মনের কথা সাজিয়ে লেখাই কবিতা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১ | ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

মনের কথা সাজিয়ে লেখাই কবিতা

কমল কুজুর ১:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

print
মনের কথা সাজিয়ে লেখাই কবিতা

যদি বলা হয়, কবিতা কী? তাহলে বলব, আমাদের মনের কথাগুলো সাজিয়ে লেখাই কবিতা। একজন পাঠক যখন এই কবিতা পড়েন, তখন যেন তিনি অনুভব করেন কবিতার কথাগুলো একান্তই তার নিজের কথা। কবি শুধু তার কথাগুলোকে কলমের আঁচড়ে তুলে ধরেছেন। এখানেই কবির সার্থকতা, কবিতার সার্থকতা। কবির লেখায় প্রেমের কথা যেমন থাকবে, তেমনি দ্রোহের কথাও ফুটে উঠবে। সেই সঙ্গে প্রকৃতি প্রেম, দেশপ্রেম, সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথাও সমানভাবে চলে আসবে। কবিতার শক্তি অনেক। কবিতা একটি সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কবিতা তার কবিতায় সমসাময়িক জীবনের কথা, সমাজের কথা বলেন। মানুষ তার কবিতার সঙ্গে একাত্ম হয়। তার কবিতাকে ধারণ করে। এভাবেই কবি একসময় জনমানুষের মুখপাত্র হয়ে ওঠেন।

আঁধারের অশ্বারোহী


নদী পাহাড় আর সমুদ্রের কথা ভুলে
ক্রমশ ছাপিয়ে যাওয়া রক্তলাল বিষন্নতার ঘড়ি
আবেগের দ্যোতনায় নীল করে রাখে
হৃদয়ের যত অলিগলি।

বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচল ক্রমেই নিশ্চিহ্ন করতে উদ্যত হয়
যাপিত জীবনের সব রঙ
কংসের তপস্যায় সটান হানে আঘাত যেন
জন্ম জন্মান্তর বিস্মৃত তৃষিত মন।

তবু যীশুর পেরেকবিদ্ধ হাত শেষপর্যন্ত রক্তাক্ত হয়
নদী জলের তীব্রতায় আকাশে সন্ধ্যা নামে
শীতের রাতে আরও জাঁকিয়ে বসে
মর্গের হিমশীতল অনুভব।

নেয় কেড়ে সংকলিত স্বপ্নের সারি
পৃথিবীজুড়ে আসে নেমে আঁধারের হায়েনারা
ধীরে ধীরে করে ধ্বংস মানবতা শান্তি
আর তোমার আমার ভালোবাসার বাড়ি।


নিষিদ্ধ মেঠোপথ

হাজারো কুটিল চোখের বারণ সত্ত্বেও চলেছি এগিয়ে
তোমার নীল চোখে ঝাঁপ দেবার জন্য প্রস্তুত।

মহুয়া মাতাল বসন্ত এলে আমিও নেচে গেয়ে করব মাত
এমনি করে যদি ফুরিয়ে যায় দিন যাক, ফুরোক রাত।

চাঁদের কলঙ্ক এবার তোমাদের কপট পৃথিবীতেও ছড়িয়ে পড়ুক
নিকষ কালো আঁধার করুক গ্রাস সবটুকু আবাস।

তোমার চোখের কাজল হওয়ার পথে বাধা নেই আর
আমার সংবিধান আমায় দিয়েছে এই অধিকার।

সাধের নৌকো সারি সারি বাঁধা আছে ঘাটে থাক
ছোট্টবেলায় শিখেছি সাঁতার গভীর জলেও ভয় নেই আর।

কষ্টের নীল রঙ সব পুনর্ভবা নদীর জল হয়ে যাক
হোক অদৃশ্য এই ভালোবাসার শহর।


শিরোনামহীন

এই হেমন্তে ধানখেত সব ভরে আছে
সোনারঙের ধানে
বকপাখি চুপ করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে
দূর দিগন্তের দিকে থাকে তাকিয়ে
বাতাসে শুধু ফুল পাখি আর শস্যদানার গন্ধ ভাসে।

ক্রমশ রাত্রি নেমে এলেই ওঠে চাঁদ
জাগিয়ে রাখে সারা রাত মধুর ক্ষণ
তবু কুটিল স্বার্থের গাঢ় আঁধারে
মুখোশ পরা মুখগুলো বড়ই অচেনা লাগে
ফুল ফল নদী জল সব হয় উধাও এক নিমেষে।

এখন কার্তিকের সন্ধ্যায় ফুল নয়
বাতাসে শুধু মানুষের পোড়া মাংসের গন্ধ পাওয়া যায়
হাজারো সুগন্ধি ব্যবহারেও
তা ঢেকে রাখা বিষম দায়
রক্তচোষা শকুনরা বারবার ফিরে ফিরে আসে।

আচ্ছা,
মানুষের ভিতরটা পচে গেলে বুঝি এমনই হয়!