ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১২ বৈশাখ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

এ পোয়েম বাই রবীন্দ্রনাথ

শিমুল জাবালি
🕐 ১:৫০ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০১৯

১৯৩৫ সাল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন শান্তি নিকেতনে বাস করতেন। জীবনের শেষ অধ্যায়ে তখন তিনি। জীবন সায়াহ্নে যে ঘরখানিতে তিনি থাকতেন তার নাম দিয়েছিলেন ‘উত্তরায়ন’। কবিগুরুর রাইটিং প্যাডেও একটি মনোগ্রামের ডান ধারে লেখা ছিল উত্তরায়ন, শান্তিনিকেতন, বেঙ্গল। এই রাইটিং প্যাডে তিনি ফাউন্টেন পেনে (ঝরনা কলম) একটি ইংরেজি কবিতা লিখে পাঠিয়েছিলেন ভারতবর্ষের ইলাসট্রেটেড ইন্ডিয়া পত্রিকায়। কবিতার কোনো শিরোনাম ছিল না।

পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ১৯৩৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় কবিগুরুর রাইটিং প্যাডে নিজের হাতের লেখা সেই শিরোনামহীন কবিতা হুবহু ছাপিয়ে দেয়। পত্রিকা শিরোনাম দেয় ‘এ পোয়েম বাই রবীন্দ্রনাথ স্পেশালি সেন্ট ফর আওয়ার উইকলি’ (রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা যা বিশেষভাবে আমাদের পত্রিকায় ছাপানোর জন্য তিনি পাঠিয়েছেন)। ইংরেজিতে কবিতাটি এ রকম

Yes it is my own wish that my seeking
may never come to its end
I desire not final fruits,
for they become a barden when gained.
They arrive in their own time,
they drop to the dust,
they comes the chance for my flowers
to blossom anew,
Let me not fear the struggle of endeavour
and be sure of the giving that is endless
and the delight of receiving
in constant recurrence.

যেটি ভাষান্তর করলে দাঁড়ায় ‘ইচ্ছা মোর যেন নাহি যায় থেমে/এই মোর আশা/চূড়ান্ত ফল চাই না আমি, সে তো বড় বোঝা/সময়েতে ফল ফলে যায়/তারপর ঝরে পড়ে যায় ধুলায় মিশে/ইহার পরে নতুন ফুলের সুযোগ আসে, নতুন করে ফোঁটার/চেষ্টা কিংবা লড়াই, এদের করি না ভয়/ত্যাগ আমার নিরন্তর, এই বিশ্বাসে স্থির আমি/প্রাপ্তির আনন্দও ধ্রুব অবিরাম জানি।’

কবিগুরুর নিজের হাতের লেখা এ কবিতা ইলাসট্রেটেড ইন্ডিয়া পত্রিকায় ছাপা হওয়ার পর বগুড়ার নওয়াব পরিবারের কোনো এক সদস্য সেই পত্রিকাটি কিনে রাখেন, যা থাকে নওয়াব বাড়ির অনেক বই-পুস্তক ও পত্রিকা সংগ্রহশালায়, যা স্তূপ হয়ে আছে। একসময় দেশের প্রতিটি এলাকায় বনেদি পরিবারের বাড়িতে সংগ্রহশালা ছিল, যা ছিল একেকটি মিনি লাইব্রেরি। যেখানে মিলত অনেক মূল্যবান বই-পুস্তক, কাগজের পাতা। বছর কয়েক আগে বগুড়ার গবেষক আব্দুর রহিম বগ্রা নওয়াব বাড়িতে পুরনো দিনের সংগ্রহশালায় প্রবেশাধিকার পান। এ সংগ্রহশালার দায়িত্বে ছিলেন সাইফুদ্দিন আহমদ।

তিনি নওয়াব পরিবারের আলতাফ আলী চৌধুরী ও তদানীন্তন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী বগুড়ার বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরাখবর সংগ্রহ করা পত্রিকা যত্নে রাখতেন। আব্দুর রহিম বগ্রা সেই পত্রিকাগুলো ঘাঁটতে গিয়ে পেয়ে যান এক অমূল্য রতন। রবীন্দ্রনাথের হাতের লেখা কবিতা হুবহু ছাপা হয়েছে ইলাসট্রেটেড ইন্ডিয়া পত্রিকার ভেতরের পাতায়। আব্দুর রহিম বগ্রা পত্রিকার ওই পাতা যত্নসহকারে সংগ্রহের শর্তে সাইফুদ্দিন আহমদের কাছে চান।

রবীন্দ্রনাথ ৭৬ বছর বয়সে সর্বশেষ নওগাঁর পতিসরে আসেন ১৯৩৬ সালে। এ সময় তিনি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশে আশীর্বাদ বাণীও দেন।

রবীন্দ্রনাথের ইংরেজিতে লেখা অনেক কবিতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যে পদধূলি দেন। ইলিনয় রাজ্যের শিকাগো শহর থেকে প্রকাশিত এজরা পাউন্ডের পোয়েট্রি পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির ছয়টি কবিতা। ১৯৫৩ সালে বিশ্বের মানুষের কাছে রোমান্টিসিজমের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র গ্রেগরি পেক অড্রে হেপবার্ন অভিনীত রোমান হলিডে ছবিতে রবীন্দ্রনাথের অনন্ত প্রেম কবিতার প্রথম দুই পঙ্ক্তি ইংরেজিতে আবৃত্তি করেন গ্রেগরি পেক।

 
Electronic Paper