লেখক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

লেখক

ছন্দা দাশ ৪:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২০

print
লেখক

প্রতিদিনকার মতো খুব ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই শান্তিলাল বাইরে এসে উঠোনে দাঁড়াল। কাল রাতে ভালো ঘুম হয়নি তার। আজকাল প্রায়ই তার এমন হচ্ছে। অবশ্য ঘুমেরও দোষ কী? পেট যদি ক্ষুধার্ত থাকে সে তো জানান দেবেই।

গতরাতেও ভাত ছিল না। শুকনো দুটো রুটি দুই গ্লাস জল দিয়ে ঢকঢক করে খেয়ে তার পেট ভরে না। কী আর করার আছে। চাকরি নেই আজ একমাস পার হয়ে গেছে। এরমধ্যে কিছু জোটাতেও পারেনি। শান্তিলালের চিরদিন মুখচোরা স্বভাব। কাউকে সে অনুরোধ?ও করতে লজ্জা পায়। কামিনী তার স্ত্রী। ঠিক তার উল্টো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মুখ তার চলছেই।

তার এ দুর্ভাগ্যের জন্য শান্তিলালকে ফালা ফালা করে রোজ। শান্তিলাল কিছু বলে না। এতে কামিনীর রাগ যেন দ্বিগুণ জ¦লে ওঠে। এক একসময় শান্তিলালের ইচ্ছে করে গলায় দড়ি দিতে। ইদানীং কামিনীর অত্যাচারের মাত্রা যেন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ শান্তিলাল এখন বেকার। কামিনী যে কীভাবে সংসার চালাচ্ছে শান্তিলাল জানে না। অবশ্য দুটো ঘর ভাড়া দিয়েছে কামিনী। কিন্তু তা বিশাল সাগরের বুকে একফোঁটা বিন্দুমাত্র। সমস্ত কিছু মিলে শান্তিলালের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এসব কথা ভাবতে ভাবতে শান্তিলাল বাড়ির পেছনে এসে দেখে এ সাতসকালে মিনতি ডালা হাতে শাক তুলছে। 

শান্তিলালকে দেখে বলল, এত তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে গেল? কোথাও কাজের খবর আছে?

শান্তিলাল চুপচাপ মাথা দুলিয়ে তাড়াতাড়ি সে স্থান ত্যাগ করে বারান্দার লাগোয়া ছোট ঘরটিতে এসে বসে। প্রতিদিনকার মতো খাতা খুলে হিজিবিজি লিখতে থাকে। শান্তিলাল কী লিখেছে জানে না। এ কামিনীর কথার হুল থেকে নিজেকে রক্ষা করার একটা উপায় বের করে নিয়েছে সে। এভাবে কতদিন চলবে সে জানে না। খাতার পর খাতা ভরে উঠছে লেখায়।

একদিন লেখা বন্ধ রেখে পড়তে গিয়ে নিজেই অবাক হয়ে ভাবে সত্যিই কি এ আমি লিখেছি? কী ভেবে তার কিছু অংশ পাঠিয়ে দেয় সম্পাদকের দফতরে। পরের সপ্তাহেই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে চিঠি আসে ওই পত্রিকা তার এ উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে ছাপাতে চায়। এর জন্য তারা সম্মানীও দেবে। শান্তিলালের দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। স্ত্রীর বাক্যবাণের থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশল তাকে লেখকের সম্মান এনে দিল।