৯ মাসে ৫৫ দুর্ঘটনা

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

গ্যাস লিকেজেও বাড়ছে হতাহত

৯ মাসে ৫৫ দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

print
৯ মাসে ৫৫ দুর্ঘটনা

গ্যাস বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা বেড়েই চলেছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে গ্যাস লাইন লিকেজের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৫টি।

এ ছাড়া সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে ৪৮টি। এসব দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন শিশুসহ ছয়জন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৩১ জনকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের অনেকেই মারা গেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস পাইপলাইনে ছিদ্র, অসাবধানতাবশত চুলার নব বা সুইচ বন্ধ না করার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। বাসাবাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণের বেশিরভাগ ঘটনায় ঘটছে ভোর বা সকালের দিকে। সারা রাত ধরে গ্যাস নিঃসরণ হয়ে জমা হওয়ার কারণে চুলা ধরানোর জন্য আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরো পরিবারই দগ্ধ হচ্ছে। বেশিরভাগ ভুক্তভোগীর শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় তাদের বাঁচার সম্ভাবনা অনেক কম।

সাম্প্রতিককালে গ্যাস বিস্ফোরণে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহ অনিয়মিত থাকায় দুর্ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে। রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকে না। কোথাও কোথাও শুধু ভোররাতে থাকে গ্যাসের চাপ। অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি থাকে চাপ। গ্যাস সরবরাহের এ তারতম্যের কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে বলে অভিযোগ তাদের।

বাংলাদেশের বাসাবাড়িতে প্রাকৃতিক জ্বালানি গ্যাস ব্যবহারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না। তবে নানা কারণেই ঘটছে এসব দুর্ঘটনা। ২০১৫ সালে রাজধানীর কলাবাগানে একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছিলেন একই পরিবারের সাতজন। ওই দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, ওই এলাকায় মাটি কেটে পয়োনিষ্কাশন নালার কাজ করার সময় ভূগর্ভস্থ গ্যাসলাইনে ছিদ্র হয়েছিল এবং সে ছিদ্রপথে গ্যাস নির্গত হয়ে ওই বাসাটি গ্যাসে ভরে গিয়েছিল। এ অবস্থায় বাসার বাসিন্দাদের কেউ গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে গেলে বিস্ফোরণটি ঘটে।

গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণে শুধু ব্যক্তি নয় পুরো পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সচেতনায় পারেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধ করতে।