ম্যাগাজিন বিহীন বন্দুক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

ম্যাগাজিন বিহীন বন্দুক

নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর ২:১৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৯

print
ম্যাগাজিন বিহীন বন্দুক

প্রশাসনে চাকরি করতে এসেছো, কিছু বিষয় সব সময় মাথায় রাখবে। যেমন, সিনিয়র যা বলে সেটা শুনবে। যা করতে বলে সেটা করবে। তর্ক তো কখনই না। কখনো অবাধ্য হবে না। সর্বোপরি, মনে রাখবে, বস ইজ অলওয়েজ রাইট। বুঝতে পারছো?’

বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় নবীন কর্মকর্তাদের স্বাগত জানিয়ে যোগদানের দিনই এমন উপদেশ দিয়েছিলেন। আমরা নির্বাক মৌনতাসহ তাঁর কথা শুনেছিলাম।

জেলায় পদায়ন হওয়ার পর জানতে পেরেছিলাম, চাকরির শুরুতে এমন উপদেশ অগ্রজ সব সহকর্মীই পেয়েছিলেন। আর নিকটতম জ্যেষ্ঠ সহকর্মী যাদের সঙ্গে দ্রুত সৌহার্দ গড়ে উঠেছিল তাঁদের কাছে আরও জেনেছিলাম, কেবল উপদেশমূলক বাক্য নয়, সিনিয়র যখন কথা বলবেন তখন প্রতিটি বাক্য শেষে ‘জি স্যার’ বলতে হয়। শুধু জি বললেও হবে না, জি স্যার বলতে হয়। যে যত তাড়াতাড়ি ‘জি স্যার’ বলা রপ্ত করতে পারে সে তত বড় আমলা হয়ে উঠতে পারে। আমি সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে চেষ্টা করেছিলাম।

চাকরিজীবনের প্রথম ঈদ। ঈদের ছুটির আগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয় একদিন পিয়ন মারফত সালাম দিলেন। আমি হতবাক। বড় কর্তারা পিয়ন মারফত সালামও দেন! এমনতর সালাম কখনো কাউকে দিতে দেখিনি। ভাবলাম, হতেও পারে। আমলাতন্ত্রের ব্যাপার। আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীতে কেউ আমলা ছিলেন না। আমি তো আর আমলাতন্ত্রের আদবকেতা রপ্ত করে চাকরিতে আসিনি। সত্যি কথা হলো, মনে মনে খুশিই হলাম। কিন্তু সালাম পৌঁছে দিয়েও দেখি পিয়নটা দরজার কাছে দাঁড়িয়েই আছে। মনে হলো, সে আরো কিছু বলবে। আমি তার দিকে ভালো করে তাকালাম। চুল-দাড়ি সাদা। আন্দাজ করি, চাকরিকাল প্রায় শেষদিকে।
‘আর কিছু বলবেন?’
‘স্যার, আপনাকে এখনই সালাম দিছেন।’
‘মানে?’

স্তম্ভিত পিয়ন আমার প্রশ্নের উত্তর দেয় না। উত্তর না দেওয়ায় কিছুটা বিরক্ত হলাম। দারোগার নায়ের মাঝির গল্প জানতাম, আমলা-অফিসের পিয়নও কম যায় না! নতুন চাকরির কথা ভেবে নিজেকে সংযত রাখলাম। সেটা করতে গিয়ে টেবিলের রাখা নথিতে মনোযোগ দিতে চেষ্টা করলাম। নথি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্য একটা নথি সাধারণ শাখা থেকে আমাকে দেয়া হয়েছে। এই দেখাটা হাতেকলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণের একটা অংশ।

হাতের কাছের নথিটা সাদা ফিতা দিয়ে বাঁধা রয়েছে। লাল ফিতায় বাঁধা নথির গল্প আমি পড়েছি। লাল ফিতা দিয়ে বাঁধা নথি সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। নথির বাঁধন খুলে দেখি, এর ভেতর তোড়া তোড়া কাগজ। কাগজগুলো প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। ওপরের দিক বা প্রথম ভাগের কাগজের শিটগুলো নীল। দুপাশে মার্জিন আছে। প্রথম পৃষ্ঠা থেকে নম্বরসহ অনুচ্ছেদ আকারে লেখা। কোনো অনুচ্ছেদ টাইপ করা হয়েছে আবার কোনো কোনোটা হাতে লেখা। অনুচ্ছেদের নিচে স্বাক্ষর ও তারিখ দেয়া আছে। প্রথম অনুচ্ছেদে পত্রসূত্রের উল্লেখসহ কোনো একটা বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। পরের অনুচ্ছেদে অতিবিনয়ের সঙ্গে কোনো একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তারপরের অনুচ্ছেদ হাতে লেখা: ‘সদয় অনুমোদন করা যাইতে পারে।’ নিচে স্বাক্ষর ও তারিখ। স্বাক্ষরের ডান পাশে আরো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও তারিখ। প্রতিটি প্যারার নম্বর রয়েছে। প্রথম প্যারার মার্জিনে পত্রপৃষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে। নথিভুক্ত এসব নীল কাগজকে বলে নোট শিট। নিচের বা দ্বিতীয় ভাগের কাগজ সাদা। অনেকটা অগোছালো। এগুলো চিঠিপত্র। চিঠিপত্রের ওপরে ডান পাশে কলমে পত্রের কোণায় উল্টোদিক অর্থাৎ নিচ থেকে পত্রপৃষ্ঠা দেয়া হয়েছে। এই নম্বরগুলোই নোট শিটের মার্জিনে উল্লেখ করা রয়েছে। নোট শিট কেন নীল এবং চিঠিপত্র কেন সাদা এ নিয়ে আমি ভাবতে থাকি। আমার মনে হয় প্রথম ভাগের মর্যাদা বেশি। তাই এরা নীল। আর দ্বিতীয় ভাগের গুরুত্ব কম।

‘স্যার। বেয়াদবি মনে না করলে আমি একটা কথা বলব।’
‘বলুন।’ ‘আপনি বোধহয় আগে আর সরকারি চাকরি করেন নাই।’
‘না, করিনি। সরকারি-বেসরকারি কোনো চাকরিই করিনি। তাতে কী হয়েছে? এ বিষয়ে জানতে চাইছেন কেন?’
‘স্যার যে আপনারে সালাম দিছেন, আমার মনে হয় আপনি বুঝতে পারেননি।’
‘না বোঝার কী আছে? আপনি আমাকে কী বোঝাবেন?’
‘মাফ করবেন স্যার। আমি সামান্য পিয়ন। কিন্তু স্যার আমার অভিজ্ঞতা আপনার চাইতে বেশি। তাই।’ ‘আচ্ছা, বলুন, কী বলবেন।’
‘এডিসি স্যার আপনাকে এখনই যেতে বলেছেন। দেরি করলে ভীষণ রাগ করবেন।’
‘আগে বলেননি কেন?’
‘আমি বুঝতে পারছিলাম, স্যার সালামের মানে বুঝতে পারেননি। তাই তো দাঁড়িয়ে আছি।’
‘কী বললেন? সালামের মানে!’
‘বড় স্যার অধস্তন স্যারকে ডাকেন সালাম দিয়ে।’
আমি আরো বেশি অবাক হয়ে পিয়নের দিকে তাকালাম। কী সর্বনাশ! কতক্ষণ আগে যেতে বলেছেন আর আমি কি না নথিচর্চা করছি! আমি কালবিলম্ব না করে এডিসি স্যারের কামরায় উপস্থিত হলাম।
‘তুমি তো নতুন বিয়ে করেছো?’
‘জি স্যার।’ ‘তোমার শ্বশুরবাড়ি তো চট্টগ্রামে?’
‘জি স্যার।’
‘তোমার মিসেস তো এখনো তার বাপের বাড়িই থাকে?’
‘জি স্যার।’

যোগদানের পরই জেনেছি এডিসি জেনারেল একজন জেনারেলের মতোই মেজাজী মানুষ। তাঁর স্বাভাবিক বাচনও ধমকের মতো শোনায়। কিন্তু যে ভয় নিয়ে আমি বসের কক্ষে ঢুকেছিলাম তাঁকে দেখার পর আমার কেটে গেল। বরং তিনি হাসিমুখেই কথা বলছেন। তবু আমি ভাবতে থাকি বস আমার পারিবারিক তথ্য কেন নিচ্ছেন। আমার বউ আমার বাপের বাড়ি নাকি ওর বাপের বাড়ি থাকে, এসব তো দাপ্তরিক বিষয় হওয়ার কথা নয়।

‘যাও, ঈদের ছুটিতে শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসো।’
‘জি স্যার।’
আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত স্নেহ আর বদান্যতায় আপ্লুত হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকি। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলেন, ‘ঠিক আছে?’
‘জি স্যার।’
‘আর কিছু বলবে?’
‘জি স্যার।’ ‘আবার কী কথা?’
‘তিন দিন মাত্র ছুটি, চট্টগ্রাম যাওয়া-আসাতেই লেগে যাবে, বেড়ানো হবে না।’
‘সমস্যা নেই।’
‘জি স্যার!’
‘ঈদের ছুটির পর একদিন অফিস এরপর আবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। ওই একটা দিন তোমার জন্য ফ্রেন্ডস লিভ। তুমি একটানা পাঁচ দিন শ্বশুরবাড়ি কাটিয়ে এসো।’
‘জি স্যার।’ ‘আর হ্যাঁ, যাওয়ার আগে আমার সঙ্গে অবশ্যই দেখা করে যেও।’ ‘জি স্যার। অবশ্যই স্যার।’
ছুটিতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করতে ভুলিনি। তাঁর বদান্যতা আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেখা করতে গিয়ে জানতে পারি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের একটা বন্দুক আছে। কিন্তু বন্দুকের ম্যাগাজিনটা হারিয়ে গেছে।
‘তুমি চট্টগ্রাম থেকে বন্দুকের একটা ম্যাগাজিন নিয়ে এসো। পারবে তো?’
‘জি স্যার। খুব পারব।’
অতিরিক্ত হাসলেন, ‘আমি লিখিত অনুমতি দিয়ে দিচ্ছি, অথরাইজেশন ছাড়া তোমার কাছে কেউ ম্যাগাজিন বেচবে না।’
‘জি স্যার।’

পয়েন্ট টু টু বোর বন্দুকের একটা ম্যাগাজিন। খুব ছোট একটা কাজ। সামান্য কাজটা করতে গিয়ে আমি যে অসামান্য সমস্যায় পড়ে যাব সেটা আগে ভাবতে পারিনি। আমি ঈদের আগে আন্দরকিল্লায় সব বন্দুকের দোকানে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পয়েন্ট টু টু বোর ম্যাগাজিন আর পেলাম না। শেষে এক দোকানদার বললেন, ঈদে এলে দিতে পারবেন। কিন্তু ঈদের পর বন্দুকের দোকান আরো দুদিন পর খুলবে না সেটা আমার ভাবনায় আসেনি। আর দোকান খুললেও পয়েন্ট টু টু বোর বন্দুকের ম্যাগাজিন মিলল না। যা হোক, কর্মস্থলে ফিরে এসে আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। আজও তাঁকে বেশ খোশ মেজাজেই আছে দেখতে পেলাম।

‘শ্বশুরবাড়ি বেড়ানো আনন্দময় হয়েছে নিশ্চয়। ডিসি সাহেব অবশ্য তোমার খোঁজ করেছিলেন। আমি বলেছি, নতুন বিয়ে করেছে। আসতে দু’একদিন দেরি তো হতেই পারে।’
‘জি স্যার। আমি দেরি করতাম না। কিন্তু বন্দুকের দোকান দুদিন বন্ধ ছিল।’ ‘না, না, তাতে কোনো অসুবিধা নেই।’
‘জি, স্যার।’ ‘ম্যাগাজিন কই, দাও দেখি। ম্যাগাজিন ছাড়া বন্দুক কোনো কাজের না।’
আমি হকচকিয়ে তাকালাম, ‘জি, স্যার!’
‘দাও। ম্যাগাজিনটা দাও।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহ নিয়ে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে আছেন। আর আমি তখন বেড়ালের থাবার সামনে মুষিকের মতো ম্রিয়মান হয়ে আমার ব্যর্থ চেষ্টার কথা সবিস্তার মহোদয়কে অবহিত করলাম। তিনি চোখ ছানাবড়া করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রূপকথার গল্প শোনার মতো ঘটনা কথা শুনলেন। আমার কথা শেষ হলে পর স্বমূর্তি ধারণ করলেন। ‘অফিস কামাই করবার অজুহাতে এরকম গল্প সবাই করে। চাকরিতে সবেমাত্র জয়েন করেছ, আর এখনই আষাঢ়ে গল্প ফাঁদতে শুরু করেছো? তুমি জানো আমি কী করতে পারি?’

আমি আর ‘জি স্যার’ বলতে পারলাম না। কী বলব বুঝতেও ভেবেও পাচ্ছিলাম না। আমার জিহ্বাটাই বুঝি শুকিয়ে এক চিলতে কাঠ হয়ে গেছে।
‘দাঁড়িয়ে আছো কেন, যাও আমার চোখের সামনে থেকে। বেআদব, মিথ্যুক কোথাকার।’
‘জি স্যার।’

পরদিন আমার এক নতুন অভিজ্ঞতা হলো। আমি আমার অফিস থেকেই একটা পত্র পেলাম। পত্রটি আমাকে গ্রহণ করতে হয়েছে দাপ্তরিক পত্র বিতরণ বইতে স্বাক্ষর করে। খাম খুলে দেখলাম, ঈদের ছুটির পর সপ্তাহান্তের দিনটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির জন্য আমাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আমি এর পরিণতি তো দূরের কথা মর্মার্থও অনুধাবন করতে পারিনি।
বিষয়টা নিয়ে আমি দু’এক অগ্রজ সহকর্মীর সঙ্গে কথা বললাম। তাঁরা বললেন, ‘একজন শিক্ষানবিস কর্মকর্তার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিসপ্রাপ্তি খুবই মারাত্মক ব্যাপার। চাকরির আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য কাউকে এরকম পত্র দেয়া হয়। যথা শিগগিরই এর জবাব দিতে হবে। আর এই জবাবে মিথ্যা বা বানিয়ে কিছু লেখা ঠিক হবে না। মিথ্যা কথায় কর্তৃপক্ষ আরো বেশি অসন্তুষ্ট হতে পারেন। জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হলে তো চাকরিও চলে যেতে পারে। তবে জবাব দাখিল করেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে ক্ষমা চাইতে হবে। একমাত্র তিনিই ক্ষমা করে দিতে পারেন, আর কেউ না।’ সহকর্মীদের কথায় আমি আরো ঘাবড়ে গেলাম।

ঘটনার সবিস্তার বর্ণনা করে কারণ দর্শানোর জবাব আমি যথাসময়ে দাখিল করে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের একান্ত সহকারীর মাধ্যমে তাঁর সাক্ষাৎ প্রার্থনা করলাম। অনতিবিলম্বে তাঁর কক্ষে প্রবেশের অনুমতিও পেলাম।

জেলা প্রশাসক মহোদয় নথি দেখছিলেন। নথি দেখতে দেখতেই তিনি বললেন, ‘বসো।’ এবং ঘণ্টাও বাজালেন। আর্দালি কক্ষে ঢুকলে নথি থেকে চোখ না সরিয়েই বললেন, ‘আমাদের চা দাও।’
আর্দালি আমার সামনে টেবিলের ওপর বিস্কিট, চা আর পানি রেখে গেল। প্রচণ্ড তেষ্টা বোধ করলেও আমি পানির গ্লাসটা হাতে নিতে সাহস পাচ্ছিলাম না।
‘প্রশাসনের চাকরি কেমন লাগছে?’
‘জি স্যার! ভালো।’ ‘তুমি ঈদের ছুটি কাটিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসনি কেন? সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা রেওয়াজ। সিনিয়রদের কেউ তোমাকে বলেনি সেকথা?’
আমি বুঝলাম, না জেনে আরো একটি ভুল করে ফেলেছি।
‘সরি স্যার, ভুল হয়ে গেছে।’
‘যা হোক, ঈদের ছুটি কেমন কাটালে?’
‘জি, স্যার, ভালো।’
জেলা প্রশাসক মহোদয় এবার চোখ তুলে তাকালেন, ‘চা খাও। সঙ্গে বিস্কিট নাও।’
‘জি, স্যার।
‘বন্দুকের ম্যাগাজিন নেই, তাতেও তোমার এত ভয়?’
‘জি, স্যার।’
যা বলছি তাতেই ‘জি স্যার, জি স্যার’ করছো। তুমি কি আর কোনো শব্দ শেখনি?’
‘জি, স্যার।’
‘আবার!’ ‘সরি স্যার।’
জেলা প্রশাসক হাসলেন, ‘রোজ একবার এসে আমার সঙ্গে দেখা করবে। চা খাবো একসঙ্গে।’
‘জি, স্যার।’