কবিতাকে কোনো ছাঁচেই ফেলা যায় না

ঢাকা, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮

কবিতাকে কোনো ছাঁচেই ফেলা যায় না

নাহিদা আশরাফী ১২:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০২, ২০২১

print
কবিতাকে কোনো ছাঁচেই ফেলা যায় না

কবিতাকে ভাবনার ছাকনিতে ফেলতে চেষ্টা করলাম। নাহ ফেলা গেল না। আলোকে যেমন বন্দি করা যায় না কোনো কিছুতেই, কবিতাকেও তেমন, কোনো ছাঁচেই ফেলতে পারলাম না। জেলে মাছ ধরলেন যে পলো বা জাল দিয়ে ভেবে দেখুন সেই মাছ, পলো আর জাল; সবই তার জন্য কবিতা। ফসলের হাসি দেখে তৃপ্তির আভায় উদ্ভাসিত হয় যে কৃষকের মুখ, সেই মুখও কবিতার ধ্রুপদি অভিযাত্রী। নাগরিক নীহারিকায় হারিয়ে যে মানুষ তার নিঃসঙ্গতা আর সবুজ থেকে বিচ্ছিন্নতা বোধে অসুখী হয়ে তার নিদান সন্ধান করেন তিনিও তো মূলত কবিতার মহৌষধিই খুঁজে বেড়ান। ভীষণ অসম্ভবে যে আমার আপনার আধ্যাত্মলোকের প্রদীপ হয়ে জ্বলে তাই তো কবিতা।

‘কাগজের বুকে কী হবে কবিতা লিখে?
তার চেয়ে করো জীবন কবিতাময়,-’

আমি হয়ত কবিতায় তাই করতে চাই।
হয়ত আমিও এই ‘মানবিক পৃথিবীকে খুব ভালোবেসে’ বোকা থাকতে চাই। আর তাই লিখে যেতে চাই কিছু বোকা বোকা কবিতা।


নাম তার জপ করি নামতার মতো

১.
নাম তার জপ করি নামতার মতো
সিজদায় পড়ে থাকি বলি বারবার
প্রেমের আড়তে করি যত কারবার
মেলালে তুমিই শেষ মূলধন তত।

২.
জল জানে তার বুকে কত জলযান
এপার-ওপার করে যত মানুষেরে
স্রোতের মতন মন জোর করে বেঁধে
বাঁধের স্বভাব নিয়ে লোকালয়ে ফেরে।

৩.
তারকাঁটা দিয়ে বাঁধো যত কাঁটাতার
হৃদয় বাঁধবে বলো কোন তার দিয়ে
আলো-বাতাসের মতো সেও অবিরাম
এপার ওপার করে ভালোবাসা নিয়ে।

৪.
কূলখানি ভেঙে যার হয় কুলখানি
মাংসের মোকামে তার আত্মার ছায়া
যে জেনেছে ঘর তার জলের গভীরে
সেই জন বোঝে শুধু মাটির কী মায়া।

৫.
জানা যায় সে গিয়েছে নিজ জানাজায়
গিয়ে শোনে আপনেরা করে কানাকানি
সম্পদ লুকাতে ঘরে তালাচাবি আঁটে
আঙিনায় একা পড়ে মৃতদেহখানি।

প্রতিবাদ


প্রতিবাদ ১: দেয়ালের দাবি
প্রেস ক্লাবের সামনে
প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছে দেয়াল
‘দেয়ালের কান আছে’
‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে’- এতসব হতাশা আর হাহাকারের বাক্য বুনছ আমায় নিয়ে!

সম্পর্কে ও সীমান্তে দেয়াল ভাঙার বাগধারা কবে শিখবে হে মানবসম্প্রদায়?


প্রতিবাদ ২: ঘুমবন্ধন
শাহবাগ মোড়ে
অজস্র চোখ জড়ো হয়েছে ঘুমবন্ধনে
ব্যানারে লিখে এনেছে-
‘তোমরা তো সর্বদাই ঘুমাও। ঘুমিয়ে ঘুমাও, জেগে থেকেও ঘুমাও।

তাহলে জেগে আছি বলে মিথ্যে আস্ফালনে জীবন আর অভিধান কেন ভারী করছো হে মানবসম্প্রদায়?’

প্রতিবাদ ৩: কথা মিছিল
পল্টন মোড় হয়ে
দোয়েল চত্বর আসতেই
দেখি দোয়েল দুটি সমবেত ভাস্কর্যদের উদ্দেশ্যে করে বলছেÑ ‘মানুষেরা আমাদের মতোই। প্রতিবাদ আর প্রতিরোধে সতত বোবা। অন্যায় দেখলেই চুপচাপ সরে পড়ে।’

তবে কথা বলার অহংকার নিয়ে মানুষ হবার মিথ্যে দাবি কেন তুলে নিচ্ছ না হে মানবসম্প্রদায়?

দোষারোপ
গোলাপ কেন, ক্যাকটাসেও অত কাঁটা পাইনি যতটা মানুষের দেয়া অপবাদ আর নিন্দায় পেয়েছি।
তবু কাঁটার প্রসঙ্গ এলে, কী অবলীলায় ফুল অথবা বৃক্ষকেই দোষারোপ করো।
কোথাও কোনো দাগ পাবে না। অথচ কী নির্মম নির্মোহে সন্দেহের বিষদাঁত ছোবল দিয়ে যাবে।
এরপরেও কি দোষারোপ করে বলবে, বিষ শুধু সাপেই থাকে!