ঢাকা, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৯ মাঘ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

মাষকলাই চাষে সাফল্য

শরীফুল ইসলাম, (দৌলতপুর, কুষ্টিয়া)
🕐 ৬:০৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২১

মাষকলাই চাষে সাফল্য

পদ্মার চরে মাষকলাই চাষ করে এ বছরও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কুষ্টিয়ার চাষিরা। ফলন ভালো হওয়ায় কাটা মাড়াই শেষে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কম খরচ ও অল্প পরিশ্রমে ডাল জাতীয় এ অর্থকরী ফসল চাষ করে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরেছে দরিদ্র চরবাসীর।

কুষ্টিয়ায় চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ২৫৬ হেক্টর জমিতে মাষকলাই চাষ হয়েছে। এরমধ্যে পদ্মা নদী বিধৌত দৌলতপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে চাষ হয়েছে ২ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে মাত্র দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আর ফলন হচ্ছে ২-৩ মণ হারে। বিনা পরিশ্রমে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে খরচ বাদ দিয়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রয় করে চাষিদের লাভ হচ্ছে বিঘা প্রতি ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। যা স্বল্পকালীন অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি।

দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সীগঞ্জ গ্রামের মাষকলাই চাষি আব্দুল জাব্বার জানান, এ বছর সে পদ্মারচরে ৫ বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষ করেছিল। খরচ হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার টাকার মতো। ৫ বিঘা জমিতে ১৫ মণ কালাই পেয়েছে। ৩ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রয় করলেও তার ৪৫ হাজার টাকা আয় হবে। যা অল্প সময়ে বিনা পরিশ্রমে এবং কম খরচে অন্যান্য ফসল থেকে আয় হওয়া সম্ভব না।

এদিকে চাষিদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে মাষকলাই ক্রয় করে আড়ৎ বা পাইকার ব্যবসায়ীদের কাছে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রয় করে চাষিদের পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন। তবে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি কলাই এখন বিক্রয় হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে।

অর্থকরী এ ফসল চাষ বৃদ্ধিতে চরবাসীর জন্য আরো প্রয়োজন কৃষি বিভাগের পরামর্শ, প্রণোদনা ও পৃষ্ঠপোষকতার।

তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আধুনিক ও উচ্চফলনশীল জাতের মাষকলাই বীজ সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ায় এ বছর মাষকলাই চাষে ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম।

অনাবাদী পদ্মার চরে অর্থকরী ফসল মাষকলাই চাষ বৃদ্ধি পেলে দেশের ডালের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

 
Electronic Paper