‘লিটলম্যাগ সময় সৃষ্টি করে, লেখক নয়’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

‘লিটলম্যাগ সময় সৃষ্টি করে, লেখক নয়’

আঁখি সিদ্দিকা, সম্পাদক, মলাট ২:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ০৫, ২০২০

print
‘লিটলম্যাগ সময় সৃষ্টি করে, লেখক নয়’

লেখক সৃষ্টির আঁতুড়ঘর লিটল ম্যাগাজিন। নবীন লেখকদের অধিকাংশ হাত পাকান এখানে লিখে। লিটলম্যাগচর্চার নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ‘মলাট’ সম্পাদক আঁখি সিদ্দিকা। সঙ্গে ছিলেন শফিক হাসান

মলাট প্রথম সংখ্যা কখন প্রকাশিত হয়? কেমন সাড়া পেয়েছিলেন?
‘মলাট’ প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে। ছোটকাগজের কুলধর্ম মেনে ছোট্ট পরিসরেই প্রকাশ হয়েছিল। সবচেয়ে মজার বিষয়, জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হওয়া প্রতিষ্ঠানবিরোধী একটি লেখার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করে তা উইথড্রো করে নেয়। তাদের সেই উইথড্রো লেখাটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে তৎকালে লেখাটি প্রকাশ করেছিল মলাট তার প্রথম সংখ্যায়। যা সাহসের পরিচয় বহন করেছিল। আরও একটি ব্যাপার হয়ত ছিল। আমি ভীষণ ছোট মানুষ তখন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি, চাকরি করছি একটি বড় প্রতিষ্ঠানে। সেই আমি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপার-স্যাপার ফেলে এ ‘অস্তিত্বের আবডালে পুষে রাখা বোধ’ প্রকাশ করতে তখন বদ্ধপরিকর।

কোন লক্ষ্য থেকে সম্পাদনায় ব্রতী হয়েছেন? অর্জন বা বিসর্জন কী?
নিরীক্ষা মানেই নতুন আরেকটি জগতের দ্বার খোলা। আমার ভীষণ আনন্দ হয় সেই দরজার কড়া নাড়তে। কিন্তু নিরীক্ষামূলক লেখালেখি আমাদের এখানে খুব কম হয়। যেটুকু হয় তা হাতেগোনা কয়েকটা ছোটকাগজের লেখকের মধ্যে। এ ধরনের লেখা কেবল ছোটকাগজেই ছাপে। সাধারণে তা সহজে পায় না। এজন্য আমাদের দেশের দৈনিকের সাহিত্য পাতায় ও নিরীক্ষামূলক কাজ ছাপা উচিত। কিন্তু বাস্তবে তা কম হয়। নিরীক্ষামূলক লেখায় বর্তমান সময়ের চিন্তা-চেতনা এবং চাহিদা বোঝা যায়। এমন করেই ভাবছিলাম সে সময়। আর সেই ভাবনা থেকে নিজের লেখালেখির পাশাপাশি কী করা যায়। ভাবতেই ছোটকাগজ করার কথা মাথায় এল। আসলে মূলধন কম ছিল কিছু একটা করার জন্য। তা হবে নতুন ও নিরীক্ষামূলক। সততার বহিঃপ্রকাশ ও নিরীক্ষামূলক কাজ ছোটকাগজে স্বচ্ছন্দে করা যায়। নতুনদের সেøট বলত তখন মলাটকে অনেকেই। আজ যারা প্রতিষ্ঠিত লেখক তারা বেশিরভাগই মলাটে লিখেছেন, মুছেছেন। আবার লিখেছেন। অর্জন তো এটাই যে মলাট সবার কাগজ হয়ে উঠেছিল। দুই বাংলার একঝাঁক নতুন লেখক সৃষ্টিতে মলাটের অবদান অস্বীকার করা যায় না। বিসর্জন বলে কিছু নেই। তবে মনে আছে, মলাট প্রকাশ করার জন্য একবেলা ভাত খেতাম আমি। দুবেলা বনরুটি বা কলা। যেভাবে মা-খালারা মুষ্টি চাল বাঁচিয়ে সঞ্চয় করেন ওভাবে বাজারের টাকা বাঁচিয়ে এক একটি সংখ্যা করেছি।

বর্তমানে লিটলম্যাগচর্চা কেমন হচ্ছে?
প্রায়ই হচ্ছে না বলব। তবে কিছু ওয়েবজিন লিটলম্যাগের মতো কাজ করছে, তা ইতিবাচক। এছাড়া কয়েকটি ছোটকাগজ তো বাজারে আছে যারা চেষ্টা করছে। আকারে ঢাউস, ঘুরে ফিরে কিছু পরিচিত মানুষের লেখা ও একগাদা বিজ্ঞাপনে ভরপুর কাগজের সংখ্যাই বেশি। তাকে ছোটকাগজ বলে চালাতে চাইলেই তা ছোটকাগজ হয়ে যায় না। ছোটকাগজ হয়ে উঠতে গেলে তার কিছু বৈশিষ্ট্য মাথায় রাখতে হবে। সাহিত্য পত্রিকা আর ছোটকাগজ এক নয়। এর মধ্যে কিছু কাগজ এখনও কাজ করছে। ওয়েবজিনের মধ্যে সিরিষের ডালপালা যদিও তারা কম কাজ করেছে, তারপরও ভালো করেছে। পরস্পর ডটকম, তীরন্দাজ কাজ করছে।
লিটলম্যাগ সময় সৃষ্টি করে, লেখক নয়। আর সেই সময়ের সাক্ষ্য দেয় লেখক। যিনি লেখক তিনি এমনিতেই সৃষ্টি হন। স্পেস পান নিজেকে মেলে ধরার ছোটকাগজে। তাই মেলে ধরার প্রক্রিয়ার মধ্যে লেখকের বৃহত্তর যে কাজটি ছোটকাগজ করে দেয় তা হল তাকে তার কথাকে নিজের মতো প্রকাশ করার স্বাধীনতাটুকু দেয়। লেখক হয়ে ওঠার ভূমিকায় সত্যিকারের অবদান লিটলম্যাগেরই।

সম্পাদনা করতে গিয়ে কী ধরনের প্রতিকূলতা মোকাবেলা করছেন?
প্রতিকূলতায় পড়েননি এমন সম্পাদক বুঝি নেই এ তল্লাটে। তবে একটা কথা বরাবর মাথায় ছিল, প্রতিকূলতার মধ্যেই থাকে অনুকূলতার বীজ। তাই সেই বীজকে খুঁজে নিয়েছি প্রতিনিয়ত। ছোটকাগজ প্রকাশ করার বড় প্রতিকূলতা অর্থ। এটি জোগাড় করা খুব কঠিন। আপনি যখন প্রতিবাদ করবেন, বিপ্লব করবেন তখন যে প্রতিষ্ঠান আপনাকে টাকা দেবে তাকে আপনি কম্প্রোমাইজ করতে পারবেন না। মন জোগানোর কাজ ছোটকাগজের নয়। তাই আপনাকে মেরুদ-খানি সোজা রেখে হাঁটতে হবে। এ পথ সহজ নয়। লেখা সংগ্রহ, বাছাই এবং প্রচ্ছদ নির্বাচন, ছাপাখানা সব কিছুতেই ওই ‘নো কম্প্রোমাইজ’ থিওরি এপ্লাই মূলমন্ত্র। নারী হয়ে সম্পাদনায় আলাদা কিছু অসুবিধা তো আছেই। বড় অসুবিধা হল দৃষ্টিভঙ্গি। আরো, এ কী কাজ করবে? এ বিশ্বাসের অভাব অনেকটা ভুগিয়েছে। তবে প্রথম সংখ্যার পরে আস্থা ফিরে এসেছিল।

কী বৈশিষ্ট্যে লিটলম্যাগ ও সাহিত্যপত্রিকাকে আলাদা করবেন?
বুদ্ধদেব বসু ছোটকাগজের একটি সংজ্ঞা নিরূপণের চেষ্টা করেছিলেন। তার সংজ্ঞাটি একটু পরখ করে দেখা যায়।
তিনটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য তিনি আবিষ্কার করেছিলেন ছোটকাগজের। একটি ‘আকারে ছোট’, দ্বিতীয়টি ‘প্রচারে ক্ষুদ্র’, তৃতীয়টি ‘বেশি দিন বাঁচে না’। কিন্তু তিনি এ-ও বলেছিলেন যে ‘এগুলোই সব কথা নয়’; কারণ তার মতে ‘ছোট’ বিশেষণের মধ্যে ‘অনেকখানি অর্থ পোরা আছে’। এর মধ্যে বুদ্ধদেব বসু দেখতে পেয়েছিলেন ‘প্রতিবাদ’, ‘সবকিছুর আমদানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ’। আরও সুন্দর করে তিনি বলেছেন, বহুলতম প্রচারের ব্যাপকতম মাধ্যমিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদই হচ্ছে ছোটকাগজ; বলেছেন, ‘জনপ্রিয়তার কলঙ্ক তাকে ছোঁবে না’ এবং ‘নগদ মূল্যে বড় বাজারে বিকোবে না, কিন্তু হয়ত কোনো একদিন এর একটি পুরনো সংখ্যার জন্য গুণী সমাজের ঔৎসুক্য জেগে উঠবে।’ তারপর তিনি বলেছেন এর সবচেয়ে বড় গুণটির কথা, ‘এটি কখনো মন জোগাতে চায়নি, মনকে জাগাতে চেয়েছিল।’ কারণ এ ‘চেয়েছিল নতুন সুরে নতুন কথা বলতে; কোনো এক সন্ধিক্ষণে যখন গতানুগতিকতা থেকে অব্যাহতির পথ দেখা যাচ্ছে না, তখন সাহিত্যের ক্লান্ত শিরায় তরুণ রক্ত বইয়ে দিয়েছিল- নিন্দা, নির্যাতন বা ধনক্ষয়ে প্রতিহত হয়নি।’ ছোটকাগজের গৌরব তিনি দেখেছিলেন ‘সাহস, নিষ্ঠা’ বা ‘গতির একমুখিতা’য়, ছোটকাগজ যে ‘সময়ের সেবা না করে সময়কে সৃষ্টি করার চেষ্টা’ করে- একে তিনি বলেছেন এর ‘কুলধর্ম’।
আর সাহিত্যপত্রিকা, আপনি হয়ত ভালো জানেন, বা দেখতে পাচ্ছেন চারিদিকে যে ব্যক্তি বা বিষয় প্রকাশনার উপলক্ষ, তার পেছনে গোপনে ক্রিয়াশীল রয়েছে সাহিত্যিক উজ্জীবনের চেয়ে জাগতিক লাভালাভের সম্পর্ক। যে সদিচ্ছাকে ছোটকাগজের গুরুত্ব দেওয়ার কথা, তার বদলে একধরনের প্রচারমূলক উদ্যোগ হিসেবেই এগুলোকে দেখা হয়। দেখতে এগুলো অনেক সময় ছোটকাগজের মতোই। বিক্রির জন্য উপস্থাপনও হয় একই প্রক্রিয়ায়। প্রচুর পরিমাণে যে চলে তাও নয়। কোনো কোনোটার গুরুত্বও হয়ত অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও যে অনুপ্রেরণা থেকে পত্রিকাগুলো আলোর মুখ দেখে, তা সাধারণত প্রকৃত ছোটকাগজসুলভ নয়! তা ঘটনা চক্রে হয়তো সাহিত্যের পত্রিকা হয়ে ওঠে।

সম্পাদনায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? বিদ্যমান বাস্তবতায় লিটলম্যাগচর্চার গুরুত্ব কতটুকু?
যদিও অনলাইনে লেখা ও লেখা প্রকাশই সবার আগ্রহের জায়গা। তবুও আমি প্রিন্টিং ম্যাগ বা বইয়ের প্রতি এখনও অনুগ্রাহী। তাই আমি আবারও মলাট প্রকাশ করতে চাই। মলাট ভিন্নধর্মী সব সংখ্যা করেছে। মলাট-এর তুলনামূলক সংখ্যাটি খুব আলোচিত ও সমাদৃত হয়েছিল। এবার রূপান্তর শিল্প সংখ্যা বা ট্রান্সফরমেশন অব আর্ট শিরোনামে একটি সংখ্যা করার ইচ্ছা আছে। একটি শিল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্য একটি শিল্প হয়ে যাওয়া। যেমন কেউ একজন একটি ছবি বা আর্ট দেখে একটি কবিতা লিখলেন, ওই কবিতাটি বা গল্পটি মলাটের উপজীব্য হবে।

প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা করে কোনো কোনো লিটলম্যাগের জন্ম হয়েছে। মলাটের অবস্থান কী?
মলাট’ই জন্ম হয়েছে। তা পূর্বেই বলেছি। ঠিক প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা নয়, প্রতিবাদ। বাণিজ্যিক জয়যাত্রার বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠান কাজ করে। বাণিজ্য খারাপ নয়। কিন্তু একই সঙ্গে প্রতিবাদ ও মুনাফা করা ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের সামিল। সচেতন হয়ে দু-নৌকায় পা দিয়ে চলা কিন্তু কঠিন। সত্যিকারের লিটলম্যাগ কিন্তু এ ব্যাপারে মুনাফা বেছে নেবে না। তাকে আসলে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হতে হয়। অনেক লিটলম্যাগেরই জন্ম হয়েছে এ চেতনা থেকে।

ছোটকাগজের সঙ্গে বাণিজ্যিক কাগজের কী ধরনের পার্থক্য থাকা জরুরি?
বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিকতার জয়যাত্রার প্রভাবে অর্থের অনুপ্রবেশ সহজতর হয়ে গেছে। একদিক সহজ হতে গেলে অন্যদিক চলে যায় দূরে। অর্থের প্রভাবে নানা রকম অসাহিত্যিক প্রচার-প্রচারণার গুরুত্ব বাড়তে দেখা যায়। আর এর নিচে চাপা পড়ার উপক্রম হয় বিদ্রোহ ও প্রতিবাদের আকাক্সক্ষা, গোষ্ঠীচেতনা গড়ে ওঠার আগেই দেখতে হয় নতুন নতুন গোষ্ঠীর গড়ে-ওঠার প্রয়াস। ছোট প্রকাশনাগুলো ছোটকাগজের মতো দেখতে কিন্তু প্রকৃত ছোটকাগজ আর হয়ে ওঠে না। বাণিজ্যিক কাগজ মুনাফা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।

মলাট’র প্রকাশিত সংখ্যা কতটি? বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কোন সংখ্যাটি, কেন?
প্রকাশিত সংখ্যা ৯টি। বিশেষ হয়ে উঠেছে কয়েকটি। তার মধ্যে তুলনামুলক সাহিত্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে মলাটের আগে দুই বাংলার কেউ এটি নিয়ে কাজ করেনি। এবং তখন বাংলাদেশেও এর পাঠ্য ছিল না বললেই চলে। এখন জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়ানো হয়। এটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রহ করেছিল। নতুন বিষয় ও গঠনমূলক হওয়ার কারণে সমাদৃত হয়। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মলাট থেকে প্রকাশিত ‘অলাতচক্র’ও ভীষণ সমাদৃত হয়।

প্রযুক্তির ক্রমপ্রসারে লিটলম্যাগ আন্দোলন সংকুচিত হচ্ছে কিনা?
ছোটকাগজ অনেকটা সংকুচিত হয়ে গেছে। কারণ ওয়েবজিন সহজে সম্পাদনা করা যাচ্ছে। বিজ্ঞাপন সংগ্রহ, লেখা সংগ্রহ, সম্পাদনা সবই সহজলভ্য। তবে আমার মনে হয় হাতে নিয়ে নতুন কাগজের গন্ধ, স্পর্শ হারাবার নয়। তাই সংকুচিত হলেও হারাবে না ছোটকাগজ। এ স্বপ্ন দেখতে ভালো লাগে। তাই তো মলাট আবার প্রকাশ করার আগ্রহ পাই।

লিটলম্যাগের গোষ্ঠীবদ্ধতাকে কোন দৃষ্টিতে দেখেন?
এটি অনেক বড় এক শক্তি। তা নিজেকে দিয়েও প্রমাণ মেলে। এই যে আপনাকে জানি তা তো আপনার ছোটকাগজ ‘প্রকাশ’ থেকেই। এমনভাবে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, থানা-উপজেলা, জেলা, বিভাগ থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন বাংলা অঞ্চলের লিটলম্যাগ কর্মীরা কিন্তু এক ও একক শক্তি। তাই একটি সময়ের আমূল পরিবর্তন কিন্তু লিটলম্যাগকর্মীদের গোষ্ঠীবদ্ধ শক্তি দ্বারা সম্ভব। তবে দলবাজি অন্য ব্যাপার। ওটা মোটেই কোথাও কাম্য নয়।

দুই বাংলার লিটলম্যাগচর্চায় মৌলিক কোনো পার্থক্য দেখতে পান?
যেটা আমার চোখে বেশি পড়েছেÑ ওপার বাংলায় এখনও বেশ কিছু লিটলম্যাগ আছে যা এখন পর্যন্ত সিরিয়াসলি লিটলম্যাগের চরিত্র বহন করে। আরও একটি পার্থক্য বিষয়ভিত্তিক। বেশিরভাগ কাজ কোনো একটি বিষয়কে ধরে তারা নিয়মিত করছে। যা আমাদের এখানে বেশ ঘাটতি দেখা যায়। দুই বাংলার ছোটকাগজগুলোতে থাকে জীবনঘেঁষা লেখা। উভয়ের জীবনের প্রতিচ্ছবি এক নয়। তাই একটি মৌলিক পার্থক্য তো এখানে আছেই। এছাড়া ভাষাতেও রয়েছে পার্থক্য। তবে ওপার বাংলায় ছোটকাগজ প্রকাশে আগ্রহের মাত্রা বেশি, আমাদের এখানে কম। আমাদের ছোটকাগজগুলোতে কম-বেশি বিজ্ঞাপন দেখা যায়। ওদিকে বেশিরভাগই বিজ্ঞাপন ছাড়া।