দ্য সংস অব ফিশারম্যান

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

দ্য সংস অব ফিশারম্যান

শিমুল জাবালি ২:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৯

print
দ্য সংস অব ফিশারম্যান

শিল্প-সাহিত্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে উঠে আসেনি। তা কোনো এক এক অজানা কারণেই আড়ালে রয়ে গেছে। বাংলাদেশের নদী ও নদী-জীবন নিয়ে অসংখ্য কালজয়ী উপন্যাস, গল্প এমনকি থিয়েটার ও সিনেমাও সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ কিংবা বাংলার ঐতিহ্য সম্ভার নিয়ে ভাবলে দেশের উপকূলীয় মানুষের জীবনযাপন বড় একটা অংশ নিয়ে দখল করে থাকে। অথচ সে অর্থে এ দেশের আর্ট কালচারে সাগর তীরবর্তী উপকূলীয় জীবনযাপনের কোনো প্রতীয়মান আমরা দেখেতে পাই না। সেদিক দিয়ে মং মং সোর ‘দ্য সংস অব ফিশারম্যান’ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

মং মং সো গোটা শৈশবকে পুঞ্জি করে সাজিয়েছেন তার ‘দ্য সংস অব ফিশারম্যান’। বাংলাদেশি এই শিল্পী তার জলরঙের জাদুর ছোঁয়ায় এঁকেছেন জেলে সমাজের জীবনযাপনের গল্প। যেখানে ছবিতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে উপকূলীয় জেলেদের সংগ্রামের ইতিহাস। মং মং সোর জন্ম কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর প্রাকৃতিক লীলাভূমিতে যেখানে পাহাড়-সমুদ্র ছবির মতোই বিস্তৃত।

এ বছরের ২১ মে ইউনান আর্টস ইউনিভার্সিটির ফাইন আর্টস গ্যালারিতে শুরু হয়েছিল তার একক চিত্রকলা প্রদর্শনী ‘দ্য সংস অব ফিশারম্যান’ শিরোনামে। এটি শিল্পীর প্রথম একক প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীটি কিউরেটিংয়ে দায়িত্বে চায়নার মাস্টার আর্টিস্ট, আর্টস ইউনিভার্সিটির চারুকলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর চ্যান লিও ইউনান।

‘দ্য সংস অব ফিশারম্যান’-এ শিল্পী তার বেড়ে ওঠার পরিবেশকে ফুটিয়ে তুলেছেন নিবিড়ভাবে। তার বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে পরিচিত জেলে নৌকা, জেলে পাড়া, মাছের অঞ্চল, সমুদ্র সবকিছুই যেন জল রঙে রাঙা একেকটি ক্যানভাসে। তার প্রতিটি ক্যানভাস জলরঙের নিখুঁত ছোঁয়ায় মাছ ধরার নৌকা ও জেলেদের জীবনের গল্পে পরিপূর্ণ। আর তার জলরঙের ওপর পরিপূর্ণ দখলদারির জন্যই হয়তো সেসব গল্প আরও জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে আর্টস গ্যালারিতে।

মনোমুগ্ধকর এই প্রদর্শনী চলবে ২৫ মে পর্যন্ত। পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ইউনান আর্ট একাডেমির সেক্রেটারি প্রফেসর হোয়াং ইয়েনলিং, ইউনান আর্টস ইউনিভার্সিটি চ্যান্সেলর প্রফেসর কো হাউ, বাংলাদেশ কনস্যুলেট অব কুনমিং চায়নার কনস্যুলার জেনারেল মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ইউনান আর্টস ইউনিভার্সিটির ফাইন আর্টস অ্যাকাডেমি প্রধান প্রফেসর চ্যান লিউ, দক্ষিণ এশিয়ার আর্ট এক্সচেঞ্জ এবং রিচার্স সেন্টারের প্রধান থিং ইউলুন, ইউনান আর্ট একাডেমির আন্তর্জাতিক আর্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টারের প্রধান প্রফেসর হউ ইয়ুনফাং, দক্ষিণ এশিয়ার আর্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টারের শিক্ষক চাং টিং টিং। চিত্রকলা প্রদর্শনীতে ইউনানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও আসছেন-যাচ্ছেন।

মং মং সো তার দ্য সংস অব ফিশারম্যান নিয়ে বলেন ‘আমি বাংলাদেশের সন্তান। আমার বিকাশের জায়গাটা পুরোটায় আমার দেশ। সেই স্মৃতিগুলোই আমি আমার আঁকাআঁকির উপজীব্য করেছি। আমার শৈশবের নৌকাগুলো, যার ওপর থেকে আমি লাফ দিতাম পানিতে, কাদামাটি দিয়ে নৌকা বানিয়ে খেলা করতাম সেগুলোই আমার মনোজগতে আজও গেথে আছে। জানাশোনা বিষয়গুলো নিয়েই আমি আমার প্রথম প্রদর্শনীটি করতে চেয়েছিলাম। দ্য সংস অব ফিশারম্যান আমার শৈশবের গল্প। আমার ফেলে আসা বাংলাদেশ।’