কার্টুনিস্ট হুমায়ূন আহমেদ

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কার্টুনিস্ট হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন শফিক ২:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

print
কার্টুনিস্ট হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার ছেলেবেলা’ ও ‘কিছু শৈশব’ পইড়া প্রথমে বিশ্বাস হইতে চায় না এইরকম ঘটনাবহুল কারো জীবন হইতে পারে। কিন্তু উনার ঘটনাগুলা লক্ষ্য করলে বোঝা যায় এইগুলা ঘটতেও পারে। মূলত এতো সুন্দর বর্ণনা দিয়া বই দুইটা লিখছেন বিশ্বাস না কইরা থাকা যায় না।

উনার শৈশব কাটছে সিলেটের মীরাবাজারের গাছগাছালিতে ভরপুর রহস্যময় এক বাড়িতে। সেই বাড়িতেই আনাচে-কানাচে ঘুইরা বেড়াইতেন ছোট হুমায়ূন। উনার ধারণা ছোটবেলার এইসব ঘটনাই তাকে লেখক হইতে সাহায্য করছে।

ক্লাস থ্রির একটা ঘটনা, কার্টুনিস্ট হওয়ার কাহিনীটা বলব। তার বন্ধু ছিল শংকর। শংকরের মা ঘোষণা করলেন, যদি সে পরীক্ষায় পাস করতে পারে তাইলে একটা ফুটবল কিনা দেবেন। ছোট হুমায়ূন ও তার বন্ধুর স্বপ্ন একটা ফুটবল দিয়া খেলা। তাই পরিশ্রম করা শুরু করলেন দুইজনে। মূল কথা হইতেছে শংকরকে পাস করাইতে হবে। তাই হুমায়ূন নিজে মাস্টারি শুরু করলেন একমাত্র ছাত্র শংকরের। মাস্টারি করতে হইলে তো আগে নিজে বুইঝা পরে ছাত্ররে বুঝাইতে হবে। তাই হুমায়ূন খুব মনোযোগ দিয়া বুইঝা ছাত্ররে পড়াইতে লাগলেন। পরীক্ষার পরে রেজাল্ট দিল। হুমায়ূন প্রথম স্থান অধিকার কইরা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি আসলো ফুটবল না পাওয়ার দুঃখে। পরে অবশ্য শংকরকে উত্তীর্ণ করা হইছিল এবং তারা ফুটবলও পাইছিল।

কার্টুনিস্টের ঘটনাটা আরো মজার। ছোটবেলায় উনার সঙ্গে একজন কার্টুনিস্টের পরিচয় হইছিল। সেই কার্টুনিস্টের চেহারা অবিকল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো! লেখকের প্রধান কাজ ছিল, কার্টুনিস্ট লোকটির আশপাশে ঘুরঘুর করা। সুযোগ পাইলেই ছোট্ট হুমায়ূন টুক কইরা কার্টুনিস্টের অফিসে ঢুইকা পড়ত। নতুন কী আঁকা হইল, খুব আগ্রহ নিয়ে দেখত। ছোট্ট হুমায়ূনকে দেখলেই কার্টুনিস্ট রেগে গিয়া বলতেন, ‘যা বললাম, থাপ্পড় খাবি!’

তাতেও লেখকের আগ্রহে ভাটা পড়ে না। বিরক্ত হইয়া একসময় কার্টুনিস্ট নিজেই ধমক দেওয়া বন্ধ কইরা দিলেন। অফিসে ঘুর ঘুর করলেও কিছু বলতেন না। এমনকি ছবি আঁকার ফাঁকে ফাঁকে একটু-আকটু গল্পও করতেন।

একদিন কার্টুনিস্ট জিজ্ঞেস করলেন, ‘খোকা, বড় হলে কী হবে?’

হুমায়ূন বলল, ‘ব্যারিস্টার।’ আসলে ছোটবেলায় ব্যারিস্টার হওয়ার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না। তার ইচ্ছা ছিল আইসক্রিমওয়ালা হওয়ার! কিন্তু বড় মামা শিখায়া দিছিলেন, ‘বড় হয়ে কী হবে?’ এই প্রশ্নের উত্তরে ব্যারিস্টার বলতে হয়।

তো কার্টুনিস্ট বলল, ‘ছবি আঁকতে পারো?’
‘না।’
‘শিখবে?’
‘হুঁ।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে। ব্যবস্থা হবে।’
এরপর একদিন কার্টুনিস্ট ছোট্ট হুমায়ূনের হাতে একটা নীল পেনসিল দিয়া বললেন, ‘বড় একটা গোল্লা আঁকো।’
হুমায়ূন আঁকল।
‘গোল্লার ভেতর দুইটা ছোট গোল্লা আঁকো।’
তাও আঁকা হলো।
সব শেষে কার্টুনিস্ট বললেন, ‘এখন দুই ছোট গোল্লার ভেতর দুইটা ফোঁটা দাও। তারপর দেখ কী হয়েছে?’

ফোঁটা দেওয়ার পর ছোট্ট হুমায়ূন অবাক হইয়া দেখল, একটা ছেলের মুখ আঁকা হইয়া গেছে! ছেলেটা বড় বড় চোখ কইরা তাকায়া আছে। কার্টুনিস্ট কাগজটা নিয়া দ্রুত কয়েকটা টান দিলেন, বালকের মুখ হয়ে গেল বেড়ালের মুখ। বেড়ালটা লেজ উঁচা কইরা বইসা আছে!

রবীন্দ্রনাথের মতো দেখতে এ মানুষটাকে নিয়াই পরে হুমায়ূন আহমেদ ছোটদের জন্য একটা উপন্যাস লিখছিলেন। উপন্যাসের নাম বোতল ভূত।