প্রেমের বেলা নেই

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬

গল্প

প্রেমের বেলা নেই

রকিবুল হাসান ২:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

print
প্রেমের বেলা নেই

তোমাকে পানশী নৌকার ছৈয়ে বসিয়ে ভরাট নদীর আষাঢ়ে যৌবন দেখেছি। তুমি সেদিনই শিখিয়ে দিয়েছিলে মাতাল তৃষ্ণা কতটা পাগল হয়ে আছড়ে পড়ে ঢেউয়ের ঠোঁটে। কবিতার শব্দ বর্ণ ঘ্রাণ সেদিন কী সুনন্দা শাড়িতে জড়িয়েছিল আমাকে। সেই মুগ্ধতা আজো তীব্র থেকে তীব্রতর। তুমিও তাই। তুমি তো কবিতা। প্রথমবেলার অপ্রতিরোধ্য চুম্বনের শাণিত স্পর্ধা তোমার ঠোঁটের কোষে কোষে, যে দস্যুপনা সুন্দরের শিরোনাম হয়ে উঠেছিল, তোমার সলজ্জতা ভেঙে যেখানে ফসলের গল্প জমেছিল, সেদিন আষাঢ় নেমেছিল হৃদয়ের লেনদেনে শরীরী কম্পনে শরমভাঙার অন্যরকম কবিতা হয়ে। তুমি কবিতাই রয়ে গেলে। পানশী নৌকা ঢেউয়ে ঢেউয়ে ঢেউ ভেঙে কতটা নদীপথ গিয়েছিল, সে হিসাব আজ পুরনো, তুমি রয়ে গেছো নতুনই- তুমি পুরোটাই এসেছিলে হৃদয় আর দেহলতায়। শেষ বেলাতেও তাই।

বুকের নদীর পানশীতে তোমাকে নিয়ে ঢেউখেলা যৌবনভাঙার আষাঢ়ে বিলীন হই দুজনে-শেষবেলা বলে আমাদের কিছু নেই-প্রথমবেলাতেই তৃষ্ণার রোদে আজো রাতভাঙি বুকে নিয়ে তোমার সুঘ্রাণ নিঃশ্বাস। গতদিনে কবিতারা যেভাবে ভারি নিঃশ্বাসে বুক বেঁধেছিল নিজেরা আষাঢ় হয়ে-রাত তখন আলো হয়ে জ্বলেছিল আমাদের প্রেমে। তোমার গ্রীবায় কবিতালতিকায় বেহিসেবি যৌবন দিয়েছি চিরকালের করে। তুমি তাকে কবিতা করে সঙ্গমে জাগো আষোঢ়ে। বৃষ্টি যেভাবে ভারী ফোটায় ফোটায় মাটির বুকে নিজের নাম লিখে নেয়, তোমার অদ্ভুত সর্বসুন্দরে আমার দুচোখের গহিনতীরদৃষ্টি লিখে নেয় আমার নাম। চোখের চামচে আমি পান করি তোমাকে পুরো জীবনবেলা।

এসো নত হই ধ্যানে গভীর প্রেমে-এসো লিখে নিই দেহকাব্য আর সম্পূর্ণের শ্রেষ্ঠ কবিতা-এসো নত হই আকণ্ঠ তৃষ্ণায়- অধরা সুধাপানে ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়ি শরম ভাঙার শরমহীন সুন্দরে।

তোমাকে জীবনের পানশী নৌকায় নিয়ে আজও জীবননদী ভেসে যাই-তৃষ্ণাঅগ্নিতে- নিজেকে তোমাকে যত বেশি করে দিই- যত বেশি করে তোমাকে পাই- মনে হয় কিছুই হয়নি পাওয়া- আরো বেশি করে পাবার বাসনা জ্বলে আগুনবুকে।

এসো নত হই ধ্যানে-ভালোবাসি পাগলাটে আষাঢ় যেভাবে কর্ষণে ভালোবাসে মাটি- প্রথমবেলা শেষবেলা বলে কিছু নেই- অগ্নিচুম্বনে অনন্তরাত্রি আলো ভরাবুকের ভেতর বুক মিশে দাও। কাঁচাচর যেভাবে নিঃস্ব হবে বলে জেগে থাকে ঢেউয়ের প্রতীক্ষায়। আষাঢ়ে ঝড়-ঝাপটা কাঁচাঠোঁটের নেশার মতো পাগলবৃষ্টি-ভাসিয়ে নিয়েছে আমাদের অনন্ত নেশার অন্ধকারের ভেজা মেঘে। তুমি বললে শেষে এই দেহকাব্যখানি কতো যত্নে আদরে সুন্দরের উপমায় লিখেছি তোমার করে- পাঠ কর মুগ্ধতায়- পান করো ভাঁজে ভাঁজে লুকানো উপমা অনুপ্রাস উপমা অলঙ্কার।

জীবননদীর পানশিতে তোমাকে নিয়ে অনন্ত তৃষ্ণা ও ধ্যানে ভেসে চলেছি-ঢেউরেখার মতো আমরা নতুন করে ভাঙি নতুন করে গড়ি-দেহকাব্য পাঠে তৃষ্ণা মেটে না কিছুতেই-এর নাম প্রেম না প্রার্থনা হিসেবে করিনি কখনো।

প্রথমবেলা শেষবেলা বলে কিছু নেই- একই তৃষ্ণায়- একই মুগ্ধতায়- একই অভিসারে সমর্পণে একই স্রোতে তুমি বুকের ভেতর সুন্দরের অধিক সুন্দর।