এ প্রেমের নাম নেই

ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

এ প্রেমের নাম নেই

সাহিদা সাম্য লীনা ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

print
এ প্রেমের নাম নেই

রাগ, অভিমান, ঘৃণা, অভিযোগ কত কী করব ভেবেছিলে, তাই না? করছি না, করব না। আমি জানি তুমিও জানো তা তোমার ক্ষতি যে করব না। তোমার আড়ালটা জানার পর বরং তোমার প্রতি আমার আরও মায়া বেড়ে গেছে! তবে ভেবো না; এখন আর আগের মত তোমার সাথে কথা হবে না। জ্বালাব না। কখনই না। অমন ভুলটাও হবে না, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে। কঠিন হয়ে গেলাম। আরও সচেতন হলাম। যদিও আমার দরজাটা খোলা। মন চাইলে কথা বলো!

আমি কথা বলা নিজ থেকে বন্ধ করে কষ্টে আছি, একটা জায়গায় থেকো একটু, ওখান থেকে সরাতে পারছি না যে। মনে হয় পারবও না। ও জায়গার নাম কি জানো? কল্পনায় রাজ্য। সে রাজ্যে তুমি আমার। কল্পনায় থাকতে তো তোমার আপত্তি নেই! ওটা ফেসবুকের টাইমলাইনের মতো নিজস্ব ভুবন! ওখানে আমার চাষাবাদ, আমার যত প্রেম, যত ভালোবাসা। কারও অধিকার নেই। কোনো অভিযোগ করবে না তো! ভয় পেয়ো না; তোমার সংসারে ঝড়ও আসবে না। তুমি বুঝবেও না। আমি তোমাকে নিয়ে যে ভাবি।

এই শোন, সেদিন নববর্ষের রাতে তোমার আমার কী সুন্দর রাত কেটেছে। অনেক কথা হলো আমাদের। তোমার নীরবতা সেদিন ভেঙে গেল। কী সুন্দর মান ভাঙালে! আমি কিন্তু খাইনি এখনো! এরপর রিপ্লাই- একটা হাসির ইমোজিসহ হ্যাপি নিউ ইয়ার বললে, বললাম লাগবে না। প্রতি উত্তরে বললে, লাগুক আর না লাগুক ইট হ্যাজ স্টার্টেড অলরেডি। তোমার কঠিন করে বলা মনে হলো। একটু পর বললাম সবার জন্য, আমার জন্য না। তুমি না বললে হাসির জিপ দিয়ে। এতেও আমার অভিমান গেল না।

হঠাৎ! তোমার একের পর এক ছবি দিতেই আমি তোমাকে পেলাম যেন অন্যভাবে সেদিন। যা তুমি কর না কখনও। আমি আনন্দে কাঁদলাম। আরো দাও, দিলে। এভাবেই গেল বছরের প্রথম রাতটা। পরের দিন আবার কথা হলো। জানালাম কথায় কথায় আমার ভাললাগা তোমাকে। তুমি বুঝতে আরও আগেই পেরেছ আমি যে তোমায় ভালোবাসতে শুরু করেছি। তবে তোমার কাছ থেকে বাধা বা না শব্দ আসেনি। সে কারণে, হৃদয়ের সবচেয়ে ভাল জায়গায় বসিয়ে ফেললাম। তোমার ভাবনা, তোমার মুখচ্ছবি ২৪ ঘন্টা আমার মাথায় তাও জেনে বলনি। এটি ঠিক হচ্ছে না।

তোমার লাই পেয়ে ভালোবাসায় ভাসতে থাকলাম। তোমাকে মিস করা রোগ পেয়ে গেল তোমার কারণেই। তবে, তোমার কাছ থেকে এমন সাড়াটা পাইনি যাতে স্পষ্ট হয় তুমি কী ভাবছ? তোমার সম্পর্কে জানার অনেক চেষ্টা যখন কাজ হচ্ছে না ভাবলাম মানুষটা এমনি। তুমি বিয়ে করনি সবাই বলে এক দুজন ছাড়া তাও ক্লিয়ার না। সেদিন নববর্ষের রাতে তোমার সাথে আমার যেটুকু কথা হয়েছে মনে হল তুমি এ সম্পর্কটা চাও, তোমারও ইচ্ছে।

আমিও চাইলাম মজা করে সময় কাটাতে। তাই আমার তোমার প্রতি উদারতা, আবেগ বেড়ে গেল। একটু বুঝতে পারিনি বছর শুরুর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই তোমার সংসার, বউ-বাচ্চা আছে আমার জানা হয়ে যাবে। একটা মেসেজ ‘মিস ইউ ডিয়ার’ তোমার বউয়ের হাতে পড়বে। তোমার বউ আমায় কল দিল। কত প্রশ্ন কত কী! তুমি তখন তোমার বউয়ের সাথে, তোমার বউ কাঁদছে আর বলছে তুমি সব জায়গায় গিয়ে প্রেম কর, আমি চুপচাপ সব শুনে আসি।

হে আল্লাহ, কী শুনছি এসব। মাথার ওপর তখন মনে হলো কেউ কুড়াল দিয়ে পেটাচ্ছে। আমার নীরবতায় তোমার বউ তোমাকে ফোন দিল- এই কথা বলো, আজ তুমি প্রমাণ করবে এ কে? কী সম্পর্ক তোমাদের। তুমি হ্যালো, হ্যালো এভাবে কয়েকবার ফোন করলে। আমি নো সাউন্ড; তখন আমি আমার কাছে নেই। ফোন রেখে কতক্ষণ কেঁদেছি জানি না। আমি তো কোনো মেয়ের সংসার ভাঙতে চাই না। মুহূর্তে সব ডিলিট করলাম তোমার সব মেসেজ, ছবি সব। কোথাও চিহ্ন রাখলাম না।

দু’বছর আগে রিমির সাথে পরিচয় হয় এক সরকারি কর্মকর্তার। কাজে দু’একবার দেখা সাক্ষাৎ ওদের হয়। ফেসবুকে পরিচয়টা বেশ গাঢ় হয় ওদের। রিমি এক প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করে। রিমি বিবাহিতা। সবাই জানে। সেই কর্মকর্তাও জানে। রিমি নিজেই বলেছে। তখন সে ভাবেনি এই লোকের প্রেমে তাকে পড়তে হবে এক সময়। হলোও তাই। রিমির স্বামী বছরের অর্ধেক সময় ব্যস্ত, অসুস্থ থাকে বিয়ের পর থেকেই এমন দেখে আসছে রিমি।

যদিও ওদের সংসার সুখের। ওদের দুই ছেলেমেয়ে। রিমিকে খুব বিশ্বাস করে ওর স্বামী। এমন কোনো অভিযোগ রিমির নেই। সেই সকালে বেরিয়ে যায় সংসার সামলে। রিমির স্বামীও ছোটখাট ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। স্বামীর একটু উদাসীনতা রিমির জীবনে এ সরকারি কর্মকর্তার আগমন। রিমি ভুলে হোক আর জেনে হোক তাতে পা বাড়ায়। রিমির বান্ধবী নূপুর বলে তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে। নতুন জীবন শুরু কর। রিমি রাজি হয় না। বলে, বিয়ে একটাই, কোনভাবে জীবন পার করলেই হল।

নূপুর বলে দূর বোকা, কী বলিস? এভাবে ম্যাড়ম্যাড়ে কি জীবন চলে! ভাগ্যিস; নূপুরের কথা ধরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে সব জেনে রিমি কষ্ট পেলেও ভালই হয়েছে। আরেকটা সংসারও বেঁচে গেছে। ওদিকে ঐ কর্মকর্তার স্ত্রীও বেশ কয়দিন ঝামেলা করেছে তার সাথে ম্যাসেজটা নিয়ে। এখন হয়ত তারা সামলে নিয়েছে ব্যাপারটা। রিমিও যোগাযোগ করেছে তার স্ত্রীর সাথে। বুঝিয়েছে মেসেজটা ভুলে গিয়েছে। কোন সম্পর্ক কারও সাথে নেই। এটা কেবল ভুল বোঝাবুঝি। যদিও এটা মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না তবুও রিমি তা বিশ্বাস করাতে বাধ্য করেছে।

যেহেতু শিক্ষিত দুজনেই অবশেষে কর্মকর্তার স্ত্রী বুঝতে পারল মনটা বড় করলে কোনো সমস্যাই আসলে কিছু না। ভুল হতেই পারে। নারী-পুরুষ একসাথে থাকলে এমন এক-আধটু পাশাপাশি থাকলে এমন আশঙ্কা হতেই পারে। রিমিরও সংসার আছে জেনেছে। রিমি তার স্বামীর সাথেও কথা বলায় কর্মকর্তার স্ত্রীর সাথে। এরপরেই সব ঠিক। ঐ কর্মকর্তা ও রিমির স্বামী; দুজনেই ভাল মানুষ হওয়ায় দুটো সংসার বেঁচে যায়।

এভাবে কাটে দুই সপ্তাহ। রিমি ভুলতে পারে না সেই কাটানো সময়গুলো ফেসবুকে। চ্যাটিংয়ের কথা বারবার মনে পড়ে। তাদের দুজনের কথাগুলোতো মিথ্যে ছিল না। রিমির জীবনটা শূন্য কোন কারণে! কোন কারণে একাকিত্ব, হতাশা! হয়ত ঐ কর্মকর্তাও বুঝতে পেরেছিল রিমি অসুখী একটা কারণে। যা তার স্বামী বুঝতে পারছে না। রিমিও কাউকে বলতে পারছে না। রিমি আর কর্মকর্তা দুজনেই এখন নীরব। কেউ কারও সাথে কথা বলে না। রিমি নিজ থেকেই যোগাযোগ বন্ধ রাখে। কোনো অভিযোগ করে না।

এ প্রেমের কোনো নাম নেই। পরকীয়া রিমি ভাবে না। কেননা, ওদিকে সংসার আছে রিমি ক্লিয়ার ছিল না। কর্মকর্তা তাকে বলেনি স্পষ্ট করে। না জেনেই মনটা ভেসে যায় উত্তাল ঢেউয়ে। রিমি এখন তাকে ভোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আগে যা এত সিরিয়াস ভাবেনি, জানার পর বেশ মনে পড়ে তাকে কেন যেন! পুরুষরা কি এমন হয়? সংসার আড়াল করে তারা! রিমি নিজের কাছে নিজেই হেরে গেল যেন। এমনটা হওয়া উচিত হয়নি। রিমি মাঝেই মাঝেই কাঁদে এসব মনে করে। এটা কখনই ভুলতে পারবে না। এমন প্রেম হয় কি!