আইএমএফের ঋণ পাওয়ার যুক্তি

ঢাকা, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

তেলের দাম বৃদ্ধি

আইএমএফের ঋণ পাওয়ার যুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
🕐 ২:৩০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০২২

আইএমএফের ঋণ পাওয়ার যুক্তি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৪৫০ কোটি (৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার ঋণ পেতে তাদের শর্ত পূরণ করতে সারের পর তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন কমছে, তখন দেশের ইতিহাসে এক লাফে সর্বোচ্চ দাম বাড়িয়ে দেশবাসীকে অবাক করে দিয়েছে সরকার। তারা বলছেন, আইএমএফের ঋণের প্রধান শর্তই ছিল সরকারের ভর্তুকি কমাতে হবে। সেই শর্ত মেনেই তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। তবে একসঙ্গে এতটা বাড়ানো উচিত হয়নি।

শুক্রবার রাতে দেশে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ৩৪ থেকে ৪৬ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। হুট করে এত বেশি দাম বাড়ানোর চাপ অর্থনীতি নিতে পারবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক ও গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, আইএমএফের ঋণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ঘোষণা আসতে পারে। ঋণের জন্য আইএমএফের সঙ্গে সরকারের কী চুক্তি হয়েছে, সেটা তো আমরা জানি না।

তবে সারের পর তেলের দাম বাড়ানোয় এখন আমাদের বুঝতে সমস্যা হচ্ছে না যে, ঋণ পেতেই আইএমএফের কথা মতো তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম কিছুটা বাড়ানো হবে, এই আশঙ্কা ছিল। তবে সেটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যেত। যতটা বাড়ানো হয়েছে, তা চিন্তার বাইরে।

সরকার অর্থনৈতিক দিক দিয়ে চাপে পড়ে আইএমএফ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার চেষ্টা করছে। আইএমএফের ঋণের শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সেই শর্ত পূরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকার এর আগে গত নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়েছিল। তখন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮০ টাকা লিটার। ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাসভাড়া বাড়ানো হয় প্রায় ২৭ শতাংশ, যা তেলের দাম বাড়ানোর হারের চেয়ে অনেক বেশি। একইভাবে তখন লঞ্চভাড়া বাড়ানো হয় ৩৫ শতাংশ।

এমন সময় হুট করে এত বেশি দাম বাড়ানোর চাপ অর্থনীতি নিতে পারবে বলে মনে হয় না বলে মনে করেন আহসান মনসুর।

 
Electronic Paper