শিল্পের জন্য শিল্পী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

সুলি প্রুদোম

শিল্পের জন্য শিল্পী

রাশেদ আহমদ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

print
শিল্পের জন্য শিল্পী

কবি, দার্শনিক ও ফরাসি একাডেমির সদস্য সুলি প্রুদোম। প্রকৃত নাম রনে আরমঁ ফ্রাঁসোয়া (সুলি) প্রুদোম। ১৮৬৫ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘স্টানসান অ্যাট পোয়েমস’ প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটি দিয়েই তিনি তদানীন্তন সাহিত্য সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। প্রুদোম হচ্ছেন সেই সৌভাগ্যবান মানুষ, যিনি ১৯০১ সালে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার প্রথম দিকের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে ‘লেস ইপরিউভিস’ (১৮৬৬) এবং ‘লেস সলিটিউড’ (১৮৬৯) কাব্যগ্রন্থ দুটিও প্রেম ও প্রেমের করুণ পরিণতিকে উপজীব্য করে রচিত। লেস সলিটিউড গ্রন্থটি পরবর্তী সময়ে অমর মহাকাব্যের মর্যাদা পায়। ১৯০৭ সালের আজকের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

অবশ্য সুলি প্রুদোমের সাহিত্যচর্চার দিক পরিবর্তন হয় চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে। ১৮৭০ সাল ছিল তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের বছর। এ বছর মা, বড় বোন এবং যে চাচার কাছে তিনি থাকতেন তারা সবাই একে একে মৃত্যুবরণ করেন। প্রুদোম হয়ে পড়েন সম্পূর্ণ স্নেহহীন। এ বছরই তিনি ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে রচনা করেছিলেন ‘ইমপ্রেশনস অফ ওয়ার’ নামক কাব্যগ্রন্থ। ১৮৭০ সালেই মাত্র একত্রিশ বছর বয়সে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে প্রুদোম চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান, যদিও তার লেখনী সচল থাকে।

এ সময় তিনি মানব-মানবীর স্বাভাবিক প্রেম বা অতৃপ্ত বাসনার জগত ছেড়ে বিজ্ঞান ও ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করা ও সাহিত্যচর্চাকেই একান্ত আপন করে নেন। আবেগপ্রবণ প্রেম ও কল্পনা জগত থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যাওয়ার পর বিজ্ঞান ও ধর্মবিষয়ক বিতর্কই তার কাছে প্রধান পাঠ ও রচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। তবে তিনি এ সময় দর্শন ও মনোবিজ্ঞানের উপরেও অনেক বই রচনা করেন।

ফ্রান্সের আলোচিত সাহিত্য আন্দোলন ‘পার্নাসাস’-এর তিনি ছিলেন অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় সদস্য। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘শিল্পের জন্যই শিল্প’-এই মতবাদ মেনে নেয়া। সুলি প্রুদোমের বিশ্বাস ছিল, কাব্যচর্চা থেকে রোমান্টিকতার আধিক্য বিসর্জন দিয়ে সেখানে মানুষের সাধারণ দর্শন প্রতিস্থাপন করা। মানুষের জন্য একটি সুস্থ ও মঙ্গলজনক শৈল্পিক পরিসর বিনির্মাণ করা।

তার জীবনের শেষ রচনা ছিল ‘দ্য সাইকোলজি অফ ফ্রি উইল’ যা ১৯০৬ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯০৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তারিখে প্যারিসের দক্ষিণে অবস্থিত নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। মৃত্যুর আগে নোবেল পুরস্কার থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ দিয়ে একটি অনুদানমূলক পুরস্কারের ব্যবস্থা করে যান। এটি নবীন লেখকদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য প্রদান করা হয়।

সুলি প্রুদোম
১৬ মার্চ ১৮৩৯
৬ সেপ্টেম্বর ১৯০৭