পঞ্চাশ বই প্রকাশিত হওয়ার গল্প

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

পঞ্চাশ বই প্রকাশিত হওয়ার গল্প

রণজিৎ সরকার ১২:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

print
পঞ্চাশ বই প্রকাশিত হওয়ার গল্প

লেখক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে বগুড়া থেকে ২০১০-এর নভেম্বরে ঢাকায় আসি। এর কয়েক মাস পরই বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ কোর্সে সুযোগ পাই। সান্নিধ্যে আসি বিখ্যাত সাহিত্যিকদের।

নিয়মিত লেখা প্রকাশ হয় ছোটবেলা থেকেই। অনেক গল্প প্রকাশিত হলো। খুব ইচ্ছা হলো একটা বই প্রকাশ করার। অনেক বড় ভাই ও লেখককে বললাম। কিন্তু কারো কথায় কোনো কাজ হচ্ছে না। যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় তারাই টাকা চায়। একজনের কথা না বললেই নয়- কথা সাহিত্যিক হরিপদ দত্ত। দাদার সঙ্গে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আড্ডা দিতাম। তিনি একজন প্রকাশককে বললেন, আমার একটা শিশুতোষ বই করে দেওয়ার জন্য। প্রকাশক আমার মুখের ওপর বললেন, ‘আপনাকে অগ্রিম টাকা দিতে হবে। নতুন লেখকের বই কেউ সহজে কেনে না।’

হতাশ হয়ে গেলাম। তাহলে কি বই প্রকাশ হবে না! একদিন কিছু বইয়ের পাতা থেকে নম্বর নিয়ে কয়েকজন প্রকাশককে কল করলাম। কেউ কেউ বললেন, পা-ুলিপি নিয়ে বাংলাবাজার আসেন। তাদের কথা শুনে আশা জাগল মনে।

কয়েকদিন পর প্রকাশিত কয়েকটা গল্পের পেপারকাটিং ফাইল করে নিয়ে বাংলাবাজার গেলাম। কতজন কত কথা বললেন। কিছু মনে করলাম না। আফতাব বুক হাউজে গেলাম। ভদ্রলোক ভালো ব্যবহার করে বসতে দিলেন। বললেন, ‘আপনি আমাকে ভূতের গল্পের একটা পাণ্ডুলিপি দিতে পারেন। বই কিনে নিতে হবে কমপক্ষে ১০০ কপি।’

সাহস করে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম। তবুও একটা বই প্রকাশ হোক! পাশে ছিল শুভ্রপ্রকাশের দোকান। প্রকাশক রোহান রতন পাণ্ডুলিপি দেখে আমাকে ডাক দিলেন। একটা প্রকাশিত গল্প দেখে বললেন, ‘স্কুল ছুটির পর’ নামে বইটা হলে ভালো চলবে। আপনি আর কয়েকটা গল্প দেন। আফতাব বুকে তো ভূতের বই দেবেন। আমাদের শিক্ষামূলক কয়েকটা গল্প দেন। শর্ত হচ্ছে, কমপক্ষে ১০০ বই কিনে নিতে হবে।

বললাম, ৬০ কপি কিনে নেব। তিনি রাজি হলেন। পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করে দুজনকে দিলাম। ২০১২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রথম বই ‘স্কুল ছুটির পর’ প্রকাশ হলো।

বিকালে বইটা মেলায় আসে। সেদিন ২০ কপির বেশি বই বিক্রি হয়েছিল। তারপর প্রতিদিন নিয়মিত ৩০-৪০টা করে বই বিক্রি হতে লাগল। ১৪ তারিখের মধ্যে ৫০০ কপি শেষ হয়ে যায়। আফতাব বুক হাউজ থেকে ‘ভূতের ফাঁসি’ নামে বইটা এল ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। দুটোই শিশুতোষ। মেলা শেষে স্কুল ছুটির পর বইটা প্রায় ১০০০ কপি বিক্রি হয়েছিল। ভূতের ফাঁসি বিক্রি হয়েছিল ৫০০ কপি।

আফতাব বুক হাউজের সারা দেশে মার্কেটিং ছিল। ফলে এক হাজারের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল সারা দেশে। কিন্তু বই প্রকাশকদের কাছ থেকে আমার আর বই কিনে নিতে হয়নি। তারা খুশি হয়ে মেলা শেষে রয়্যালটি দিয়েছিলেন। প্রথম বই থেকে রয়্যালটি পাওয়া বড় ব্যাপার। পরের বছর আমার চারটা বই প্রকাশ হয়। তার পরের বছর ছয়টা। তারপর আটটা। এখাবে নিয়মিত প্রকাশ হয়ে থাকে।

এবার ২০২০ সালে এসে ১০টা বই প্রকাশিত হয়েছে। উপন্যাস ‘প্রেমভূমির নিমন্ত্রণলিপি’র মাধ্যমেই বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ৫০-এ। নিয়ম করে প্রতিদিন পড়ি। লেখার চেষ্টা করি। বিশ^বিখ্যাত লেখক গ্যাব্রিয়াল গার্সিয়া মার্কেজ বলেছেন, ‘লেখকের ২৪ ঘণ্টার চাকরি হলো লেখালেখি করা।’

লেখালেখি করতে ভালো লাগে। তাই নিয়ম করে লেখার মাঝে একধরনের শান্তি খুঁজে পাই। নেশার মতো প্রতিদিন না লিখে থাকতে পারি না। অসংখ্য বড় কথা নয়, নিয়ম করে নিয়মিত লিখে যেতে চাই।