আড়াই মাসে ১৩ খুন

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক

আড়াই মাসে ১৩ খুন

তানজেরুল ইসলাম, গাজীপুর ১১:৩০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

print
আড়াই মাসে ১৩ খুন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনমুখী প্রার্থীসহ কর্মী-সমর্থকরা। তবে নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুরে নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় মেট্রোপলিটন ও উপজেলার অধিবাসীরা। গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকাসহ উপজেলাগুলোতে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

জেলায় আইনশৃঙ্খলার এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, ‘গাজীপুর, নরসিংদী এবং মানিকগঞ্জ জেলার জন্য ৬৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সৃষ্টি করা হয়েছে যা প্রধানমন্ত্রী ৮ নভেম্বর উদ্বোধন করেছেন। এ ব্যাটালিয়নের সদরদপ্তর গাজীপুর জেলায়। ব্যাটালিয়নের নিজস্ব জনবল হিসেবে ১০ প্লাটুন বিজিবি গাজীপুর জেলায় আগমন করেছে।’

জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে গাজীপুর মহানগরে মেট্রোপলিটন পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়। মেট্রোর আটটি থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছে। তবে মেট্রো গঠনের দুই মাস পেরিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন (জিএমপি) এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টালমাটাল অবস্থায় মেট্রো পুলিশ। জিএমপি এলাকায় হুহু করে মাদক বিস্তার, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও তেমন সাফল্য নেই পুলিশের। মেট্রো ট্রাফিক বিভাগেও হ-য-ব-র-ল অবস্থা। মেট্রোতে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, স্টিকার ও টোকেনবাণিজ্য, ফুটপাতবাণিজ্য এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। জিএমপিতে চিহ্নিত ক্রাইম জোনগুলোতে টহল পুলিশ দেখা যেন ঈদের চাঁদ হাতে পাওয়া।

অন্যদিকে গাজীপুর সদর উপজেলাসহ অন্য উপজেলায়ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক। মেট্রো হওয়ার পর গাজীপুর মহানগরে থাকা জেলা পুলিশ উপজেলাগুলোতে দায়িত্ব পালন করছে। তবে গত দুই মাসে উপজেলাগুলোতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সাফল্যের ঝুড়ি অনেকটাই ফাঁকা জেলা পুলিশের।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জিএমপি এলাকায় নারী ও কিশোরসহ ৮ জন খুন হয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন উপজেলায় খুন হয়েছে এক নারীসহ পাঁচজন। এছাড়া সম্প্রতি জিএমপির জয়দেবপুর থানায় রিমান্ডের এক আসামী শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। টঙ্গীতে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা, পূবাইলে নিজ বাসায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, জোলারপাড় এলাকায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা ও ছোট দেওড়া এলাকায় মোতালেব খান নামে আরেক যুবককে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া রাজেন্দ্রপুর এলাকায় যুবকের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে জেলার কালিয়াকৈর উপজেলায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ী খুন, একই উপজেলায় বৃদ্ধা খুন, কাপাসিয়ায় হোটেল কর্মচারীর লাশ, কালীগঞ্জে হাত-পা ও মুখ বাঁধা যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া শ্রীপুরে শ্রমিক লীগ নেতা ওমর ফারুককে ফিল্মি কায়দায় দিন দুপুরে খুন করে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খন্ড মসজিদ মোড় থেকে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতে কালীগঞ্জের রায়েরদিয়া এলাকায় ব্যবসায়ী মতিউর রহমানের বাসায় দুর্বৃত্তরা হামলা করে। স্ত্রী ও শিশু সন্তানের গলায় ছুরি ধরে মতিউরের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয় দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই রাতে ওই বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতি হয়। বাড়ির সকলের হাত-পা বেঁধে সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগর প্রায় এক লাখ টাকা লুটে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বকর মিয়া জানান, ডাকাতির মতো খবর শুনেছি। তদন্ত চলছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর খোলা কাগজকে জানান, ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচন সামনে রেখে ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজিবি মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজনে কম্বাইন্ড অপারেশন চালানো হবে।’

অন্যদিকে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপারে জানতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমানের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময় একাধিকবার কল ও এসএমএস করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জিএমপির এসি (ডিবি) ও মিডিয়া উইং রুহুল আমীন সরকারের মোবাইলে কল করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর জানান, নির্বাচন সামনে রেখে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। জেলায় ২৪টি টিম দিন রাত অপারেশন পরিচালনা করছে। জেলায় মাদক ও জঙ্গীবিরোধী অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানিক দলগুলো দায়িত্ব পালন করছে।