রেমিট্যান্স সার্বিক প্রক্রিয়ার ফসল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

রেমিট্যান্স সার্বিক প্রক্রিয়ার ফসল

ড. আতিউর রহমান
🕐 ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২১

রেমিট্যান্স সার্বিক প্রক্রিয়ার ফসল

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন করোনাকালীন একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে। করোনা-পরবর্তী রেমিট্যান্স কমলেও অস্বাভাবিকভাবে কমবে না। করোনাকালীন আসা ২৪ বিলিয়ন ডলার ও তার আগের বছর আসা ১৮ বিলিয়ন ডলারের মাঝমাঝি থাকবে। খোলা কাগজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের পরিস্থিতিটা একটু অস্বাভাবিক ছিল। সে সময় প্রবাসীরা দেশে অবস্থানরত স্বজনদের জন্য বেশি বেশি করে টাকা পাঠিয়েছে, তারা যাতে বিপদে না পড়ে। এখন যেহেতু বিপদ কমে যাচ্ছে প্রবাস থেকে টাকাও কম পাঠাচ্ছে। এখন মানুষ ইমারজেন্সি হিসাবে মনে করছে না। এ কারণে টাকাও কম পাঠাচ্ছে। যখন পুরোপুরি নর্মাল হবে তখনো টাকা পাঠানো খুব কমে আগের বছরের সমান হবে না। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এসেছে ২৪ বিলিয়ন ডলার। এ বছর রেমিট্যান্স কমলেও দুটোর মাঝামাঝি ২২ বিলিয়ন হতে পারে। সেটাও কিন্তু আমাদের জন্য কম না।

কেউ কেউ বলছেন করোনাকালীন রেমিট্যান্সের যে ম্যাজিক দেখা সম্ভব হয়েছে করোনা-পরবর্তী ২০২১-২২ অর্থবছরে সে ম্যাজিক থাকবে না। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির বিষয়টি কোনো ম্যাজিকের বিষয় নয়। এটা ছিল একটি সার্বিক প্রক্রিয়া। এটা একটি সমন্বিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগের ফসল। এর জন্য সরকারকে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিতে হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমন্বিত মনিটরিংয়ের প্রয়োজন হয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় যুক্ত থেকেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক পরিকল্পনা ও নীতি সহায়তা দিয়েছে এবং বাস্তবায়ন করছে। এর ফল রেমিট্যান্স বৃদ্ধি।

দুর্যোগকালীন অন্যান্য খাতে যেমন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে প্রবাসীদেরও দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীরা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, সঠিকভাবে দেশে টাকা পাঠাতে পারেÑএজন্য এ উদ্যোগ। প্রবাসী বা প্রবাসী উদ্যোক্তারা নিখাদ উদ্যোক্তা। তাদের টাকা গ্রামে যাচ্ছে, গরিব মানুষের কাছে যাচ্ছে, বাবা-মায়ের কাছে যাচ্ছে। আমার মনে হয় করোনাকালে প্রবাসীদের জন্য যে প্রণোদনা দেওয়া শুরু হয়েছেÑ এটা একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এটা ম্যাজিক ছিল না, এটা সরকারের সুচিন্তিত পলিসি ছিল। যারা ম্যাজিক খুঁজে তারা সব কিছুর মধ্যেই একটি শর্টটাইম খুঁজে। আমাদের দেখতে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিপ্রেক্ষিতে। এই প্রণোদনা এক বছরের জন্য দেওয়া হয়নি, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেওয়া হয়েছে। এবং আমার ধারণা এই প্রণোদনা বেশ কিছুদিন ধরে চলবে। সরকার ভেবেচিন্তেই এটা দিয়েছে।

সাবেক এই গভর্নর বলেন, চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসের রেমিট্যান্স কমেছে। দুই মাসের তথ্য দিয়ে টেন্ড সেট বোঝা যায় না। এ বছর ১ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত মেমিট্যান্স এসেছে ৩.৩৬ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর ১ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ছিল ৪.১৮ বিলিয়ন ডলার। তার মানে গত বছরের চেয়ে রেমিট্যান্স কমেছে। কিন্তু এ কমা এত বেশি কম নয়।

এটা উদ্বিঘ্ন হওয়ার কারণ কিছু নেই। কারণ যারা বাইরের দেশের কাজ করে তাদের অনেকে করোনার মধ্যে ফিরে এসে যেতে পারেনি। এখনো ফ্লাইট চালু হয়নি এজন্য অনেকে যেতে পারেনি।

যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তখন অনেকে চলে যাবে। ওই সব দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কাজ হবে, অনেক লোক লাগবে। কাজের পরিধি বাড়বে। তখন আরও বেশি করে লোক পাঠাতে হবে, আমাদের দেশের লোকও যাবে। তারা অর্থ কামাই করবে। সুতরাং আমার মনে হয় না দুই মাসের তথ্য দেখে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাতিলের ব্যাপারে অনেকে মত দিয়েছে।

আতিউর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ যেটা দিচ্ছে আমি মনে করি সেটা চালিয়ে যেতে হবে। কেউ কেউ বলছে এটা বন্ধ করা হোক। আমি বলব সংকট এখনো শেষ হয়নি, এটা চালিয়ে যাওয়া উচিত। সরকার দুই শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে এটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এ সুবিধা গ্রামের মানুষ পাচ্ছে। গ্রামের উন্নয়নে কাজে লাগছে। এটা গ্রামে গিয়ে কৃষি, অকৃষি উভয় খাতে ব্যবহার হচ্ছে। এজন্য এই প্রণোদনা চালিয়ে যাওয়া উচিত। বড়দের জন্য যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, সরকার সেটা ইচ্ছা করলে কমিয়ে আনতে পারে। ছোটদের প্রণোদনা কোনোভাবেই কমিয়ে আনা ঠিক হবে না।

করোনাকালীন রেমিট্যান্স বেশি আসার অন্যতম কারণ হলো রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে শুধু প্রণোদনাই নয়, টাকা তোলার ক্ষেত্রে সহজ করাও অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাড়াতাড়ি গ্রাহকের কাছে মোবাইল ফাইন্যান্সিং, এজেন্ট ব্যাংকিং বা অনলাইলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আরও একটি বিষয় যারা টাকা পাঠাচ্ছে তাদেরও বেশি বেশি কাগজপত্র দেখাতে হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এ সম্পর্কিত কিছু কিছু কাজ সহজ করেছে। আরও একটি জিনিস প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন রকম বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এটিও অন্যতম একটি কারণ। এসব কারণে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে।

 
Electronic Paper