তুমি আমার অনুভবে

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

তুমি আমার অনুভবে

সাহিদা সাম্য লীনা ১২:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০২০

print
তুমি আমার অনুভবে

বুকটা ঢিপঢিপ করছে। প্রায় দশ মিনিট বসে আছে রিয়া। সরকারি অফিসে এই জন্য আসতে চায় না। অফিস থেকে কোনো এসাইন্টমেন্টের কাজ কখনো নেয়নি রিয়া। ডিসির কাছে বার কয়েক আসা হয়েছে কাজে। আর সংবাদের জন্য কনফারেন্স রুমে আসা হয়।
কেমন যেন লাগছে; কী বলে ম্যাজিস্ট্রেট!

এই প্রথম তার অফিসে আসছে। দেখা করবে বলে। রিয়া ম্যাজিস্ট্রেটের এসিস্ট্যান্টকে বলে, এখনো আসেনি স্যার!
রিয়াজ বলে, না ম্যাডাম। রিয়াজ রিয়ার পূর্ব পরিচিত। আরও দশ মিনিট পর রিয়াজ বলে, যান ম্যাডাম, উনি আসছেন।
রিয়া রুমে ঢুকে সালাম দেয়। ম্যাজিস্ট্রেট ওকে বসতে বলে। রিয়াকে ম্যাজিস্ট্রেট যদিও চিনেছে তবু রিয়া মনে করিয়ে দেয়। ফেসবুকে স্ট্যাটাস, এরপর পুলিশ হয়রানি। রিয়ার পত্রিকাটার রিপোর্ট এসপি অফিসে আটকে দেওয়াসহ সব পুনরায় বলে।
ম্যাজিস্ট্রেট আফসোস করে। বলে, সব তো রেডি করে ফেলেছিলাম। আগে আপনার সঙ্গে তো পরিচিত ছিলাম না। থাকলে হয়ত ডেকে ওটা ডিলিট করে দিতাম। এখন দেখেন ডিসি কী বলে। রিয়াকে আরও পরামর্শ দেয়। রিয়া আবেগে কেঁদে ফেলে, যখন ম্যাজিস্ট্রেট বলে পত্রিকা দেব। যা একবছর রিয়া কারো মুখ থেকে শুনেনি।
ম্যাজিস্ট্রেট বলে, আপনার একটা ম্যাসেজ পড়েছি। ডিসি সাহেবের কাছে দিয়েছিলেন। তিনি ওটা আমাকে দেখিয়েছেন। অনেক আবেগ ওখানে। যাক এখন যা হওয়ার হয়ে গেছে। আপনি উনার সঙ্গে কথা বলুন। দেখা যাক।
রিয়া কথা শেষে বেরিয়ে আসে। ম্যাজিস্ট্রেটের কিছু পরামর্শ খুব মনে ধরে রিয়ার। আজ এক বছরে পত্রিকা নিয়ে রিয়াকে কেউ সান্ত¡না দেয়নি। যা আজ উনি দিলেন।
বাসায় এসে রিয়া ফেসবুক খোলে। এত ফ্যান তার। মন দিয়ে দেখা হয়নি। যা আজ ম্যাজিস্ট্রেট বলল। ওই ঘটনা প্রসঙ্গে আপনাদের বলি নারীদের ফলোয়ার বেশি। রিয়া সার্চ করে ম্যাজিস্ট্রেটকে। কখনো তার মনেও আসেনি কোনো কর্মকর্তার কথায় মুগ্ধ হয়ে রিকোয়েস্ট পাঠাবে। উনি আগেই তার আইডি দেখেছেন ওই ঘটনার পরে।
ম্যাজিস্ট্রেটকে সার্চ করেই পেল। কেননা রিয়ার মিউচুয়াল অনেক বন্ধু, পরিচিতদের সঙ্গে তিনি এড আছেন। রিকোয়েস্ট একসেপ্ট হল কিছু সময় পরেই। মনে হয়, তিনি অনলাইনে আসছেন তখন।
এক মাস পরে রিয়া ম্যাসেজ করে। অনেক সময় কথা হয়। রিয়া এরপর মাঝে মাঝে ম্যাসেজ করে। তিনি ফ্রি বোঝা গেল। একদিন রিয়া তার একটি আর্টিকেল দেয় ইনবক্সে। ম্যাজিস্ট্রেট পড়ে প্রশংসা করে। রিয়া এরপর থেকে প্রায়ই দেয়। ম্যাজিস্ট্রেট পড়ে আর নাম্বার দেয়।
রিয়ার ভালো লাগে। ফেসবুকে কাউকে ও ম্যাসেজ করে না। একমাত্র উনাকে করতে করতে রিয়ার একটা অভ্যাসে দাঁড়ায়। প্রতিদিন না। দুয়েক দিন, কখনো কখনো চার পাঁচ দিন পর ম্যাসেজ করে। ম্যাজিস্ট্রেট পড়ে। কখনো উত্তর করে। কখনো নীরব থাকে সিন করে। যেদিন রিয়া তাকে নিয়েই একটি লেখা প্রথম লেখে, তিনি বলেনÑ অসাধারণ! কাকে নিয়ে লিখেছেন?
রিয়া ভয়ে ভয়ে বলে, আপনাকে নিয়ে। ম্যাজিস্ট্রেট নিরুত্তর। মাঝে মাঝে কথা বলে। তবু কিছু করার নেই। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট। এটা ভেবে রিয়া সবসময়ই নিজেকে দমিয়ে রাখে। এর মাঝে একদিন দীর্ঘক্ষণ কথা হয় রাতে। রিয়াকে বলেন কম করে লিখতে। বেশি স্পষ্টতা বিপদ আনতে পারে কখনো। সমাজ ভালো নয়। সাবধানে থাকতে বলেন। আর বলে কাজ কমাতে। নিজের প্রতি যতœশীল হতে। তার কথাগুলো খুব ভালো লেগে যায়। এভাবে কিছুদিন কাটে।
এরপর রিয়া ধীরে ধীরে ম্যাজিস্ট্রেটের প্রেমে পড়ে যায়।
সারাদিন ম্যাজিস্ট্রেটের চিন্তা ওর মাথায় থাকে। ম্যাজিস্ট্রেটকে জানায়। তিনিও বুঝতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেটের নীরবতা দেখে রিয়া বুঝতে পারে এটা হয় না, তাই হয়ত তিনি কিছু বলছেন না।
যতটুকু বুঝতে পারে, ম্যাজিস্ট্রেট সৎ মানুষ। যাতে কোনো বদনাম না হয়। রিয়া নিজেকে কন্ট্রোলে রাখে যত পারে। তার সামনে যেতে ইচ্ছে হয়। বুঝতে পারে হয়তো ম্যাজিস্ট্রেটও চান তার অফিসে যাওয়া। কিন্তু রিয়া কোনো অপশন খুঁজে পায় না। পেলেও যায় না। ও পারে না এভাবে।
প্রেস্টিজ নিয়েও বেশ ভাবে। যত দিন যায় তত দুর্বল হয়ে পড়ে। ফেসবুকে ম্যাজিস্ট্রেটের যত ছবি পায় রিয়া সেভ করে রাখে। ওর সহকর্মীদের কাছ থেকে নিউজের জন্য ছবি এমনিতে আসে। এরপরেও যেসব ছবি পায় তা অন্যদের পোস্ট থেকে নিয়ে রাখে। রিয়ার মোবাইল গ্যালারি ম্যাজিস্ট্রেটের ছবিতে সয়লাব।
ম্যাজিস্ট্রেট এত সুন্দর না। হ্যান্ডসাম তবে। রিয়ার কাছে সুপুরুষ! রিয়া নাম দিয়েছে ব্ল্যাক ডায়মন্ড। মাস দুয়েক পরে ম্যাজিস্ট্রেট বদলি হয়ে পড়ে ঢাকায়। রিয়া যখন জানতে পারে খুব কান্না করে। তাকে বলে। কিন্তু তিনি বলেন, আমরা চাকরি করি। যেতে তো হবে।
রিয়ার মন হরণ করে ঢাকায় পাড়ি জমালেন তিনি। কিন্তু রিয়া তাকে ভোলে না। দুজনের এখন তেমন যোগাযোগ হয় না। ফেসবুকে রিয়া তাকে দেখেই শুধু শান্তি পায়।
কয়েকদিন তিনি ফেসবুকে আসছেন না। রিয়া তাকে না দেখলেই খোঁজ করে। এমনই রিয়া; তা ম্যাজিস্ট্রেট জানে। এবারও রিয়া তার ব্ল্যাক ডায়মন্ডের খোঁজে অস্থির হয়ে পড়ে। ওর বিশ্বাস ফিরে আসবে সেবারের মতো পাঁচ সাতদিন পর। তখন রিয়া ফোন দিয়েছিল। এখন তো দেওয়া যাবে না। রিয়া ভাবে এমনিতেই আসবে ওর ডায়মন্ড। ও জানে, তিনিও তাকে ভালোবাসেন।