‘ধ্রুপদি সাহিত্যচর্চাকে বেগবান করে লিটলম্যাগ’

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

‘ধ্রুপদি সাহিত্যচর্চাকে বেগবান করে লিটলম্যাগ’

প্রত্যয় জসীম, সম্পাদক, গদ্য ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০২, ২০২০

print
‘ধ্রুপদি সাহিত্যচর্চাকে বেগবান করে লিটলম্যাগ’

লেখক সৃষ্টির আঁতুড়ঘর লিটল ম্যাগাজিন। নবীন লেখকদের অধিকাংশ হাত মকশো করেন এখানে। লিটলম্যাগচর্চার নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ‘গদ্য’ সম্পাদক প্রত্যয় জসীম। সঙ্গে ছিলেন শফিক হাসান

গদ্য’র প্রথম সংখ্যা কখন প্রকাশিত হয়? কেমন সাড়া পেয়েছিলেন?
১৯৯৮ সালে, ৪৭ আজিজ সুপার মার্কেট থেকে প্রকাশিত হয়। দারুণ সাড়া পেয়েছিলাম। সম্পাদনায় অর্জন আছে অনেক। বিসর্জন তো... জীবনটাই দিয়ে দিলাম সাহিত্যের জন্য।

বর্তমানে লিটলম্যাগচর্চা কেমন হচ্ছে? আপনার দৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ম্যাগ কোনগুলো?
লিটলম্যাগচর্চা কমেছে অনেক। লোকায়ত, নতুন দিগন্ত, প্রকাশ, অরণি সব লিটলম্যাগই উল্লেখযোগ্য। সবার নাম বলা অসম্ভব। লিটলম্যাগ থেকেই তো লেখক তৈরি হচ্ছে, হবে।

সম্পাদনায় কী ধরনের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করছেন?
প্রধান প্রতিকূলতা ভালো লেখা না পাওয়া। আর্থিক সীমাবদ্ধতাও ছিল।
বাজারি সাহিত্যের বাইরে লিটলম্যাগ ধ্রুপদি সাহিত্যের চর্চাকে বেগবান করে। লিটলম্যাগ ও সাহিত্যপত্রিকা দুটোই সাহিত্যকে ধারণ করে পথ চলে। লিটলম্যাগ একটু দ্রোহী ও প্রথাবিমুখ।
মানসম্মত কবিতার কাগজ হাতেগোনা। প্রকৃত অর্থে কবিতার কাগজ কই! অনেক অকবির অকবিতার লেখায় প্রকাশিত এসব কাগজকে ঝাড়ুই বলা চলে।

কোনো কোনো লিটলম্যাগ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এটাকে কীভাবে দেখেন?
এটা ভালো। ছোট থেকে বড় হওয়া। সবাই তো একরকম হবে না। ছোটকাগজের সঙ্গে বাণিজ্যিক কাগজের পার্থক্য— ছোটকাগজ বাজারি, সস্তা জনপ্রিয় লেখা ছাপবে না বলে মনে করি।

গদ্য’র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কোন সংখ্যাটি, কেন?
১০টি সংখ্যা। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শামসুর রাহমান সংখ্যা। শামসুর রাহমান সমকালীন বাংলা কবিতার অনিবার্য প্রসঙ্গ বলেই।

লিটলম্যাগের গোষ্ঠীবদ্ধতাকে কোন দৃষ্টিতে দেখেন?
প্রকৃত লিটলম্যাগ গোষ্ঠী নয়, ভালো লেখাকেই প্রাধান্য দেয়। গোষ্ঠীবদ্ধ লিটলম্যাগ লেখক সৃষ্টি করে না।

দুই বাংলার লিটলম্যাগচর্চার মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য দেখতে পান?
ভাষা এক হলেও পশ্চিমবঙ্গ দিল্লির অধীন একটি রাজ্য মাত্র। আমরা তো স্বাধীন। বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনা যথাযথ নয়।

আপনার জন্ম-জেলার (নোয়াখালী) লিটলম্যাগচর্চার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জানতে চাই...।
নোয়াখালীতে সাহিত্যচর্চা বিচ্ছিন্নভাবে হয়। তবে আগের মতো নয়। ‘ভূলুয়া’ মুক্ত মনন, ভালো কাজ করছে।

আপনার লিটলম্যাগের নামকরণের পেছনে কী ভাবনা কাজ করেছিল?
গদ্য নামে সাহিত্য ও মুক্তচিন্তার সমতার সমাজ নির্মাণের ভাবনা ছিল। এসব চিন্তাকে ধারণ করে গদ্য প্রকাশের উদ্যোগ নিই।