কবিতা ও কবিতাভাবনা

ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭

কবিতা ও কবিতাভাবনা

শিবলী মোকতাদির ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

print
কবিতা ও কবিতাভাবনা

পারদ যেহেতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল, তাই ওটিকে ফুটিয়ে সহজে গ্যাসে পরিণত করা যায়। ওই গ্যাসকে ঠাণ্ডা করে তরল বানানো যায়। সেই তরল পারদকে আবার গ্যাস। এরকম প্রক্রিয়া বারবার অনুসরণ করলে তলানিতে পড়ে থাকবে অন্য এক ধাতু। একজন কবি গড়ে ওঠেন বিশেষ এই ধাতু দিয়ে।

প্রকৃত অর্থে কবি হবেন বহু দিশাময়। ঝরনার মতো অনর্গল ঝরবে তার কলম থেকে শব্দের ফুলঝুরি। তিনি হবেন বিস্তৃত। দেখায়, ভাবনায়, স্পর্শে বর্ণে হবেন বহুমাত্রিক লীলাময়। কবিতা- কখনো সে ঝিলিক দেয় নিত্যকিরিচের মতো। কখনো বা জং ধরা ভিখিরির থালার মতো পড়ে থাকে অচেনা ধুলোয়। নানা ম্যাজিক আর মেঘ এসে ভর করে আমার ওইসব কবিতার পথে। আমার দেখা, না-দেখা, বোঝা, না-বোঝার ত্রিশঙ্কু এই ভুবনে তবু সে প্রবেশ করে।

কবিতা চিরকালই রহেস্যের। সে আমাদের হাতছানি দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়, যাবে। শয়তানের মতো ঘরছাড়া করবে শান্ত-সুবোধ সেসব বালক কিংবা বালিকাকে। গোপনে-গোপনে সে নিরাকারের রূপ ধরে হানা দেয় আমাদের সমস্ত আর সামগ্রিক ইন্দ্রিয়তে। যেন অনাবৃষ্টির দেশে বিছিয়ে রেখেছে জলের খাতা, আর তাতে স্রোতের পরে স্রোত এসে বসিয়ে দিয়েছে সুসজ্জিত অক্ষরমালা। কবিতা তেমনই এক পিচ্ছিল প্রবাহপাথর।

কবিতা, যখন সে হয়ে ওঠে নানা দ্যোতনার। বিবিধ চিহ্ন ও সংকেতে যে কেবল অজর-অমর জিজ্ঞাসার দিকে নিজেকে ধাবিত করে। পল হতে পলকে, চূর্ণ হতে বিচূর্ণর দিকে। সতত জাগ্রত ছাড়া ফাঁকি দিয়ে কবিতা লেখা অনেকটাই টাফ। যেমন বনভোজনের শেষে ভাতঘুম দিয়ে যে কবিতা রচিত হবে তার ভাগ্যে পুরস্কারের চেয়ে তিরস্কারের পাল্লাই যে ভারী হবে সে কথা সামান্য একটি ভাঁটফুলও জানে।

কবিতা- দূরে নয়, নিকটে, ঘন হয়ে বসার বাঞ্ছা পোষণ করে। আপন ঋতুতে এসে জ্যোৎস্নায় স্নাত হয়ে দূরে যে রয়েছে কবি, তাকে ডাকে। হাতছানি দিয়ে বলে- এসো, বসন্তের এই অরণ্যে, আমাদের প্রাঙ্গণে। সব যুক্তির জোয়ার থেকে পাথরকে এনে রূপান্তরিত করি পারদে।


বিসমিল্লাহ খান

বিদেশি বইপত্রে ঠাসা বিপুল এক ব্যাগ নিয়া
বহুত গ্যাঞ্জামে পড়ে আছি।
উড়াল-পুলিশ আমাকে বলে,
আপনি কি কাব্য পাচারকারী!
আমি বলি, এসব তো দেশীয় কবি ও ছবির...
সে তখন চূড়ান্ত চামারের মতো হাসে
তাতে আমি স্বপ্নে-দেখা অযাচিত ভয় পেয়ে বলি,
উচ্চতায় এলোমেলো হই,
আমি তো বিদেশ যাই না কাকু
সে তখন ততোধিক আশকারা পেয়ে যায়।
বলে, কেনÑ আপনি কি বেনুবংশীয়!
আপনি কি বিসমিল্লাহ খান!
প্লেন দেখলেই খালি জল চান, পানি খান!

পর্যটক

এদিকে কীটনাশক জটিলতায়
অহেতুক বিজলি ও বিষয়ের আনাগোনা।
মৃদুমন্দ ধরাও পড়ছে সাইরেন-সংকেতে

কারণে কৃষি গবেষক
মুখে গ্যাসজার, হাতে গ্লোব্স।
তটস্থ, ব্যস্ত, ছুটস্ত চাকরি খালাসের ভয়ে
পায়রাবদ্ধ সব আধিকারিক।

দূরে, দূরবীন দূরত্বে- হাবাগোবা, বস্তুত
এক অন্ধ পর্যটক।

চিন্তিত, মাপযোগের উন্নয়নে কর্মধারায়
ঢেলে দিচ্ছে জলের জল্পনা,
জং ধরা গিটার,
ছুটন্ত ঘোড়ার সা-রে-গা-মা।


ধান

আজ রাতে স্বপ্নে দেখি
ধানের গহনা তুমি
ভয়ে, ব্যবধানে ছিদ্রপথে এলে
অতিশয় ছাত্রী ভালো সফল কলোনিজুড়ে।

বলোÑ ধানের পৃথিবী শুধু বড়
কৃষ্ণমেয়ে এত যে তোমার ধান
তবু শত্রু মনে করো!