আপনালয়ে ফেরা, না-ফেরা

ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

মগ্নতার পাঠ

আপনালয়ে ফেরা, না-ফেরা

গোলাম মোর্তুজা ৯:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

print
আপনালয়ে ফেরা, না-ফেরা

প্রিন্স আশরাফের ‘আপনালয়’ পারিবারিক-সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসের শুরুতেই রয়েছে চমৎকারিত্ব- ‘রাত ৩ : ৪৫ এএম, ২ নভেম্বর, ২০৪৬ সাল। মাঝরাতে ফোন এলেই বুক কেঁপে ওঠে মোহিতের।’ এ বর্ণনার মাঝে বোঝা যায় লেখক কোনো বিষাদময় ঘটনার মাঝে প্রবেশ করছেন। ‘আপনালয়’ সময়ের দর্পণ। এক মহাকালের প্রতিচ্ছবি। উপন্যাসে, সবার মাঝে শুরু হয় ইন্দ্র দ্বন্দ্ব। ওঠে না সেখানে ছন্দ।

যৌথ পরিবার ভেঙে খানখান হয়। পরিবারের রসায়ন হয়ে যায় সংকুচিত। নগরজুড়ে শুরু হয় যৌথ পরিবার ভাঙনের খেলা। সবাই যে যার মতো হয়ে যায় একা। যাত্রা শুরু হয় একক পরিবারের। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বা একক পরিবারের সমস্ত মানব অনুভব করে এক নরম সুখের জ্বালা! পিতা-মাতাহারা, সংসার ছাড়া একেকজন হয়ে যায় একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের নাগরিক। হঠাৎ এলো এক কালো ‘ব্রিফকেস’।

বিষয়টি উপন্যাসটিকে অভিনবত্ব দান করেছে। ঔপন্যাসিক হিসেবে প্রিন্স আশরাফকে তুলে দিয়েছে উচ্চমার্গে। লেখক পবিত্র কোরআন শরীফের আয়াতের বর্ণনা করেছেন, ‘এই মাটি থেকে তোমাকে তৈরি করা হয়েছে, এই মাটিতে তোমাকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে, আবার এই মাটি থেকেই তোমাকে উত্থিত করা হবে।’

এমন বর্ণময় ও চিত্রময়তার ধারক, বাহক ও কথক মহান আল্লাহর প্রতি অনেকেরই মন রজ্জু হয়ে যেতে পারে। পাঠককে কিছু সময়ের জন্য পরকালীন চিন্তায় নিমগ্ন করিয়েছেন লেখক। ‘তিন ভাই যখন বাবার আপনালয় পশ্চাতে রেখে বেরিয়ে আসছে তখন ওদের চোখে চিকচিক করছে অশ্রু। আনন্দ অশ্রু।’ এ কথাগুলোর মাধ্যমে লেখক উপন্যাসের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

লেখক প্রিন্স আশরাফ ব্যক্তিচেতনার স্ফূরণ ঘটানোর পাশাপাশি সমাজচেতনতার এক দারুণ রূপ তুলে ধরেছেন। ঔপন্যাসিক ভাষা ব্যবহারে বেশ সচেতন। তবে ইংরেজি শব্দের প্রয়োগ সাধারণ পাঠককে চমকিত করলেও বানানে আরও যত্নবান হলে ভালো হতো।

উপন্যাসটি লেখকের নিপুণ মনীষার অন্তরালে স্নেহকাতর হৃদয়ের বহিঃপ্রকাশ। গার্হস্থ্যধর্মী এ উপন্যাসে ‘আপনালয়’-এর লেখক প্রিন্স আশরাফ সফল শতভাগ। আশা করি, উপন্যাসটি পাঠকের মণিকোঠায় থাকবে আজন্মকাল।