ঘ্রাণ ও অন্যান্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঘ্রাণ ও অন্যান্য

আনিফ রুবেদ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

print
ঘ্রাণ ও অন্যান্য

বেরিয়ে এসো
আমি সারারাত তারা গুনতে পারব না, একথা তুমি নিজেও জান অথচ সে কাজই দিয়েছ আমাকে। তারাগুলো সারারাত লুকোচুরি খেলে আমার সঙ্গে, নিজেদের সঙ্গে, কী করে গুনব? তারারা সারারাত সাজুগুজু করে। বাথরুম সারে। কী করে গুনব এসব নগ্ন তারাদের? আমার বুঝি লজ্জা করে না? তারা বুঝি লজ্জা পায় না? আর ঠিক তুমি হাসি হাসি মুখে ঘুমুচ্ছ। হারিকেনের কাচ মুছে, আলো জ্বেলে বসে আছ ইয়ারকির আড়ালে। আলোগুলো ইয়ারকি মারতে চায় আমার সঙ্গে। আমাকে তারা গোনা থেকে মুক্তি দাও। হারিকেনের আলোদের ইয়ারকি মারা থেকে মুক্তি দাও। বেরিয়ে এসো ইয়ারকির আড়াল থেকে।

পাগলা ফুলের ঘ্রাণগান
হাটে হাটে সাপ খেলা দেখাত সাপওয়ালা। নিজ থেকে লোকটা ছোবল খেত। নাগিনীর খেলা। সুন্দরী নাগিনীর খেলা দেখতাম আমরা। দারুণ উত্তেজনা। আমাদের একটা হাত আর একটা হাতে ছোবল মারত। আর সাপুড়ে বেশ বীরভাব নিয়ে সুন্দরী সাপের ছোবল খেয়ে ঘর্মাক্ত হয়ে উঠত। এসব বড় বড় স্মৃতিগুলো খুব ছোটবেলার।

বড় হওয়ার পর আরও কত খেলা দেখেছি, কত খেলা খেলেছি, শুনেছি কত খেলার কথা। এই যেমন, প্রজাপতি খেলা, মাছ-পুকুর খেলা, ইঁদুর-বিড়াল খেলা, যুদ্ধ-শান্তি খেলা, জন্ম-মৃত্যু খেলা। বড়বেলার স্মৃতি বড়ই ছোট। প্রাণ জুড়ে থাকে না, প্রাণ ভরে থাকে না। এসব খেলা প্রাণ কামড়ে ধরে থাকে। রক্তাক্ত করে। এসব খেলায় প্রাণ ঘেমে ওঠে, রক্ত কেঁপে ওঠে জ্বরে।

বিরাট ফুলবাগানের পাশে আমাদের ছোট বাড়ি। জানালা খুলতে ভয় পেতাম। কারণ, ওই বাগানের করবীগাছে প্রতি বছরই একটি করে পাগল ফুল ফুটত। ওই পাগল ফুলের করুণ কান্না আমি সহ্য করতে পারতাম না।

ওই পাগল ফুল তার গানঘ্রাণ আমাকে দান করে চলে গেছে।