যুগোপযোগী ভূমিকায় যুগন্ধর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

যুগোপযোগী ভূমিকায় যুগন্ধর

শফিক হাসান ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

print
যুগোপযোগী ভূমিকায় যুগন্ধর

শুধু বইয়ের আলোচনাকেন্দ্রিক একটি ছোটকাগজ প্রকাশ অবশ্যই বড় খবর! ষাণ্নসিক হিসেবে প্রকাশিত ‘যুগন্ধর’ ব্যতিক্রমী পথেই হাঁটছে। সম্পাদক তুখোড় কবি ও তথ্যচিত্র নির্মাতা দুই বাংলার পরিচিত মুখ। প্রায়ই বাংলাদেশের কাগজে লক্ষ্য করা যায় তার প্রতিভাদীপ্ত উপস্থিতি। কবি হিসেবে খ্যাত হলেও সম্পাদক পরিচয় ঝাঁকুনি দেবে অনেককেই!

ছোট কাগজের প্রকাশনায় আশাবাদের বদলে আশঙ্কাই জাগে বেশি; ২/১টি সংখ্যার পর মৃত্যুবরণ করে এমন নজির ভূরি ভূরি। ‘যুগন্ধর’কে ঘিরে আশঙ্কাটা আরও বড়- কারণটা বিষয়ভিত্তিক ও অফট্র্যাকের কাজ। নিজেকে ছাড়া অন্যকে দেখাতে পান, তাদের সৃষ্টিকর্ম স্বীকার করে নেওয়ার মানসিকতা আছে এমন সাহিত্যিকের সংখ্যা নগণ্য। একটি বই নির্বাচন করে নির্মোহভাবে কাউকে দিয়ে আলোচনা করানো, ছেপে পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার কর্মযজ্ঞ চাট্টিখানি নয়। এর সঙ্গে জড়িত অর্থ, সময়, নিরন্তর অধ্যবসায় ও যোগাযোগের বিষয়।

চলতি সংখ্যায় স্থান পেয়েছে দুটি ক্রোড়পত্র- নব্বই দশকের উজ্জ্বল প্রতিনিধি কথাশিল্পী অরিন্দম বসু ও কবি যশোধরা রায়চৌধুরী। দুই শিল্পীর সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই বাংলার লেখকরা। অরিন্দম বসু সৃজিত সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেছেন- অনিতা অগ্নিহোত্রী, রামকুমার মুখোপাধ্যায়, রবিশংকর বল, বিশ্বজিৎ পাণ্ডা, মানস সরকার, ধীরাজ বোস ও অঞ্জন আচার্য।

যশোধরা রায়চৌধুরীর সৃজন-কর্ম নিয়ে আলোচনা করেছেন- মজিদ মাহমুদ, মুজিব ইরম, গিরীশ গৈরিক, বহতা অংশুমালী, সুমিতা মুখোপাধ্যায়, অনুষ্টুপ শেঠ ও রাকা দাশগুপ্ত। সংযুক্তিতে স্থান পেয়েছে আলোচ্য দুই শিল্পীর গ্রন্থপঞ্জি। দুই শিল্পীকে নানা রঙ, নানা আলোয় দেখার এ আয়োজন শ্রেষ্ঠ পাওনা। গ্রন্থালোচনা, ‘খতিয়ে’ দেখার প্রচেষ্টা লেখক-পাঠক উভয়ের জন্যই মঙ্গলকর। পাঠক অনেক সময়ই ভুলভাল রায় দিতে পারে, প্রশংসা কিংবা নিন্দায় মাতলে লেখকেরই ক্ষতি। মনস্বী সমালোচকের আলোচনায় লেখক বুঝতে পারেন নিজ ভিত্তিভূমি- কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। পাঠকও পায় নিজস্ব পাঠ ও বোধ ঝালাই করার সুযোগ।

যুগন্ধরের নিয়মিত আয়োজনে লিখেছেন আরও লেখক। অমিতাভ বিশ্বাসের বাংলা নাটক : উদ্বাস্তু জীবন; কাজী তাজউদ্দিনের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নাট্যচর্চা বই দুটি নিয়ে লিখেছেন মহ. কুতুবুদ্দিন ও সঞ্জীব মান্না। এ দুই আলোচনার শেষাংশে বই ও লেখকের নামের পরিবর্তে ভুলক্রমে মুদ্রিত হয়েছে লেখার শিরোনাম ও আলোচকের নাম।

জগন্ময় পাত্রের গবেষণাগ্রন্থ মঙ্গলকাব্যের বিচিত্র-চরিত্র নিয়ে লিখেছেন উত্তম পুরকাইত। শামল সেন ও আয়শা খাতুনের উপন্যাসে আলোক প্রক্ষেপণ করেছেন আবদুস শুকুর খান, মোজাফ্ফর রহমান। গল্পগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন- বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ সামন্ত, গৌর কারক, শতদল দেব ও হামিরউদ্দিন মিদ্যা।

একক কাব্যগ্রন্থ নিয়ে লিখেছেন- বিদ্যুৎ বিহারি, সৈয়দ কওসর জামাল ও লক্ষ্মী পাল। একাধিক কাব্যগ্রন্থ নিয়ে যৌথ আলোচনা করেছেন- অশোক চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ রায়, অদীপ ঘোষ ও নৃপেন চক্রবর্তী। এ ছাড়া বিবিধ বিষয়ের কয়েকটি বইয়ের আলোচনা করেছেন- প্রবীর ভৌমিক, প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী, রাণা গুপ্ত ও তরুণ হিংস মহাপাত্র।

সম্পাদক : স্বরূপ মণ্ডল, প্রচ্ছদ : দেবাশিস সাহা
প্রকাশকাল : জুলাই ২০১৯ (বর্ষ ২৪, সংখ্যা ২)।
মূল্য : বাংলাদেশ-২২৫
ভারত- ১৭৫ টাকা