উত্তরের উত্তর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

উত্তরের উত্তর

মেহেদী উল্লাহ ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

print
উত্তরের উত্তর

বিপুলাসার, দক্ষিণ বাজার ক্রস করছিল গাড়িটা। এমন সময় একটা কল এলো, আননোন। ধরতেই ও প্রান্ত থেকে এক পুরুষ বেশ বলিষ্ঠ আর দৃঢ় গলায় বলল, ‘থামেন স্যার, থামেন, আপনাকে দেখতে পাইছি আমি, চিনে ফেলছি, থামেন একটু।’
অবাক হয়ে উত্তর দিলাম, ‘কে আপনি? থামব কেন আপনার কথায়, আমি তো চিনি না আপনাকে।’

পরিচয় তো দিলই না উল্টো বলল, ‘প্লিজ স্যার, সামনা-সামনি পরিচয় হবে, আপনার ড্রাইভারকে বলেন খানিক ব্যাকে আসতে।’

ভালো আপদ! হাফ কিলোর মতো ব্যাকে যেতেই দেখি এক ভদ্রলোক নিজেই গাড়ির দরজা খুলে আমাকে নামিয়ে বুকে টেনে নিল। আমি বললাম, ‘সরি, আমি কিন্তু এখনো আপনাকে চিনতে পারিনি।’
‘সে পরে চিনবেন। আগে বাড়ি চলেন।’ তিনি বললেন।

আমার ড্রাইভারও অবাক। সে ভাষা হারিয়ে ফেলেছে ঘটনাচক্রে।
তারপর ভদ্রলোক আমার গাড়িতে চেপে বসে তার গাড়ির ড্রাইভারকে আদেশ দিল, ফলো করতে।
তার বাড়ির পথে যেতে যেতে পরিচয় হলো। এর আগে এর সাথে আমার একবারই দেখা হয়েছিল জীবনে। তখন সে খুব ছোট ছিল। কিন্তু এত দিনেও আমার চেহারা ভোলেনি, এটাই বিস্ময়কর। সত্যি!
‘তা, এতকিছু করলে কীভাবে?’
জানতে চাইলাম।

সে উত্তর দিল, ‘কই এতকিছু! দশটা ব্রিকফিল্ড, পঞ্চাশেক বাস-ট্রাক, কটা বাড়ি, এইত স্যার।’
এবার নিজে থেকেই বলল, ‘ভাগ্যিস প্রশ্নটা করেছিলাম সেদিন আপনাকে। তারপর থেকে তাই মেনে আসছি।’
হুম! উত্তরটা মনে পড়েছে এবার।

ইতোমধ্যে খেয়াল করলাম, সে কেমন যেন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। দেখলে যে কেউ ভয় পাবে।
এর নাম ওয়েশ কুরনী। ছিয়াত্তর সালে একবার একটা পথশিশুদের স্কুলে গিয়েছিলাম, নিজের উদ্যোগেই পরিদর্শনে। যেটি নোয়াখালীতে গান্ধিজির আশ্রমের খুব নিকটেই ছিল। ওয়েশ কুরনী ছিল এতিম বালক তখন, ওই স্কুলটির ছাত্র ছিল সে। গাড়িটি এসে থামল ওয়েশ কুরনীর বাড়ির সামনে। বাড়ি নয়, যেন মহল। বাড়ির নাম ‘টিকটিকি’। একটা পাথরের ইয়াবড় টিকটিকি শুয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে আছে ফটকে।

স্কুল পরিদর্শনে যাবার পর শিশু ওয়েশ কুরনী আমাকে একটা প্রশ্ন করেছিল। সে জানতে চেয়েছিল, ‘মাকড়শা আর টিকটিকির মধ্যে কে বেশি ভালো?’

আমি তাকে সেদিন উত্তর দিয়েছিলাম, ‘মাকড়শা পরিশ্রমী, রবার্ট ব্রুস এর থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্য ফিরে পেয়েছে। আর এটি উদার, বাচ্চারা মা মাকড়শার বুক খেয়েই বড় হয়, সে মারা যায়। অন্যদিকে টিকটিকিও ভালো, কিন্তু তার একটা বদ স্বভাব আছে, খানিক বাদে বাদে এমনভাবে এটি ঘাড় ঘুরায় যেন সে কুমির। এর মধ্যে এক প্রকারের মেকি ভাব আছে, যা তার শরীরের সঙ্গে মানায় না।’ ওয়েশ কুরনী কুমিরের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, ‘টিকটিকি দেখেন স্যার?’