নজরুল ও উত্তর ঔপনিবেশিক চিন্তা

ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬

নজরুল ও উত্তর ঔপনিবেশিক চিন্তা

মজিদ মাহমুদ ৩:১৯ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৯

print
নজরুল ও উত্তর ঔপনিবেশিক চিন্তা

ইদানীং রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য-তত্ত্ব আলোচনার ক্ষেত্রে কিছুটা আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেই আগ্রহের অধিকাংশ যে তথ্য ও তত্ত্বকেন্দ্রিক এবং জ্ঞানকাণ্ডিক ঔপনিবেশিকতার মধ্যে সীমায়িত, তা একটু লক্ষ করলেই বুঝতে পারা যায়। সেদিক দিয়ে প্রণালীগতভাবে এই চিন্তার ধরনও অনেকটা ঔপনিবেশিক প্রপঞ্চেরই অংশ বলা যায়। দুনিয়ার সব শোষিত একই যন্ত্রণার অংশীদার হলেও যখন শুধু ইতিহাসের কিংবা কালের প্রতীকায়ন হিসেবে তা হাজির করা হয় তখন স্থানিক ও কালিক বঞ্চনা যে আরও প্রকট হয়ে ওঠে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ঢাকায় উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্যের তত্ত্ব নিয়ে মূলত, আলোচনার সূত্রপাত গত শতাব্দীর আশির দশকে এ বিষয়ে দুই একটি বিদেশি বই অনুবাদের মাধ্যমে; বিশেষ করে অ্যাডওয়ার্ড সাঈদের প্রাচ্যতত্ত্বকে কেন্দ্র করে। যদিও সে আলোচনার আগ্রহের মধ্যেও একটি বিশেষ মানসিকতার প্রকাশ লক্ষ করা গেছে, তবু আখেরে এটি বাঙালি-চিন্তার জগতে একটি নতুন সংযোজন আকারে হাজির হয়েছে। তবে উত্তর-উপনিবেশ-তত্ত্ব ও নেগ্রিচুড আন্দোলনের গুরু এইমে সিজায়ের মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে এ আলোচনা আরেকটু জোরেশোরে শুরু হয়।

এর আগে তার শিষ্য ফ্রান্জ ফাঁনোর দু’একটি বই বাংলাতে অনুবাদ হলেও খুব একটা সরবতা লক্ষ করা যায়নি। সিজায়েরের চেয়ে ফ্রান্জ ফাঁনো এ দেশে একটু আগে পৌঁছানোর কারণ হয়তো মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে উপনিবেশবিরোধী এই মনো-চিকিৎসকের মৃত্যু। তাছাড়া এখন পর্যন্ত যেহেতু আমাদের বৈশ্বিক জ্ঞান কিছুটা অনুবাদনির্ভর, সেহেতু যেসব গ্রন্থ এখনো অনুবাদ হয়নি, তা নিয়ে বেশি লোকের কথা বলা একেবারে সম্ভব নয়।

পাশাপাশি উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য-চর্চার ক্ষেত্রে আরও একটা বিষয় লক্ষ করা গেছে, এই আন্দোলনের দাবিদার মূলত আফ্রো-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ লেখককুল ও চিন্তকগণ। যাদের পূর্বপুরুষ একটি সময় আফ্রিকা থেকে শুধু উৎপাদনের যন্ত্র হিসাবে মার্কিন মুলুকে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন; কিংবা আফ্রিকার যেসব এলাকায় ফরাসি উপনিবেশ ছিল বা তাদেরই ডায়াসপোরা লেখকগণ এই চেতনার ধারক। কিন্তু তার মানে এই নয়, এশিয়া কিংবা অন্য অঞ্চলের লেখকগণ এই তত্ত্বায়নের অন্তর্ভুক্ত হননি। বিশেষ করে ল্যাতিন আমেরিকার উননিবেশিত লেখককুলের মধ্যে এই চেতনা অন্যভাবে বিকশিত হয়েছে। তা ছাড়া তত্ত্বের কোনো কাল নেই, এটি প্রবণতার দ্বারাই চিহ্নিত।

কিন্তু যে বিষয়টি তথ্যজ্ঞ-মহলকে ব্যথিত করে তুলতে পারে তাহলো, এই আলোচনায় পদ্ধতিগতভাবে নজরুলের নাম খুব একটা উচ্চারিত হয় না। এসব আলোচনা যদি কেবল তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত তাহলে এ আলোচনার দরকার হতো না। কারণ, উত্তর ঔপনিবেশিক সাহিত্যতত্ত্বের আলোচনা কেবল নির্বিষ তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের পর্যায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিদেশি শোষকের চরিত্র বিশ্লেষণেও এ তত্ত্ব দারুণ ক্রিয়া করে থাকে। আর সেই আলোচনায় নজরুল হাজির না থাকার অর্থ জ্ঞানের নব-ঔপনিবেশিকতা এখনো ক্রিয়াশীল। যেসব উত্তর-ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিকের কথা এখানে উচ্চারিত হয়েছে, তাদের প্রায় সবার জন্ম নজরুলের সাহিত্যিক পরিপক্বতা অর্জনের পর। যেমন নজরুল-জন্মের তেরো বছর পরে এইমে সিজায়ের, ছাব্বিশ বছর পর ফ্রান্জ ফাঁনো এবং আটত্রিশ বছর পর অ্যাডওয়ার্ড সাঈদের জন্ম। কেবল তা-ই নয়, এ ধারার উল্লেখযোগ্য সব লেখক কাজী নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ।

এইমে সিজায়ের একজন কবি ও তাত্ত্বিক; পাশাপাশি নেগ্রিচুড আন্দোলনের নেতা। তার দেশও ফরাসি উপনিবেশের অধীনে ছিল। এসব বিবেচনায় একমাত্র নজরুলের সঙ্গে তার মনের ও কর্মের ঐক্য পাওয়া যায়। আর এ জন্য এই আলোচনার শুরুতে একটু বেশি ভূমিকা করা অপ্রাসঙ্গিক নয়। উত্তর-উপনিবেশ সাহিত্যের পুরোধা সিজায়েরের পঁচানব্বই বছর বেঁচে থাকলেও তার রচনার পরিধি খুব একটা বিস্তৃত নয়; তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কাহির দু রি তু অ্যাপে নেতাল’ প্রকাশি হচ্ছে ১৯৩৯ সালে, তত দিনে কাজী নজরুল ইসলাম তার সব কর্ম প্রায় সাঙ্গ করে ফেলছেন; এবং এই সময় পর্যন্ত নজরুল এমন একজন লেখক হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন; কেবল দেশে নন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রায় সর্বত্র তার বাণী আন্দোলিত হয়েছে। তার প্রমাণ আমরা নজরুল জীবনের শুরুতেই পেয়েছি।

১৯২২ সালে অক্টোবর মাসে নজরুলের যুগপৎ কবিতা ও প্রবন্ধের দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছে, যা একই সময় বাংলা সাহিত্যের নিঃস্তরঙ্গ প্রবাহকে খানিকটা অন্দোলিত করেছিল এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। দুটি গ্রন্থই ব্রিটিশ সরকারের নজরে আসে এবং নিজ দেশে মতপ্রকাশের ধারকগণ গ্রন্থ দুটি বাজেয়াপ্তের তালিকায় নিয়ে আসে। ‘অগ্নিবীণা’ সরাসরি বাজেয়াপ্ত না হলেও তার প্রচার প্রকাশনার প্রতি নজর রাখা হয়, এবং এই কাব্যগ্রন্থের পাঠক ও বাহকদের প্রতি পুলিশ নজরদারি অব্যাহত রাখে। কিন্তু ‘যুগবাণী’ প্রকাশের পরপরই তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার গ্রন্থখানি বাজেয়াপ্ত করেন এবং ১৯৪৭ সালের আগে পর্যন্ত এই নিষিদ্ধ পরোয়ানা জারি থাকে। ফলে ব্রিটিশ বিদায়ের আগ পর্যন্ত গ্রন্থখানি দ্বিতীয় মুদ্রণের মুখ দেখেনি। মাত্র বিশ বছর বয়সের একজন তরুণ কবি কী লিখেছিলেন এই গ্রন্থে-যা সরকারের এমন নিবর্তন আইনের শিকার হয়েছিল?

নজরুল এই গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘স্বরাজ টরাজ বুঝি না, কেননা, ও কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশ বিদেশিদের অধীনে থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা, শাসনভার সম্পূর্ণ থাকবে ভারতের হাতে। তাতে কোনো বিদেশি মোড়লীর অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না। যারা এখন রাজা বা শাসক হয়ে এ দেশে মোড়লী করে এ দেশকে শ্মশান ভূমিতে পরিণত করেছেন, তাদের পাততাড়ি গুটিয়ে, বোচকা পুঁটলি বেঁধে সাগর পাড়ে পাড়ি দিতে হবে। প্রার্থনা বা আবেদন নিবেদন করলে তারা শুনবে না। তাদের সবটুকু সুবুদ্ধি হয়নি এখনো। আমাদের এই প্রার্থনা করার, ভিক্ষা করার কুবুদ্ধিটুকু দূর করতে হবে।’ নজরুলের আগে পৃথিবীর আর কোনো কবি প্রবল পরাক্রমশালী ব্রিটিশ রাজকে এভাবে ধমক দিতে পারেননি। এমনকি এ দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যেও কেউ তখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে ভারতবর্ষের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দাবি করেননি। কংগ্রেস, খেলাফত ও মুসলিম লীগের বাঘা বাঘা নেতারা তখন পর্যন্ত হোমরুল নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। তার মাত্র কয়েক মাস আগে আরেকজন উর্দু কবি হসরৎ মোহানি আহমেদাবাদের কংগ্রেস সভায় পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দাবি করে সরকার ও দলীয় নেতাদের রোষানলে পতিত হন। নজরুলের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা কোনো প্রক্ষিপ্ত বিষয় ছিল না; কারণ বয়সে তরুণ হলেও একটি রাজনৈতিক সংশ্লেষের মধ্য দিয়েই তার বিকাশ হয়েছিল।

১৯২০ সাল থেকে রাজনৈতিক সান্ধ্য দৈনিক ‘নবযুগ’-এ লিখিত সম্পাদকীয় নিবন্ধগুলোই ‘যুগবাণী’ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। তা ছাড়া নজরুলও অন্যান্য উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্যবেত্তাদের মতো রাজনৈতিকভাবে মার্কসীয় সাম্যবাদে অনুরক্ত ছিলেন। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে ১৯২৫ সালে যে ‘কৃষক-শ্রমিক স্বরাজ পার্টি’ গঠিত হয়, নজরুল ছিলেন তার অন্যতম সভ্য; এমনকি তার মুখপত্র ‘লাঙল’ ও ‘গণবাণী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই মনে হয় পৃথিবীর প্রথম কবি যার কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সাম্যবাদী’ যেটি প্রকাশিত হয় অন্যতম উত্তর-ঔপনিবেশিক চিন্তক ফ্রান্জ ফাঁনোর জন্মের এক বছর আগে ১৯২৫ সালে।

এই পার্টির জন্য তিনি যে সংগীত রচনা করেন তার নাম দেন ‘অন্তর-ন্যাশনাল সংগীত’- সেখানে তিনি বলেন, ‘জাগো অনশন-বন্দী ওঠ রে যত/ জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত।’ পোস্ট কলোনিয়াল তত্ত্বের যেহেতু একটি আন্তর্জাতিকতাবাদ রয়েছে সেহেতু নজরুলের কণ্ঠস্বর কেবল তার সময় ও কালের মধ্যে সীমায়িত থাকেনি। যেখানেই ক্ষুধা ও বঞ্চনা, শোষণ ও অত্যাচার সেখানেই নজরুল-সাহিত্য সক্রিয় থেকেছে। আর ব্রিটিশ ভারতে জন্মগ্রহণের ফলে নজরুল-সাহিত্য কেবল ভারতীয় ভৌগৌলিক সীমানায় তখনো সীমাবদ্ধ ছিল না; তাহলে নজরুলকে এই তত্ত্বের গুরু হিসেবে পালনের কার্পণ্য কোথায় সেটিও তলিয়ে দেখা দরকার।

নজরুল তার সক্রিয় সাহিত্য জীবনে যত প্রকার গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন তার প্রায় অধিকাংশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে কিংবা তাদের দুষ্ট শাসনের ফলে সামাজিক যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল তার বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ করে তোলা। পাশাপাশি উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য তত্ত্বের পুরোধাদের সাহিত্যের মান বিবেচনাতেও নজরুলের অবস্থানটি এখন পর্যন্ত ঊর্ধ্বে ও অনড়। যেমন এইমে সিজায়ের একজন কবি ও নাট্যকার হিসেবে মৌল প্রতিভার তেমন পরিচয় রাখতে সক্ষম হননি; তিনি সাহিত্যের সামাজিক ব্যাখ্যাকার হিসাবে তার নতুন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন। যেমন তিনি শেক্সপিয়ারের ‘দ্য টেম্পেস্ট’ নাটকের অনুকরণে ‘উনে টেমপেত’ নামে একটি নাটক রচনা করেন, যেখানে তিনি শেক্সপিয়ারের সৃষ্ট অর্ধ মানবসুলভ চরিত্র ক্যালিবান ও এরিয়েলদের ইউরোপীয় অধিকৃত ভূখণ্ডের আদিবাসি কিংবা আফ্রিকা থেকে ধরে আনা দাস হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

শত শত বছর ধরে যে ক্যালিবন এবং এরিয়েল শেক্সপিয়ারের নাট্য দর্শকের কাছে অর্ধ-মানব হিসেবে পরিচিত ছিল; সিজায়ের তাকে প্রথম মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। বললেন, ওই ক্যালিবানই আসলে এই দ্বীপের প্রকৃত মালিক; আদিবাসী রেডইন্ডিয়ান বা যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এরিয়েল আফ্রিকা বা অন্য কোনো ভূখণ্ড থেকে ধরে আনা জনমদুখী দাস।

ইদানীং অনেক নজরুল ভক্তকে বলতে শোনা যায়, নজরুলকে ‘বিদ্রোহী’ কবি বলা তার মর্যাদার জন্য সুখকর নয়। কিন্তু নজরুল ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনার প্রায় তিরিশ বছর পরে উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্ত্বের আরেকজন উদ্গাতা ফ্রান্জ ফাঁনো ১৯৫২ সালে তার ‘ব্লাক স্কিন হোয়াইট মাস্ক’ গ্রন্থে বলেন, একজন ভূমিপুত্র ঔপনিবেশিক প্রভুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার মাধ্যমে প্রথম নিজ ভূমির দাবি প্রতিষ্ঠা করেন। এমনকি তিনি এও বলেন, নিজ ভূমিতে কোনো ভূমিপুত্র কলোনাইজারদের কাউকে গুলি করে মারার মধ্য দিয়ে সে প্রথম নিজ ভূমিতে দাঁড়ানোর আস্বাদ পান। ফলে নজরুলের বিদ্রোহী-সত্তা সর্বদা উত্তর-ঔপনিবেশিক-সত্তার সমান্তরাল। এখন প্রশ্ন ঢাকার সাহিত্যাঙ্গনে উত্তর-ঔপনিবেশিক চর্চার ক্ষেত্রে নজরুল কেন প্রায় আলোচনার বাইরে থেকে যান? অনেক তরুণ ও তাত্ত্বিককে গর্ব করে এইমে সিজায়ের, ফ্রান্জ ফাঁনো কিংবা এডওয়ার্ড সাঈদের নাম নিতে দেখা যায়।

এমনকি তারা তাদের বিদ্রোহী সত্তার বিকাশের রূপকার হিসেবে উপর্যুক্ত ব্যক্তিদের বিবেচনা করে থাকেন। তারা তাদের পঠন ও কর্মের বিশ্বাসকে একটি ঊর্ধ্বলোকে তুলে ধরতে চেষ্টা করেন; এবং চারিপাশ্বের বন্ধুদের সঙ্গে নিজের জ্ঞানতাত্ত্বিক উচ্চবর্গীয় ধারণা পোষণ করেন, যা নজরুলীয় ভূমিচেতনার বাইরে। বর্তমানে ঢাকাকেন্দ্রিক তাত্ত্বিক প্যারাডাইমে নজরুলকে অঙ্গিভূত করা মধ্যে কিছুটা বুদ্ধিবৃত্তিক ঝুঁকি রয়েছে। তার চেতনার স্বীকৃতি মানে সর্বদা নজরুলের মতো বিরুদ্ধ স্রোতে থাকা; রাজানুগ্রহ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকতার স্বীকৃতি তার জন্য অবারিত নয়।