ভাষা আন্দোলনে নারীশক্তি

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

ভাষা আন্দোলনে নারীশক্তি

কামাল আহমেদ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

print
ভাষা আন্দোলনে নারীশক্তি

অনেক সাহস, ত্যাগ ও পূর্বপুরুষদের বুকের তাজা রক্তে দেশের সবুজ ঘাস রাঙিয়ে পেয়েছি মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার। সে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি নারীশক্তিরও সমান তৎপরতা ছিল কিন্তু তা সেভাবে প্রকাশ হয়নি। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি এলে আমরা একটু স্বদেশী, স্বভাষী চেতনায় নিজেদের সচেতন প্রমাণ করার চেষ্টা করি। নানা আয়োজনে, বইমেলায় মাসব্যাপী নানান কর্মসূচিতে মাতিয়ে রাখি। তা সত্ত্বেও বায়ান্ন’র ভাষাসৈনিক নারীদের অবদানের কথা আড়ালেই থেকে যায়।

পঞ্চাশের দশকে রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় নারীদের মিছিল, মিটিংয়ের জন্যে ঘরের বাইরে যাওয়া দুরূহ ছিল। কেবল বাংলা মায়ের হাজার বছরের লালিত ভাষাকে রক্ষার জন্যেই তারা রক্ষণশীলতার ব্যূহ ভেদ করে। ১৯৪৮ সালে করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের বৈঠকে উর্দু ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন হলে তা নাকচ হয়ে যায়। একই সালের ২ মার্চ ফজলুল হক মিলনায়তনে এর প্রতিবাদে এক বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুজন নারী- আনোয়ারা খাতুন ও লিলি খান।

১৯৫১ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্তমান রোকেয়া হলে ক্যাম্পেইন হতো। এতে হালিমা, রোকেয়া ও সুফিয়া খান থাকতেন। হালিমা খাতুন কেবল আন্দোলনের জন্যই ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং মেয়েদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে বলেন।

১৯৫২ সালে এ আন্দোলন রুদ্র রূপ ধারণ করে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের দিনক্ষণ নির্ধারণ হলে ২০ তারিখেই পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে সভা, সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করে। ওই দিন প্রথম যে দল ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল বের করে তার নেতৃত্ব দেন ড. শাফিয়া খাতুন। সঙ্গে ছিলেন ড. সুফিয়া, মাহফিল আরা, খোরশেদী খানম, ড. হালিমা, সুরাইয়া, সারা তৈফুর।

অন্য এক জায়গায় জুলেখা, নূরী ও সেতারার নাম পাওয়া যায়। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা আরও দুজন সাহসী নারী- রওশন আরা বাচ্চু ও শামসুন্নাহার। সেদিন পুলিশের লাঠি ও টিয়ারশেলের আঘাতে অনেকেই আহত ও গ্রেফতার হয়েছিলেন। পুলিশের গুলিতে মানুষের মাথার খুলি উড়ে যাওয়ার দৃশ্যের একটি গুরুত্ববহ ছবি ছিল।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হালিমা ও রাবেয়া রাতের আঁধারে বুকের ভেতর করে পুলিশের সামনে দিয়েই ছবিটি নিয়ে আসেন। নারায়ণগঞ্জের মর্গান হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগম নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনের পটভূমি সৃষ্টি করেছিলেন।

তাই সরকারি পুলিশবাহিনী ২৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে তাকে স্কুল তহবিল তছরুপের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে। মুক্তির শর্ত হিসেবে তাকে বন্ডসই করতে বলায় রাজি হননি। সে জন্যে তাকে স্বামীর তালাক নিতে হলো। তবু তিনি পিছু হটেননি ভাষার মর্যাদা রক্ষায়।