ঘর বদল

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ঘর বদল

জেলি ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২০

print
ঘর বদল

ওদিকে চায়ের কেতলিজুড়ে পানির টগবগ শব্দ জেগে উঠছে। মাইগ্রেনের ব্যথাটা বেড়ে চলছে।
ঝাপসা হয়ে উঠছে চোখের দৃষ্টি। কতটুকু পাতি গরম জলে ঢেলে দেব কেমন যেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। ডাক এলÑ এই শুনছ, আমার চায়ে কড়া পাতি দিও কিন্তু চিনি দিও না।
কী বিড়ম্বনা, চিনি তো আগেই দিয়ে ফেলেছি।

একটু পর শাশুড়ির ডাকÑ বউ মা শুনছ, আমার চায়ে কড়া পাতি দিও। চিনি হালকা দিও।
আবার জটিলতা, কারণ এবার শ্বশুর ডাকলÑ বউ মা শুনছ, আমার চায়ে হালকা পাতি দিও আর কড়া চিনি দিও।
এতকিছু শোনার পর মনে হচ্ছিল টিভির রিমোট চেপে চেপে কেউ চ্যানেল পরিবর্তনের মত নির্দেশ করছে আর আমার মাথা যেন তিনশ’ ষাট ডিগ্রি কোণে ঘুরছে।
যদিও গণিতে ভালো ছিলাম না একবার পরীক্ষায় টেনে-টুনে পাস করেছিলাম। মনে হচ্ছে, এই বুঝি পড়ে যাব। কিন্তু ভাবলাম, নাহ এই সামান্য চা বৃত্তান্তের কাছে হেরে গেলে চলবে না। এই ভেবে সকালটা কেটে গেল।
একটু পর ফোন করল আমার একমাত্র ননদ অর্থাৎ শাশুড়ির একমাত্র মেয়েÑ মা শুনছ, আমি বাড়ি আসছি।
ঠিক তখনই শাশুড়ির চোখ জোড়া চকচক করে উঠল। মনে হল, কত আনন্দ চোখে-মুখে খেলা করছে। তখনই মায়ের কথা মনে পড়ল। ভাবলাম হয়ত আমার যাওয়ার খরব শুনে মা এরকম খুশি হয়। ফোন করার সময় হল না। কাজে লেগে গেলাম।
ননদের পছন্দের খাবারের তালিকাজুড়ে কত প্রকার রান্না। সব শেষে ঘুমাতে যাব। আয়নার সামনে চুল আঁচড়াচ্ছি আর ঘেমে যাচ্ছি ফ্যানের হাওয়ায় ঘামটা দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে কিন্তু আমি ঘেমেই চলেছি। বছর কয়েক আগের ঘটনা। মা যখন রান্না করত। পেঁয়াজ কাটতে গেলে নাকের পানি চোখের পানি এক করে ফেলতাম। মা বলত, অনেক হয়েছে। থাক, আমার কাজ আমি করব। মরিচ কাটতে গেলে মা বলত, হাত জ্বালা করবে। তখন যেন না কাঁদি কিংবা নারিকেল তেল না খুঁজি। শিং মাছ, টেংরা মাছ বাবা কাটতে দিত না। কাঁটা ফুটলে ব্যথা করবে, আগুনের কাছে যেতাম না। মাকে বলতাম গায়ের রঙ কালো হবে।
যখন রাত জেগে জেগে খুব পড়তাম বাবা বলত, আর পড়তে হবে না। মুখে দু’একটা ব্রণ দেখা দিলে বাবা বলত যত দোষ কসমেটিকস কোম্পানির! এখন যখন বাবা ফোন করে বলে- মা, কেমন আছ
বলি, বাবা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চায়ের কাপের বয়স বেড়েছে, ঠিক তেমনি তোমার মেয়ের বয়স পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে। ঘরবাড়ি বদলের সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরে বন্দি হওয়াটাও মানিয়ে নিয়ে দিব্যি আছি বাবা।