সদর ভাইয়ের অমর কাহিনি

ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

মগ্নতার পাঠ

সদর ভাইয়ের অমর কাহিনি

শিকদার শাহজাহান ৫:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

print
সদর ভাইয়ের অমর কাহিনি

ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসে ভরপুরের আখ্যান ‘সদর ভাইয়ের অমর কাহিনি’। কয়েকটি পর্বে বিভক্ত। চার্বাক সুমনের লেখা এ কাহিনির পরতে পরতে রয়েছে দমফাটা হাসি। বাম রাজনীতির নামে যারা বহুদিন ধরেই এদেশের স্বাধীনতাপূর্ব থেকেই চুষে খাচ্ছে সুখের মধু, যারা বামদলের নামে সুবিধার সকল দিকই গ্রহণ করে আসছেন তাদেরই প্রকৃত চরিত্রের চিত্রায়ন করা হয়েছে। কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই, শ্রমজীবীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই কত কিছুর নাম করে দিনের পর দিন সুবিধাভোগী বাম নেতাদের অসৎ চিন্তাকে সুনিপুণভাবে বিদ্রুপের মাধ্যমে যেন উঠে এসেছে এ রম্যগ্রন্থে।

লেখক সম্ভবত কোনো বাম সংগঠনেরই সক্রিয় সদস্য ছিলেন একদা। নইলে এমন তথ্য ও পদ্ধতি-পরিকল্পনা কীভাবে তুলে ধরা সম্ভব! সার্কাস দেখানো বাম দলগুলোর আসল চরিত্র কীরকম নোংরা ও দুর্গন্ধময় তা হয়ত তারা জানতে পারতেন। শিক্ষার্থীরা স্বর্ণালী সময়গুলো যখন এসব সংগঠনগুলোতে দেন- তখন সত্যি তারা কিছুই পায় না, বুড়ো কুবিদ্যায় ভরা নেতাদের ভাঁড়ামো মেশানো বিপ্লব নামক মিথ্যা বুলি ছাড়া। তরুণ সমাজ হয়ত এ গ্রন্থ পাঠের পর বুঝতে পারবেন- পেটমোটা স্থ’ুল জলহস্তির মতো এসব নেতার কথার ফাঁদে তাদের ক্ষতিটা কতটা বেশি হচ্ছে। আজ যাচ্ছে সরকারি দলের সঙ্গে ঐক্য করতে, কালকে যাচ্ছে এরা বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্যে! ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত যে অর্থ ছিল, উদ্দেশ্য ছিল, তা সবই আজ উল্টেছে, গণতন্ত্র নামক অদ্ভুত এক উট যেন চলেছে স্বৈরাচারিতার দিকে। এ অবস্থার পেছনে দায়ী, এদেশের বামপন্থী দলগুলো।

মজার বিষয় হলো- কিছুকাল পরপর বামপন্থী মাছের বাজার ভেঙে যায়। তারা প্রত্যেকেই মনে করেন তারা নিজেরা ঠিক, অন্যজন ঠিক নয়- পার্টির নিয়ম রক্ষা হচ্ছে না। এভাবেই এরা একের পর একদল ভাঙতে ভাঙতে আর দলে লোকই নেই। কেউ গেছেন ক্ষমতার লোভে সরকারের সঙ্গে, কেউ রয়েছেন বিরোধী দলের আশ্রয়ে এভাবেই বামপন্থী দলগুলো মেহনতি মানুষদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে।

লেখক সুমন সেসব বিষয়কেই উপজীব্য করে লিখেছেন সদর ভাইয়ের অদ্ভুত রম্যকাহিনি। রম্য জগতে সম্ভবত এদেশে এমন মজার হাস্যরসের মধ্য দিয়ে আর কখনও বামপন্থী ভাঁড় নেতাদের চরিত্রের দিকগুলো প্রকাশ পায়নি। বলতে হবে লেখক এক্ষেত্রে প্রথম, যিনি সাহসের সঙ্গে নানাপন্থী লোকদের চরিত্রের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। সদর ভাইয়ের চরিত্রে সদরুদ্দিন। এ সদর ভাইকে নেতাজী বলা হয়েছে- ভুল করে এ ভণ্ডস্থুল দেহের ভাঁড়কে কেউ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ভাববেন না, এ চরিত্রটি এদেশের বামপন্থী দলগুলোর দিকে তাকালেই বুঝবেন কে তিনি! এ সদর ভাইয়ের কাহিনি সত্যিকারের একটি চরিত্র, যার ভেতর নেতা নেই- রয়েছে মিথ্যুক এক অভিনেতার মুখোশে লোভী বুর্জোয়া লুকিয়ে।