প্রবল হচ্ছে মি-টু ঝড়

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫

প্রবল হচ্ছে মি-টু ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

print
প্রবল হচ্ছে মি-টু ঝড়

হলিউড ও বলিউডের পথ ধরে যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন হ্যাশট্যাগ মি-টু (আমিও) ঝড় প্রবল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে। মডেল প্রিয়তির মাধ্যমে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ছে শিল্পপতি, প্রকাশক, সাংবাদিক, আবৃত্তিশিল্পী, উপস্থাপকের বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ মি-টু অভিযোগের তীর উঠেছে প্রয়াত নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের নামে। ৩১ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে এনেছেন মুশফিকা লাইজু নামে এক নারী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যকলা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি নিজেকে দাবি করেছেন। সে সময়ে সেলিম আল দীন ওই বিভাগের বিভাগীয়প্রধান। ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ মি-টুতে মুশফিকা অভিযোগ করেন, ‘তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নাট্যগুরু, আচার্য।

এখনো প্রতিবছর তার ছবিতে মালা ঝুলিয়ে তাকে মহান আখ্যা দেওয়া হয়। যেন বিষয়টা এমন মানুষ কোনোরকমে তার জীবিত অবস্থায় কৃত পাপ-অনাচার ঢেকেঢুকে মরে গেলেই মহান হয়ে যায়। দিন কতক ধরে আমি যখন ভাবছিলাম, আমিও আমার প্রতি হওয়া ৩১ বছর আগে যৌন হয়রানির কথা লিখবো অনেকেই আমাকে পরামর্শ দিয়েছে, না লিখতে কারণ তিনি মারা গিয়েছেন, তাকে যেন ক্ষমা করে দেই, এখন আর লিখে কি হবে।

আমি থামলাম এবং ভাবলাম ও সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম একজন নিযার্তনকারীকে মৃত্যু এসে মহান করে দিতে পারে না। আর আজ যদি আমি না লিখি তবে আগামী পৃথিবী আজীবন তাকে মহান বানিয়ে রাখবে কি জানি আমার কন্যাও হয়তো তাকে একদিন শ্রদ্ধাভরে মালা দিতে যাবে মহান আচার্য হিসেবে! তো এমন একজন শিক্ষকের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন আমার চিন্তারও তীত।’

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে মুশফিকা তার ওপর ঘটে যাওয়া দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সেলিম আল দীনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ আনেন। নাট্যাচার্যের কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার পাঠ তা সাঙ্গ হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রভাবশালী শিক্ষক হওয়ায় ও বন্ধুরা মানা করায় তিনি সে সময় কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানান। তিনি লেখেন, ‘আমার মনে হয় আমি আজও হয়তো আজকের এই দিনটির জন্য বেঁচে ছিলাম যখন হ্যাশট্যাগ মি-টু মুভমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে পেরেছি আমার প্রতি হওয়া সেই অন্যায়ের কথা।’

এদিকে সেলিম আল দীনের বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সেলিম আল দীনের ছাত্র ও ভক্তরা। তার ছাত্র ও কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমরা বলছি না সেলিম আল দীন শাস্ত্রপোক্ত দেবদূত ছিলেন। তিনি মানুষ ছিলেন। মানুষ হিসেবে তার ভুলভ্রান্তি থাকলেও থাকতে পারে। আমরা জানি না মুশফিকা লাইজুর সঙ্গে তিনি ঘটনাটি আদৌ ঘটিয়েছিলেন কি না। এই ঘটনার কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই।’

এদিকে গত কয়েক দিনে একের পর এক শিল্পপতি, প্রকাশক, সাংবাদিক, আবৃত্তিশিল্পী, উপস্থাপকের বিরুদ্ধে মি-টুতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে টিভি অনুষ্ঠান সিসিমপুরের মিউজিক ডিরেক্টর এজাজ ফারাহর নামে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী শেউতি শাহগুফতা একজন ভয়েস আর্টিস্ট। সাংবাদিক রেজাউল করিম লোটাসের বিরুদ্ধে মি-টুতে অভিযোগ করেছেন নারী সাংবাদিক আলফা আরজু।

আবৃত্তিকার মাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মি টুর অভিযোগ এনেছেন জাকিয়া সুলতানা মুক্তা। তিনি তখন আবৃত্তি সংগঠন সংবৃতার কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া পাঠক সমাবেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল ইসলাম বিজুর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন ট্রান্সজেন্ডার শিল্পী তাসনুভা আনান শিশির। সাংবাদিক প্রণব সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তার সাবেক প্রেমিকার মেয়ে সিমন্তি।

বাংলাদেশে সবার আগে মি-টু আন্দোলনে অভিযোগ ওঠে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের নামে। ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসী মডেল ও সেখানকার সাবেক মিজ আয়ারল্যান্ডের খেতাবজয়ী প্রিয়তি।