টুকরো স্মৃতিতে হুমায়ূন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টুকরো স্মৃতিতে হুমায়ূন

সুমনকুমার দাশ ২:৩৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

print
টুকরো স্মৃতিতে হুমায়ূন

মরিলে কান্দিস না আমার দায় আমার প্রিয় একটি গান। সুনামগঞ্জের ছাতকের প্রয়াত মরমি কবি গিয়াসউদ্দিন আহমদ রচিত এ গানটির আলোচনা-প্রসঙ্গেই মনে পড়ে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের (১৯৪৮-২০১২) কথা। কারণ, তিনি এ গানটি অত্যন্ত পছন্দ করতেন। প্রায়ই তিনি এ গান শুনতেন।

মৃত্যুর কিছুদিন আগেও হুমায়ূন তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে দিয়ে সুদূর বিদেশ-ভুঁইয়ে নিউইয়র্কে বসে বাদ্যযন্ত্রহীন কণ্ঠে গানটি গাইতে অনুরোধ করেছিলেন। স্বামীর অনুরোধ রক্ষা করতে গিয়ে শাওন অত্যন্ত দরদ দিয়ে গানটি গেয়েছিলেন, আর চোখ মুদে মাথা দুলিয়ে সে গান শুনছিলেন আর কাঁদছিলেন হুমায়ূন- যে দৃশ্যের একটি ভিডিও ইউটিউবে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, এরও আগে হুমায়ূন ২০০২ সালে তার হিমুবিষয়ক সিরিজের চলে যায় বসন্তের দিন শীর্ষক উপন্যাসের উৎসর্গলিপিতে ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’ গানটিকে ‘মরণ-সংগীত’ অভিধায় চিহ্নিত করেছিলেন। এমনকি হুমায়ূন তার মৃতদেহের পাশে বসে স্বজনদের এ গানটি গাওয়ার অসিয়ত করেছিলেন। হুমায়ূন মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি দৈনিক পত্রিকা তার মৃত্যুসংবাদ লিখতে আট কলামজুড়ে গিয়াসউদ্দিন রচিত গানের পঙ্ক্তি ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’ বাক্যটিই ব্যবহার করেছে। গ্রামীণ এক গীতিকবির পঙ্ক্তি ব্যবহার করে প্রধান শিরোনাম করার এমন বিষয়টি যেমন অভিনব, তেমনই এটি অজপাড়া গাঁয়ের এক কবির সৃষ্টির প্রতিও এক ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন।

সেই শ্রদ্ধা হুমায়ূন আহমেদও জীবদ্দশায় একাধিকবার করেছিলেন। তিনি নানা সময়ে আলাপচারিতায় এ গানটির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কয়েকটি স্মৃতির মধ্যে একটি অনুষ্ঠানের গল্প বলা যেতে পারে। ২০০৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের রিকাবিবাজার এলাকার তৎকালীন এম. সাইফুর রহমান মিলনায়তনে (বর্তমানে কবি নজরুল অডিটোরিয়াম) গিয়াসউদ্দিন আহমদের শেষ বিয়ার সানাই (২০০৫) গীতিসংকলনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে হুমায়ূন আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছিলেন।

সে অনুষ্ঠানে আবেগমিশ্রিত কণ্ঠে হুমায়ূন বলেন, ‘সময় আসবে। আমি মারা যাব। আমার পরিবারের সবাইকে বলে রেখেছি, আমি মারা যাওয়ার পরপরই কোরআন শরিফ, সুরা ইউনুসের আগেও যেন বাজানো হয় ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’ গানটি। আমার ঘরোয়া সব অনুষ্ঠান শুরু হয় হাসন রাজার ‘বাউলা কে বানাইল রে’ গানটি দিয়ে আর শেষ হয় ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’ গানটি দিয়ে।’