদালতের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা থাকার পরও সে সব পরোয়া করছে না অধিকাংশ বিদ্যালয়। অপেক্ষাকৃত ভালো স্কুলে নিজ সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে এ ভয়ে এসব অনিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না অভিভাবকরাও।

তবে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। গত নভেম্বর থেকেই দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিভাবকদের অধিকাংশই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ভর্তি ফি, পুনঃভর্তি ফি, সেশন ফি, টিউশন ফির পাশাপাশি অনুল্লিখিত খাতেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদায় করছে অতিরিক্ত অর্থ। শিক্ষার্থী প্রতি বাংলা ও ইংলিশ মিডিয়াম ভেদে এ অঙ্ক তিন হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন বিদেশি স্কুলের শাখায় আদায় করা হয়ে থাকে এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ। এ নিয়ে কারও অভিযোগ নেই কারণ এসব বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তানরা। কিন্তু মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানদের স্কুলগুলোতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টিকে ‘গলা কাটা’ ফি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বছর বছর এ ফি বাড়ানো হচ্ছে। ফলে বছর বছর হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মধ্যবিত্তের ‘মিনিমাম কস্টের ম্যাক্সিমাম এডুকেশন’।

দেশের অভিজাত ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে, বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমের নামে চালানো স্কুলগুলোতে লাগামহীন ভর্তিবাণিজ্য ঠেকাতে ২০১৭ সালের মে মাসে হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। যেখানে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুনরায় ভর্তি বা সেশন ফির নামে অর্থ আদায় নিষিদ্ধ করা হয়। নির্দেশনাগুলো পরিপত্র আকারে জারি করে সব ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পাঠানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশও দেওয়া হয়। এর পর থেকে সরকারি স্কুলের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি বছর ২০১৯-এ শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে নীতিমালা জারি হয়েছে বিদায়ী বছরের নভেম্বরই। গত ১৪ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তির আবেদন ফরমের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিওবহির্ভূত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন ফরমের মূল্য হবে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা।

সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে মফস্বল এলাকায় পাঁচশ টাকা, পৌর এলাকায় (উপজেলায়) এক হাজার, জেলা সদরের পৌর এলাকায় দুই হাজার, ঢাকা ব্যতীত অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলগুলো উন্নয়ন খাতে এবং এমপিওবহির্ভূত স্কুলগুলো শিক্ষকদের বেতনভাতা দানের নিমিত্তে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যম সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যম সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা আদায় করতে পারবে। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না বলে বলা হয়েছে নীতিমালায়। বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক ক্লাস থেকে আরেক ক্লাসে ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন চার্জ নেওয়ার অনুমতি থাকলেও পুনঃভর্তি ফি একেবারেই নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়। কিন্তু অন্যায্যভাবে পুনঃভর্তিসহ অযৌক্তিক সেশন ফি ও অপ্রদর্শিত খাতে প্রচুর অর্থ আদায় করা হচ্ছে অভিভাবকদের কাছ থেকে।
কথা হয় চট্টগ্রাম নাসিরাবাদ এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবকের সঙ্গে। তার এক সন্তান পড়েন ওই এলাকার ইংরেজি মাধ্যম প্রতিষ্ঠান সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। তিনি জানিয়েছেন, বছর বছর এ স্কুলে ভর্তি ফি, পুনঃভর্তি, সেশন ও টিউশন ফি বেড়ে চলেছে। যা আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের পক্ষে চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে চেষ্টা করছি ভালো স্কুলে পড়ানোর জন্য। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নিষেধ থাকার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ফি আদায় করছে। এর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখায় না।
তিনি বলেন, আমার এক সন্তান এই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বছর চতুর্থ শ্রেণিতে সন্তানকে ভর্তির সময় তারা টাকা নিয়েছে ১৬ হাজার টাকা। এবার চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে সন্তান। তাকে পুনরায় ভর্তি করাতে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত সাড়ে ১০ হাজার টাকা। তিনি স্কুলটির একটি রসিদ দেখিয়ে বলেন, এখানে সেশন ফি রাখা হয়েছে ৩০০০ টাকা। টিউশন ফি রাখা হয়েছে ৩০০০ টাকা। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া ‘অন্যান্য’ নামের একটি খাত দেখিয়ে কাটা হয়েছে ২৫০০ টাকা। আরেকটি অনুল্লিখিত খাতে কেটেছে আরও ২০০০ টাকা।
আর বাইরে মাসিক বেতন রয়েছে ৩৩০০ টাকা।  তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাসিক বেতন যদি ৩৩০০ টাকা দিই তাহলে সেশন ফি বা টিউশন ফির নামে ৬০০০ টাকা কেন কেটে নেওয়া হলো-তার কোনো উত্তর স্কুল কর্তৃপক্ষ দেয় না। তারা বলে এটা নিয়ম। তাহলে পুনঃভর্তির টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তারা বলে, এটাও নিয়ম।

কক্সবাজার পৌরসভা পরিচালিত পৌর-প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক জানিয়েছেন, তার সন্তান এ বছর সপ্তম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাকেও পুনঃভর্তি ফি দিয়ে নতুন ক্লাসে ভর্তি হতে হয়েছে। এ বাবদ টাকা কাটা হয়েছে ৩০০০ টাকা। তবে এ টাকা কোন কোন খাতে নেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা বা রসিদ দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ।
একই ঘটনার প্রমাণ মিলেছে কুষ্টিয়া, খুলনা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে। সেখানেও বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি ফি ও পুনঃভর্তি ফির নামে আদায় করা হচ্ছে বড় অংকের টাকা। কুষ্টিয়ার সরকারি একটি স্কুলের কয়েকজন অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানের পুনঃভর্তিতে আদায় করা হয়েছে ১০৫০ টাকা। টিউশন ফি, সেশন ফি ইত্যাদির নামে এসব টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকারি স্কুলে এসব ফির কোনো ন্যায্যতা আছে কি না এ ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেন এ অভিভাবকরা।
গ্রাম-মফস্বল শহরের চেয়ে ভয়াবহ ভর্তিবাণিজ্য চলছে রাজধানীতে। সরকারি নীতিমালা, আদালতের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, বাংলা ও ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল গলা কাটা ভর্তি ফি আদায় করছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে ইচ্ছেমতো। এ নিয়ে অভিভাবকদের ক্ষোভের শেষ নেই।
ধানমন্ডির জুনিয়র ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, স্ট্যামফোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাড্ডার আলাতুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধামনন্ডি ল্যাবরেটরি হাই স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব স্কুলে ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তি ও পুনঃভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও এ অঙ্ক আরও বেশি। এসব স্কুলের মধ্যে কোনো কোনো স্কুল উন্নয়ন ফি আদায় করছে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এদিকে বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিবাণিজ্য বন্ধ করতে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল শুক্রবার চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়মবহির্ভূত এবং অন্যায় কাজ। বিধিবহির্ভূতভাবে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি আদায় করে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলগুলোতে ভর্তির নামে অতিরিক্ত ফি আদায় হচ্ছে কি না তা তদারক করার জন্য মাঠে ১১টি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক সরকার আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, বাড়তি ফি আদায় করে কেউ পার পাবে না। সবাইকে বাড়তি ফি ফেরত দিতে হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, নানা কৌশলে আমাদের টিম সেখানকার তথ্য সংগ্রহ করছে। এরপর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

নজরদারির দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের : সৈয়দ আবুল মকসুদ
ভর্তিবাণিজ্য সমাজের সামগ্রিক অবস্থার বাইরে নয়। নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সেগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি শুধু নয়- জনপ্রতিনিধিরাও। অসাধু অভিভাবকরা তো আছেনই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি না থাকলে ভর্তিবাণিজ্য চলতে পারত না। নজরদারি করার দায়িত্ব তাদেরই। ভর্তিবাণিজ্যের ফলে মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না। অর্থের বিনিময়ে একজন অমেধাবী সুযোগ পাচ্ছে। যে দেশের নির্বাচনে মনোনয়নবাণিজ্য হয় সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতি না হয়েই পারে না। ভর্তিবাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস- এসব রোধ করা না গেলে জাতি মেধাহীন হয়ে পড়বে। সৎ-যোগ্য শিক্ষক ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা না গেলে ভর্তিবাণিজ্য রোধ করা সম্ভব হবে না।

সরকারকে কঠোর হতে হবে : রাশেদা কে. চৌধূরী
ভর্তিবাণিজ্য রোধে সরকারকেই কঠোর হতে হবে। এ বিষয়ে হাইকোর্টও রায় দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবায়ন করবে কে, সরকার নাকি সাধারণ জনগণ! অভিভাবকরা জিম্মি। শিক্ষকরা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে যদি এটা বন্ধ করত- জাতি মুক্তি পেত একটি অভিশাপ থেকে।
এটা বেশি হয় মাধ্যমিক স্কুলে। কারণ মাধ্যমিকের পুরোটাই বেসরকারি। সেখানে বলতে গেলে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই; নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা কোনো ধরনের রেগুলেটরি মেকানিজমের আওতায় নেই সেগুলো। স্কুল কমিটির ম্যানেজিং কমিটিগুলোই সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাদের দ্বারাই বেশির ভাগ ভর্তিবাণিজ্য সংঘটিত হয়। এজন্য স্কুল ম্যানেজিং কমিটিগুলোকে নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে আনা অনেক জরুরি।
সরকার যদি মনে করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে তাহলে তো বাণিজ্য করে শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না। তাহলে একশ্রেণির মানুষ উপকৃত হবে। বেশির ভাগ মানুষের কাছে সুফল পৌঁছাবে না। শিক্ষাটা ক্রমাগত পণ্য হয়ে যাচ্ছে। সেই জায়গায় সরকারকেই লাগাম টানতে হবে। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ জন্যই আমরা বারবারই বলছি, শিক্ষা আইন প্রয়োজন। শিক্ষার নীতিমালা প্রয়োজন। শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে গেলে একটা আইনি কাঠামো দরকার। সে জন্য শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।