প্রমুক্ত এক বাদামিপুকুর

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

প্রমুক্ত এক বাদামিপুকুর

মাসুদ মুস্তাফিজ ১২:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০২০

print
প্রমুক্ত এক বাদামিপুকুর

কে তাহাকে চিনে তাহার পর...। অতপর তিনি একজন পথিক যাত্রাপথিক পথেই তাহার পরিচয় কী পরিচয় দেব যে তাহাকে আমরা চিনি। তিনি ভাবেন তিনি কবি নন আমি ভাবি তিনিই কবি যে গল্প ভালো জানে, যে কল্পনাকে আঁকতে পারে; কবিতার মহাজন তিনিই হতে পারেন যিনি ঘোরে পাঠককে বিচলিত এবং ভাবিয়ে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। সাহিত্যপাড়ায় কে ওই ঘরে যায়নি যে সংসার রচিতে মধুযাপনে ছন্দ-গতিরেখ করেননি। একজন লেখক সবরকম ঘর করে! নটির ঘর থেকে সৎ আবার সতীর কাছে যেয়ে সম্বল খুঁয়েছে। তাহলে নট-নটীর আসলে জন্মই হয়নি মনের ঘরে তালা দিয়া আছেন তিনি সাঁই...
হয়তো সাদৃশ্য রহিয়াছে জিয়ন্ত, জীবন্ত পাণ্ডুলিপি-পাণ্ডু ও লিপি...

একজন কবি একজন লেখক সাহসী হোন তার বিশ্বাসের মৃত্যু হয় না কিছু অপরিণত কিংবা অপ্রাপ্ত বিশ্বাস জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকে তার জীবনে, মানে সাহিত্যায়ুতে...। কিন্তুক বৈঠা কই এই আগুনজ্বলা নৌকোর জলপিয়াসী বৈঠা ছাড়া সোহাগি জলের প্রেম কতটুকু টেকে গভীর জলে। যদি নাব্য কমে-কমে নদী শুকিয়ে যায়, সাগর উত্তাল হয় তবে মাঝি কোন শালা!

নদী মরলেও রেখা যাবে কোথায়, শেষ দেখে ছাড়বে সে-ও। আর আনমনে; শিহরিত মনে গেয়ে ওঠে; কত রঙ্গ জানরে রে নদী... আনমনে বিচলিত বোধে থেমেও যায়। লীলাবতী নদীরই কীবা দোষ, নদীকে বদলায় তো পরিবেশ ও প্রকৃতি। মানুষ কি তা থেকে ভিন্ন! তাহলে আমরা অযথাই রবিনকে দায়ী করব কেন?
এখন কে বোঝবে তাকে নাব্য হারালে নদী হেমন্তে ও শীতে অন্যজনার হয় মালিকানা আর থাকে না রে পাগল! মনে রেখো বন্ধু। নাব্য কমে এলে কূলমানহারা নদীও কূলের বাহির হয়; কেবলি কোল বদলায় কোল-নেওটা শিশুর মতো। আর যা হয় তা আমরা ভালো করেই জানি রঙপরশে।
জলের পোশাক খুলে দ্যাখো নদীও নগ্ন এক নারীর মতো, কখনো পালের নেয়ের আবার কখনো মন্ত্রনৌকোর... নাব্য কমে এলে সে নারী ও নদী মুহুর্মুহু বদলায়। জীবন কিংবা বেঁচে থাকার তাগিদে। সাহিত্য কথা কয়, কিন্তু কথা কয় তা সে নিজেই জানে না!

জলের স্বভাব বুঝে কেউ কি নদীতে নামে সাহিত্য নদীর নাব্যের মতন। সাহিত্য এমন রঙ তুমি যা বোঝ না আমি তা বুঝি; আমি যা বুঝি না তুমি তা বোঝো অধিক ঘুমোলে অপ্সরী লেখকও অধিক তত্ত্বময় সুবোধ সরকার হয়...
আমরা লক্ষ করি একজন লেখক হাসি-তামাশার ভেতর বৈকালিক বাতিঘরে স্বপ্ন ফলান গাছের রক্তচিহ্নিত ভাষায়। বন্ধুত্বের নৈকট্যে এ ভাবনাপুরুষ জীবনস্রোতে নিভৃত অভিঘাত পেরোতে পেরোতে হৃদয়ের সাঁকো বেঁধেছেন স্বপ্নের প্রতিচ্ছায়ায়। আজকের বাস্তবতার কঠিন অতৃপ্তিতে আমরা লেখকের পাশে থাকি আছি পাশে থাকব চিরকাল। দশকের আয়নায় নিজেকে আবারো প্রবেশ করাই পরিচিত জীবনের অভিজ্ঞানে। দশক পেরিয়ে সাহিত্যজনের মগ্নস্বরে কথা ও গল্পের ভেতর হাঁটতে থাকা সেই লেখক সেই কবি সেইজনকে আমরা হাততালি দিচ্ছি কিন্তু বিষয়টা হলো, সে কী সত্যিই নিকটের কাছে না দূরত্বের নিকটে জোরপূর্বক বয়সের বাহাস ধারণ করে! এই যে আমরা হাসি-তামাশার ভেতর বৈকালিক হারমোনিয়াম বাজিয়ে যাচ্ছি কেউ কাছে কেউ দূর থেকে। আপনারাই ওই প্রিয় লেখকের প্রিয় পদ্মফুল বেলিফুল হাসনাহেনা প্রিয় গোলাপ এবং পরম বন্ধু। লেখক মরে গেলে আপনাই লেখক হয়ে বাঁচবেন দৃশ্যমান ধরায়। আর ও যেটুকু ফুল ফুটিয়েছে তার মরমর সুবাস আমরা নেবেন হৃদয় খুলে। একদিন সে বিস্মৃতি হবে আর সবি যাবে ক্রমাতিগ পথে সকল পৃষ্ঠা আয়োজনে।

আসলে যা কিছু মনে আসে লিখে যাই। আমরা জানি যে গ্রামে আমরা যেতে পারিনি কিংবা যাইনি চলতি বর্ষায় ভিজে একটি গ্রামের শেষদৃশ্য রচনা করব। পাখির প্রণয় ডানায় পত্র লিখে রাখি পাখি আবেগের অভিমান ভুলে। শুভেচ্ছাপ্রবণ মন নিয়ে আমি-আমরা প্রভাবিত হচ্ছি রাস্তার কাঁচারোদে। আমরা উড়তে চেয়ে হারিয়ে ফেলেছি ডানা তাই মানুষ হোয়ে পাখিদের ক্লান্ত রাজা বনে যাই। ওই উত্থান-পতন থেকে বেরিয়ে আসার লোভে আবার ঢুকে পড়ি আবেগের জোছনায়। মনে মনে নারীর স্তন মেপে মধ্যরাতে একদল পুরুষ বানিয়ে কিনে আনি কিছু রকমারি ব্রামানে বিলোপ জলের দ্বিধায় সেই পাতলা কারুকার্যময় ব্রা নিজেরাই পড়ি। কারণ আমার গ্রাম এবং ব্যবহৃতা ব্রা’র মূল্য কেউ প্রকাশ করেনি পড়শির কাছে। ফলবান বৃক্ষের আশায় রবিন আর কতকাল অপেক্ষা করবে; চুপসে যাওয়া স্তন অথবা পুষ্টিহীনতার ঝুলে যাওয়া স্তনের সুখ মুছে যাবে কালে সোশ্যাল মার্কেটিং আর মিডিয়ার শরীর ঘামে ভিজে শিশু হয়ে যাচ্ছে হাতে কনডম ফুলিয়ে আনন্দ নিচ্ছে আয়ুর রঙিন বাতাসে... এ শিশু সাঙ্খ্য মেরে একদিন আমার সন্দেহ আমাকেই রেখে চলে যাবে! মেঘের জ্বর-সর্দি কাশিতে মা আকাশ ইস্কুলপড়ুয়া মেঘের কার্নিশে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এক সম্ভবা বৃষ্টিরোদে!