নির্বাচনী হাওয়ায় দেশ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নির্বাচনী হাওয়ায় দেশ

রহমান মুফিজ ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

print
নির্বাচনী হাওয়ায় দেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশে লেগেছে ভোটের হাওয়া। প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না তা নিয়ে সংশয় থাকলেও ভোটের হাওয়ায় ভাসছে দেশ। কারণ ভোট মানেই এখানে আলাদা উৎসব। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এ দেশের মানুষ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবে মেতে ওঠেন। নির্বাচন কমিশন আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন ধার্য করেছে। এত দিন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি চলছিল। আর এবার রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ভোটারদেরও প্রস্তুতির পালা শুরু হলো।

২৩ ডিসেম্বরকে ঘিরে জল্পনা-কল্পনাও চলছে সর্বত্র। নির্বাচন ঠিক সময়ে হবে কি না, হলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ অন্য বিরোধী দল এ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে কি না-এমন নানা প্রশ্নও উঁকি মারছে ভোটারদের মনে। এরপরও উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই কোথাও। কারণ জাতীয় নির্বাচন বলে কথা!

রাজধানীসহ সারা দেশে রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা আসন্ন নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতিই নিচ্ছেন। প্রত্যেকেই একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন। দশম জাতীয় নির্বাচনের মতো বিতর্কিত ও এক তরফা নির্বাচন কেউ চাইছেন না। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহের শেষ নেই। এবারই তারা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। গত জাতীয় নির্বাচনে যারা প্রথম ভোটার হয়েছিলেন তাদেরও অনেকে ভোটদানের অভিজ্ঞতা বঞ্চিত হয়েছিলেন। তারাও আশা করছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে এবার তারা ভোট দিতে পারবেন। যদিও নির্বাচনকে ঘিরে কয়েক দফা সংলাপ করেও কোনো মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি ক্ষমতাসীন ও বিরোধীপক্ষ।

ক্ষমতাসীনরা সংসদ বহাল নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনঢ় আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। তারা দাবি জানিয়েছিল সংলাপে সমঝোতায় না পৌঁছা অবধি তফসিল ঘোষণা না করার। কিন্তু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, তফসিল ঘোষণা পেছানোর কোনো উপায় ছিল না। তিনি আসন্ন নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মতানৈক্যের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ভোটারাও তাই চাইছেন। রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে এবারের নতুন ভোটার হওয়া সায়েম রহমান বলেন, নতুন ভোটার হয়েছি। এবারই প্রথম ভোট দেব। খুব খুশি লাগছে। আমি চাইব প্রত্যেক দল যেন নির্বাচনে অংশ নেয়। তাতে নির্বাচনের উৎসবটা সুন্দর হবে।

হাফিজুর রহমান নামের মধ্য বাড্ডা এলাকার ভোটার খোলা কাগজকে বলেন, গতবারই আমি ভোটার হয়েছি। কিন্তু একতররফা নির্বাচন হওয়ায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়া হয়নি। ভোট দিলেও যা না দিলেও তা-ই হবে জাননার পর কি কেউ ভোটকেন্দ্রে যায়? তিনি বলেন, তবে এবার মনে হয়, সবাই ভোটে আসবে। আশা করছি এবার ভোটকেন্দ্রে যাব এবং ভোট দেব।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল ও মহাজোট নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গতকাল শুক্রবার থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। সকাল ১০টা থেকে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নতুন নির্বাচনী অফিসে মনোনয়ন বিক্রি শুরু হয়। জানা গেছে আট বিভাগের আটটি বুথে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমাদান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ এবার মনোনয়ন ফরমের দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করেছে। সকাল থেকেই বুথগুলোতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভিড় লেগে ছিল। রাত পর্যন্ত ছিল উৎসবের আমেজ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ এখন ইলেকশন মুডে। মনোনয়নপত্র বিক্রির মধ্য দিয়ে নির্বাচন যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বিএনপি তফসিলকে ‘একতরফা নির্বাচনের তফসিল’ আখ্যা দিলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। কারণ দলটির তৃণমূূলের কর্মীরাও চাইছেন বিএনপি এবার নির্বাচনে যাক। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও বেশিরভাগ চাইছেন নির্বাচনে অংশ নিতে। গত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা বিএনপির ভুল ছিল বলেই মনে করেন দলের অনেক নেতাকর্মী। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কা থাকলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও এক ধরনের উৎসাহ বিরাজ করছে।

গতকাল রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে বাংলাদেশের মুক্তি জন্য লড়াই করছি। সে জন্য আমরা সংলাপে বসেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু তারা তা করেনি।’ একই সমাবেশে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, আমাদের উসকানি দেবেন না। ৭ দফা না মানলে দেশে নির্বাচন হবে না।’

প্রসঙ্গত, ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত, তা বাছাই হবে ২২ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর। ৩০০ আসনে এবার ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার।