লকডাউন

ঢাকা, শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

লকডাউন

মাজরুল ইসলাম ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০২, ২০২০

print
লকডাউন

ছি ছি... অর মুকখে মুতার কুনো কী মিনসে আছে! জানিস রি উই হারামজাদি মাগি, ওপরে সব খবর দিয়্যাছে।

—কেডা রি... রি...?
—কেডা আবার হিরু মিনসের মাগি। দ্যাখ দেখিনি পরপর তিনদিন লগর থাইক্যা ঘুরে আসনু! আজ মাগির বাড়িতে যাব, গেয়্যা মাগিকে আইচ্ছা কইরে বুলব, হয় খাতে দে না-হয় তোর মরদকে বিহ্যা কইরতে বুল। লগর মাইগতে গেয়্যা আর কদ্দিন ঘুইরা আইসবো— না খেয়্যা থাইকব? মাগি তুই পায়্যাছিস তো চাকরির হিসস্যা...।

হিরণ মজুমদারের জায়া রত্না মজুমদার আশা প্রকল্পের মাঠকর্মী। বিশ্বকাঁপানো করোনাভাইরাসের করাল থাবা থেকে দেশের মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য সরকার লকডাউন জারি করেছে। লকডাউন ও করোনা নিয়ে জনগণকে সচেতন এবং সাবধান করার জন্য রত্না  প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে আদেশপ্রাপ্ত। কতিপয় লোকজন পেটের দায়ে কাজে-কর্মে বেরিয়ে পড়ছে।

রত্না জানতে পেরে তক্ষুনি প্রশাসনিক দফতরে সংবাদ পৌঁছে দিচ্ছে। এতে করে রত্না জনগণের শাসন-গর্জনের সম্মুখীন হয়েও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অতঃপর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক মহাশয় তদন্তসাপেক্ষে হতদরিদ্র লোকগুলোর অভুক্ত মুখে কিছু খাবার তুলে দিতে সদলবলে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন।

—আশা কর্মীরা করোনা ও লকডাউন নিয়ে বোঝাতে গেলে তোমরা ওদের গালাগালিজ করছ কেন?

—ক্যানে কইরব না, আমরা হনু কি গরিব ঘরের বিধবা মেইয়্যা। সারাদিন লগর মাইগ্যা যা দুটি চাইল, গহম পাই তাথে কুনো রকমে দিন চলে। কুরুনা না লসডাউন কী ছাই দ্যাশে এ্যাসেছে! ওই যে— হিরু মিনসের মাগি গেরিস্থি বাড়ি বাড়ি গেয়্যা কী সব বুল্যাছে। তাই, গেন্নিমা ভিখ্যা না দিয়ে দূর থেকে যাও যাও... করে তাড়াছে। পরপর তিনদিন ভিখ্যা কইরতে গেয়্যা লগর থাইক্যা ঘুরে আসনু। এ্যাখুন কী খাই, আপনি বুলুন, বাবু!

প্রথম কিস্তির বরাদ্দকৃত ৫ কেজি চাল ও ২ কেজি আলু ওদের হাতে তুলে দিতেই— বিডিও সাহেবের মুখের দিকে জুলজুল করে তাকিয়ে ওরা সমস্বরে বলে ওঠল— বাবু, আবার কখুন আইসবে লসডাউন!