আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে বিএনপি

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫

তোষাখানা জাদুঘর উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

print
আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে বিএনপি

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি আবার আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে। বিএনপি যেহেতু নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেহেতু তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা না করে। তাদের উচিত সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়তা করা।’

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে আগুন-সন্ত্রাস করে বিএনপি নির্বাচন বন্ধ করতে চেয়েছিল, পারেনি। এবারও পারবে না। আগামী দিনেও পারবে না। কারণ, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। জনগণ চায় একটা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হোক। যে নির্বাচনে তারা ভোট দিয়ে তাদের মনের মতো সরকার গঠন করবে।’ সরকারপ্রধান বলেন, এবারের নির্বাচনে সব দল আসার ঘোষণায় দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঠিক এ সময় নয়াপল্টনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটলো। জনগণ যখন উৎসবমুখর হয়, বিএনপির তখন খুব খারাপ লাগে। তারা সেই উৎসবে পানি ঢালে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির এক নেতা তার মিছিল নিয়ে এলো। তারপর পুলিশের সঙ্গে মারধর। অনেক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহত করল, সরকারি তিনটা তিনটি গাড়িও পোড়ালো। ২০১৪-২০১৫ সালের আদলে গত বুধবার অগ্নিসন্ত্রাস করে আবার প্রমাণ করল মানুষকে আগুন দিয়ে পোড়ানো ছাড়া বিএনপি কোনো কাজ করতে পারে না।
দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন-সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরুল্লাহ, ওবায়দুল কাদের, ড. আব্দুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, রাশিদুল আলম প্রমুখ।

তোষাখানা জাদুঘর উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
রাষ্ট্রীয় তোষাখানা জাদুঘর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরসংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত এ জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়। ৫০ হাজার স্কয়ার ফিট এলাকায় ৫ তলাবিশিষ্ট রাষ্ট্রীয় তোষাখানা জাদুঘরটির নির্মাণব্যয় ৮০ কোটি টাকা। এটি নির্মিত হয়েছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এ তোষাখানায় সংরক্ষণ করা হবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং সরকারের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া রাষ্ট্রীয় উপহারসামগ্রী, গুরুত্বপূর্ণ দেশি ও বিদেশি সম্মাননাও। রাষ্ট্রীয় মর্যাদার উপহারগুলো সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উপহার রাষ্ট্রের সম্পত্তি এবং এগুলো দেশের সম্মান ও মর্যাদা বহন করে। সুতরাং এগুলো খুব ভালোভাবে সংরক্ষণ করা উচিত।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে বিভিন্ন উপহার ও দুর্লভ ছবি নষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রীয় উপহারগুলো সংরক্ষণে তোষাখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে তোষাখানা আইন প্রণীত হয় এবং তার নির্দেশনায় বঙ্গভবনে এটি নির্মিত হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় তোষাখানার জন্য আলাদা ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তার নির্দেশনায় বিজয় সরণিতে তোষাখানা জাদুঘরটি নির্মিত হয়। সব শ্রেণির মানুষের দেখার সুযোগ থাকবে রাষ্ট্রীয় উপহারগুলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং রাষ্ট্রের সম্মান ধরে রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার জন্য। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু আমাদের স্বাধীনতাই দিয়ে যাননি, সম্মানও দিয়ে গেছেন। সে সম্মান ধরে রাখতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানাসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, কূটনীতি কোরের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।