চ্যাপলিন তুমি আজও

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

চ্যাপলিন তুমি আজও

হাসান সাইফ ৪:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯

print
চ্যাপলিন তুমি আজও

১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে দুজন পৃথিবী বিখ্যাত লোকের জন্ম হয়েছিল। অবশ্য এদের মধ্যে একজনকে বিখ্যাত না বলে কুখ্যাত বলাই শ্রেয়। দৈহিক গড়ন ছাড়া এই দুজনের মধ্যে আর কোনো সাদৃশ্য ছিল না। হ্যাঁ, আরেকটা খুব বড় সাদৃশ্য ছিল দুজনের মধ্যে, সেটা হল তাদের গোঁফ। একজন ভুবনখ্যাত চলচ্চিত্রকার এবং অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন, আর আরেকজন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের রূপকার কুখ্যাত এডলফ হিটলার। তার সময়ে হিটলার ছিলেন বিরাট খ্যাতিসম্পন্ন। সে তুলনায় চ্যাপলিন তো ছিলেন নিছক ছেলেমানুষ, তার নিজের ভাষায় ‘কিড’ মাত্র।

হিটলারের হিট-লিস্টের শুরুর দিকেই ছিলেন চার্লি চ্যাপলিন। কারণ তাকে ব্যঙ্গ করে ১৯৪০ সালে চ্যাপলিন নির্মাণ করেছিলেন তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘দ্য গ্রেট ডিকটেটর’। এই চলচ্চিত্রে হিটলারের প্রতিরূপ হিসেবে দেখানো হয়েছে টোমানিয়া নামক দেশের হিংকেল নামের মাথামোটা ক্ষমতালোভী অত্যাচারী এক শাসককে। অবশেষে যার অনেকটা বলতে গেলে পরাজয়ই ঘটে একজন দরিদ্র ইহুদি নাপিতের কাছে। হিংকেল এবং ইহুদি নাপিত দুটি চরিত্রেই চ্যাপলিন নিজে অভিনয় করেছিলেন।

বেকারত্ব ও করপোরেট পুঁজিবাদের শোষণ নিয়ে ১৯৩৬ সালে চ্যাপলিন নির্মাণ করেন তার অনবদ্য চলচ্চিত্র ‘মডার্ন টাইমস’। নামের মধ্যে দিয়েই তিনি যেন ব্যঙ্গ করেছেন আধুনিক সময়কে। যে আধুনিক সময়ে পৃথিবী হওয়া উচিত ছিল বেকারত্ব, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত; সেই আধুনিক সময়েই পুঁজিপতিদের দৌরাত্ম্যে যখন তখন শ্রমিক ছাঁটাই হয়, বন্ধ হয়ে যায় মিল-কারখানা, শ্রমিকদের মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ।

ওদিকে সিনেমার প্রধান চরিত্র ট্র্যাম্পকেও (চ্যাপলিন নিজে) বারবার পড়তে হয় পুঁজিবাদের জাঁতাকলে-মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে, জেলে যেতে হয়, কাজের অভাবে ঘুরতে হয় পথে পথে। এক পর্যায়ে তার সাথে পরিচয় হয় সেই নিহত শ্রমিকের মেয়ের। দুজনের ভাগ্যই একই সুতোয় গাঁথা! এই সিনেমার শেষেও শুভ আগামীর ইঙ্গিত দিয়েছেন চ্যাপলিন। সিনেমার শেষ দৃশ্যে ট্র্যাম্প আর তার সঙ্গিনী হাতে হাত রেখে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলে সূর্যোদয়ের দিকে।

‘মডার্ন টাইমস’ আর ‘দ্য গ্রেট ডিকটেটর’ চলচ্চিত্র দুটির কারণে পুঁজিবাদী আমেরিকা চ্যাপলিনকে কমিউনিস্ট আখ্যা দেয়। চ্যাপলিনকে বাধ্য হয়ে আমেরিকা ছাড়তে হয় একসময়। তবে চ্যাপলিন বারবার বলেছেন, তিনি কমিউনিস্ট নন, হিউম্যানিস্ট; তিনি কোনো মতবাদ বোঝেন না, বোঝেন মানবতা।

আজও চ্যাপলিন আগের মতোই প্রাসঙ্গিক। পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী শোষণের এই কালে চার্লি চ্যাপলিন আজও তাৎপর্যপূর্ণ। তার চলচ্চিত্র মানুষকে উজ্জ্বীবিত করে, মানুষের ভীতিকে দূর করে দেয় অট্টহাসির ফুঁৎকারে। কালে-কালান্তরে চার্লি চ্যাপলিন তাই মানুষের সংগ্রামের এবং স্বপ্নের সঙ্গী।