কবিতা আমার সুখ-দুঃখের আঠারোবাঁকি নদ

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১ | ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

কবিতা আমার সুখ-দুঃখের আঠারোবাঁকি নদ

শাহ বুলবুল ১:৩২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

print
কবিতা আমার সুখ-দুঃখের আঠারোবাঁকি নদ

কবিতা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন ভাষা, যা আমার মৃত ভাবনাগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছে সেই কবে থেকে। যখন চোখ বুজে দেখি বেদনার গোরখোদকরা অবনত চিত্তে সবকিছু কাতর মধ্যাহ্নের মতো সমাহিত করে তখন কবিতা আমার সর্বত্র পাহারা বসায়। আমাকে বারবার আমার মতো করে বাঁচিয়ে রাখে। আমার স্মৃতি, আমার স্বপ্ন, সাধ্যি সাধনা সব কিছুতে কবিতার ঘ্রাণ আমাকে আবার ফিরিয়ে দেয় প্রিয় গ্রাম, হারানো দিন আর সামনের দিনগুলোতে কথা বলার অনবদ্য সাহস। এই যে মারীর কাল; এই মহাদুর্দিনে কবিতা আমার কাছে ফুসফুসের অন্তঃপুরে জমানো বিশুদ্ধতম অক্সিজেন, যা একমুঠো প্রেমের মতোই কষ্টের অন্ধকারে শালিখের ডানায় লেগে থাকা সুখের স্বপ্ন দেখায়। মাঝে মাঝে মনে হয়, অপেক্ষার শেষপ্রান্তে কবিতাই হলো সারা দুনিয়ার সবচেয়ে দামি ভ্যাকসিন, যা আমার হলুদ বেদনার জমিনে মরণপ্রায় বয়সী অবয়সী স্মৃতিগুলো সবুজ রাখে।

আমাকে বাঁচিয়ে রাখে কতশত বঞ্চনার সঙ্গে লড়াই করে। পথ দেখায়। পুরনো দিনের মেঠো পথ- যে পথ নিবিড় বন পেরিয়ে আমাকে নিয়ে গেছে শৈশবের পাঠশালায়। যে পাঠশালায় নামতা পড়ার সুরেলা শব্দগুলো আজকাল আমি পৃথিবীর আরেক প্রান্তে দাঁড়িয়েও হুবহু শুনতে পাই। কবিতা একদমই ভনিতা নয়। সাহস, বিশ্বাস আর পাঁজরে লেগে থাকা নিকটতম হাতিয়ার যা জাগ্রত, সত্য এবং একমাত্র সঠিক। কবিতা আমার কাছে সাতপুরুষের প্রিয় কৃষ্ণপুর আর সুখ-দুঃখের আঠারোবাঁকি নদ।

অস্ত্রাগার
বাংলার ইতিহাস নীল পদ্য হয়
কালো অক্ষরের লাল পৃষ্ঠায়।
সেই থেকে আনাচে-কানাচে বসে অবিশ্বাসের রেস্তোরাঁ
বসে রাত্রির গিরিখাদে। ধ্বংসের সীমানায়।

মহাবিদ্রোহী পলাশীর প্রান্তর
মরণের শপথ শুনি গোলন্দাজ অভিমুখে
পড়ি বিশ্বাসের ধারাপাতে রক্তের হাতিয়ার।

মহানন্দার বয়সী বিবেকের বাজার
জানে বহমান ভাগীরথী
বারবার মৃত্যু সারি হেরে গেছে কাতারে কাতার।

সেই বিদ্রোহী উচ্চারণ আজও কোটি মানুষের
বিক্ষোভের গানে মিলে মিশে একাকার।

একাত্তরে আবারও স্লোগানে স্লোগান
রাত্রিচর মানুষের হাঁকডাক হয়ে যেত স্টেনগান।
আবার শোনা যাবে রক্তের দামে মুক্তির হুঙ্কার
ঐতিহাসিক মিছিলের রাজপথ
দেখবে কোটি চোখ। মানুষে মানুষে অস্ত্রাগার।

ফালুজা
কালের ফালুজা এখন দেহাতির ঘরে ঘরে
সুদখোরের শতটনী ক্লাস্টার
গিলে খায় অক্সিজেন ঋণের তলোয়ারে।

ফালুজা আজকাল গ্রাম আমার
ঘাসেপাতা সংসার।

ফালুজা আমার বুকের পাঁজর
অগ্নিগর্ভ ক্ষেত
ঝলসে যাওয়া কোদাল কাঁধে
প্রতিশোধের জেদ।

কয়েক টুকরো হাড়
শ্মশানের কাঠ ফুৎকারে ফুরোয়
পচে যায় কবরের চাল
হাড় থেকে রক্ত বেরোয় কৃষাণীর রুদ্ধ গাঁয়।

বঞ্চনার বুকে আণবিক নিঃশ্বাস ছুড়ে
স্লোগান গানের ধুলোয় ঝাপসা করো পাষাণের উপত্যকা
কেড়ে নেব পৃথিবীর মগজ
ব্ল্যাকহকের ঝাপটানো চক্করে।

অগ্নিগিরির মুখে থাপ্পড় চেপে- ধরো দেহাতী চোয়াল
অভিশাপ উপড়ে ফেল স্ফুলিঙ্গের ডগায়
বর্গার লাঙ্গল ধরে
বুঝে নেব নিজস্ব কোদাল।

প্রতিশোধের বোম্বিং হয় ভাত কাপড়ের দপ্তরে
কেড়েনে ভাগ্যের দুর্গ
মাংসগলা কয়েক টুকরো হাড়ে।