কবিতা ও কবিতাভাবনা

ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

কবিতা ও কবিতাভাবনা

সাজ্জাক হোসেন শিহাব ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

print
কবিতা ও কবিতাভাবনা

কবিতা আসলে কী? এই প্রশ্নের সামনে বারবার নীরব হয়ে যাই। সাহিত্যের এই রূপ আমাকে আটকে ফেলে তার মায়াবী জাদুতে। ভাষার নান্দনিকতা আর ছন্দের খেলায় বারবার ঘুরপাক খাই। মাঝে মাঝে মনে হয়- কবিতা আমার ভাবনার একটা সাদা পৃষ্ঠা, যেখানে মনের মতো করে অক্ষর, শব্দ একের পর এক সাজিয়ে একটা সুন্দর পৃথিবীর কথা বলি। কবিতার শব্দস্রোতের ভেতরে কী যেন একটা অজানা আবেদন থাকে যা কখনই যেন ফুরাতে চায় না। কবিতা নিয়ে আসলে আমার ভাবনা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে আবারও থমকে যাই।

ইতালি

বরফ ফলার এই দেশে হেঁটে যায় পথিকের
ছায়া। বুকের ভেতর থিকা গরম বাতাস আর
একখান গল্প লইয়া ছুটে সে রূপপুরী। তার
পেছনে আছে জমে যাওয়া অতীত। আর সামনে
অলৌকিক হিম। কোথায় যাইবার চাও, কী গল্প
নিয়ে হাঁটো- আমাকে যেন মাতাল বাতাসে জিগায়
সে কথা! পাতাঝরা গাছ আর পাহাড়ের আড়ালে
লুকানো গরমের গল্প- আমি নিঃশব্দে, গোপনে
বলতে চাই। সাগর থেকে ডুবোঝড় আনবার
চাই লোকালয়ে। হলুদপাতায় সাদা বরফের
এপিটাফ লেখবার চাই। এই যে পম্পের গুঁড়ো
হাড়ের কথা জানতে চাই। আমি এই সমুদ্রের
স্বাদ নিতে চাই। আমার ইচ্ছা আকাশে অনাবাদি
স্বর্গোদ্যানের গল্প বলবার চাই। আমি জলের
লাহান পাহাড়ে ডুবতে চাই। এখানে ভালোবাসা
খুঁজবার চাই না। তামাম রাতে হাহাকার গায়ে
মাখাতে চাই। হু, তোমার দ্যাশে বেকুব হয়ে উড়া
পাখিরে দেখবার চাই। কবিতা লেখবার চাই।

জলক্লান্ত চোখে

কেউ জানে! তোমাদের রাত ফোটে নগরীর ফাঁদে!
নিশি এলে জলক্লান্ত চোখে দ্যাখো নরক-শরীর,
দিনাবসানে অসীম আঁধার মুখোমুখি এভাবে!
সেতু-শরীরের কেন্দ্রে কখন অচেনা অক্টোপাস
আদিম সে ঢেউ নিয়ে হাজির হবে একা খেলতে!
ভালোবাসা দূরে ঠেলে আনবে অস্থির কাতরতা!
কয়েকটা ইউরোতে চোখ আটকে আছে তোমার!
সাথে অপেক্ষার অবসান। এ-রাত ঠিক তা মানে।

ব্লাক ফ্রাইডে

আজ আমি বরফ হওয়া জল ভেঙে একা শুনি
নিহত মানুষের মিছিল! রাতে ঘুমোতে পারিনি!
সারারাতই চিৎকার শুনেছি, গুঙিয়ে উঠেছি!
জেনেছি লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে তোমাদের এ-
উৎসবে যোগ দিয়েছে আরো কিছু লাশ! হয়ত
তোমরা লক্ষও করোনি।
আড়ালে আড়ালে এভাবে
কিছু মানুষের ভাগ্যরেখা ক্রমে ডুবে যাচ্ছে জলে।
তাদের অস্থির জোড়ায় জোড়ায় ঠোকর দিচ্ছিল
সাগরের সমস্ত শীত!
তখনও যে তোমরা মজে
আছ ব্লাক ফ্রাইডের মিছিলে! আর মৃত্যুদূত তো
নিবেদিত প্রহরীদের মতো অপেক্ষায় ছিল সে
হুকুমের-অনুপ্রবেশের আগেই শেষ করতে
হবে জীবনের সমস্ত আয়োজন! সব হিসেব!
এ-উৎসব গুনার প্রথমদিনে গরম করে
চলেছ সমস্ত বাজার! জীবন-শব্দ রুদ্ধ করে
ইউরোর ঝনঝনানি করো আমোদের বাজারে!