নীলি চেরকোভস্কির কবিতা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নীলি চেরকোভস্কির কবিতা

আরশাদ সিদ্দিকী ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

print
নীলি চেরকোভস্কির কবিতা

নীলি চেরকোভস্কি। জন্ম লসএঞ্জেলেসে। ১৯৪৫ সালে। পড়াশোনা লসএঞ্জেলেস স্টেট কলেজে। প্রথম কবিতার বইটি বেরোয় ১৯৯৬ সালে। প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ‘জানোয়ার, সময়ের বিপরীত পাঠ, ক্যানিয়নের উজান থেকে এবং কাক ও আমি’। গত বছর পেয়েছেন জ্যাক মুলার কবিতা পুরস্কার।

বুদ্ধ
বুদ্ধ, তুমি কি পাথরের ওপর
আসন গেড়ে বসেছিলে?
গাছগুলো মেঘ ছুঁয়েছে
বিস্তীর্ণ তৃণভূমি থেকে
হরিণেরা খুঁটে নিচ্ছে ঘাস
সূর্যালোকের অস্পষ্ট রেখা ছুঁতে
কীভাবে তুমি একটি হাত
না বাড়িয়ে থাকতে পারো?

বুদ্ধ তোমার মাথার
ভেতর যে দেবতা
নড়ে চড়ে ওঠেন,
মহান যোদ্ধা
যুদ্ধের আগে
ধনুর্বাণ বাঁকা করতে চায় না,
বোধহয় বৃষ্টির জন্য
অপেক্ষাই ভালো হবে
মাংসপি- বিদীর্ণ করে
তাকে পরাস্ত করার চেয়ে

বুদ্ধ তুমি
গোটা একটা বাগান,
লেবু, এভোকাডো, ফার্নসহ
নৃত্যরত আনন্দিত পরিপাটি ফুল
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বৃক্ষের সমারোহ
বুদ্ধের স্বপ্নের শিশুদের
যখন প্রতিবেশী গোলাপে শোভিত করছে

গাড়ি চকচকে করে দিচ্ছে
নতুন টায়ার কিনে আনছে
ভীষণ বেগে রাজপথে নামতে

বুদ্ধ তুমি
শিশুদের স্বপ্নে বিভোর
আশ্রয় চাইছো,
দশকের পর দশক ক্ষুধার্ত,
দীর্ণ প্রাচীন পাথরে বসে
জাহান্নামে যাও,
ঝেঁটিয়ে আকাশ সাফ করো


একজন কবি
একজন কবি নিশ্চিন্ত মনে
ধীর পায়ে এগোলেন
২৬১ এভিনিউ ধরে
মাথায় টুপি, পরনে নিখুঁত
পরিপাটি লিভাইস
কবিই সর্বৈব

যিনি চেয়েছেন, শুধুই কবি হতে
আর বই বিক্রেতা হতে
আর প্রকাশক হতে
অন্য কবির, শিল্পীর, অনুবাদকের
সেই একজন কবি, যে লিখছে
১০০১টি ভয়াবহ শব্দ-
ফিদেল কাস্ত্রোর জন্য

জিজ্ঞাসা করো নেরুদা এবং দান্তেকে
জিজ্ঞাসা করো আমির বারাকাকে
এবং দিয়ানেদিপ্রিমাকে

জেগে উঠুন উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
এডেনাসেন্ট ভিনসেন্ট মিলায়
কথা বলুন
অ্যালেন গিন্সবার্গের সাথে
যিনি বলবেন
‘সেই একজন কবি, যে কখনও
অন্য কিছু হতে চায়নি’

শুনো লি পো কে
যিনি পান করতেন মোহিনীচাঁদ
আর সময়ের কাপে চুমুক দিতেন

কবিই বিশুদ্ধ এবং সহজ
শুনো এপোলিনিয়রকে
এবং জাঁক প্রিভারকে
জ্যাক হার্সম্যান হয়তো বলতে পারেন,
‘সে এক মহান হিরনপাখি
উড়তে চেয়েছে পাহাড়ের ওপর’

সে একজন কবি
বিস্ময় তাড়িত অস্থির
তরুণ লেখকদের প্রথম বারের মতো
পড়তে বলো ‘অ্যাকোনী আইল্যান্ড... ’


তোমার জন্য
তোমার চুলের জন্য
বুনোফুল, তৃণপ্রমা আর হয়তো
একটা মৌমাছি চলে গেছে
পাগলের মতো

কেবল একটা মৌমাছি হতে
আমাদের কেউ কেউ
প্রচুর মধু খুঁজে পেতে
মাটির হাঁড়ি হাতড়াচ্ছিল
সাইকেডেলিক ধাঁধায়

আমরা সুড়ঙ্গ খুঁড়তে খুঁড়তে
চলে এসেছি ৯০-এ
তারার মেলায়
ক্লান্তিকর সড়কে

যেখানে কেউ আমাদের বিশ্বাস করে না
আমরা টিকেছিলাম গোলাপ চারায়
জলদিতে, আর বীজ ছিটাতে
আমাদের বাগানে

একটি খঞ্জনার জন্য
আশার সীমানা সাজিয়েছিলাম
সবকিছুকে অর্থপূর্ণ করতে