ট্রমাটিক ঘটনার পর ডিব্রিফিং

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ম নে র শ রী র

ট্রমাটিক ঘটনার পর ডিব্রিফিং

শারমিন আরা ২:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯

print
ট্রমাটিক ঘটনার পর ডিব্রিফিং

এখন থেকে হালরং-এ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে নিয়মিত লিখবেন শারমিন আরা

অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জীবন সংকটাপন্ন বা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এমন ধরনের কোনো ট্রমাটিক ঘটনার মধ্য দিয়ে কেউ গেলে আমরা কি করব তা বুঝে উঠতে পারি না। যেমন, কেউ যদি মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসে, কাউকে দুর্ঘটনায় মারা যেতে দেখে যেখানে তার নিজের জীবনও হুমকির মুখে ছিল, কিংবা খুব কষ্টকর কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা হলে ব্যক্তির জন্য একটি ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা। এসিড নিক্ষেপের শিকার হওয়া, শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া, অথবা আজকাল আমাদের চারপাশে যে প্রচুর ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে এগুলো প্রতিটি ট্রমাটিক ঘটনার উদাহরণ। এই ধরনের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা কৌশল ‘ডিব্রিফিং’ বেশ কার্যকরী একটি পদ্ধতি।

ডিব্রিফিং বলতে বোঝায় কোনো ট্রমাটিক ঘটনার অভিজ্ঞতা হওয়ার পর তা অন্যদের কাছে বারবার বর্ণনা করতে থাকা। এর লক্ষ্য হলো সাক্ষাৎকার পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তির স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত ফিরিয়ে আনা এবং ডিসঅর্ডার হওয়ার আগেই ট্রমাটিক ঘটনার স্ট্রেস এর তীব্রতা কমিয়ে আনা। যখন ব্যক্তি কোনো কষ্টের ঘটনার মধ্য দিয়ে যায় তারপর তাকে সেই ঘটনার বিস্তারিত বলতে বলা হয়। কীভাবে হলো, কি কি ঘটেছিল, কে কে ছিল, ওই মুহূর্তে তার কি মনে হয়েছিল ইত্যাদি। সাধারণত বলা হয়ে থাকে এভাবে বারবার ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি ওই ঘটনার সঙ্গে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ব্যক্তি যখন ওই কষ্টপূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করতে থাকে তখন ওই ঘটনার স্মৃতি তার মানসপটে ভেসে ওঠে। ফলে ব্যক্তি আবার ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আবেগ অভিজ্ঞতা লাভ করতে থাকে। অর্থাৎ ব্যক্তি স্মৃতির মাধ্যমে আবার ওই ঘটনার মুখোমুখি হতে থাকে। এভাবে ধীরে ধীরে ওই ঘটনার প্রতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে অথবা ওই ঘটনা সম্পর্কিত তার আবেগের তীব্রতা কিছুটা প্রশমিত হয়। কারণ সাধারণত যখন কেউ কোনো ট্রমাটিক ঘটনার মুখোমুখি হয় তখন তা কারও সঙ্গে শেয়ার না করার ফলে তা আরও আবেগীয় জটিলতা তৈরি করে।

মনোবৈজ্ঞানিক ডিব্রিফ্রিং সাধারণত কোনো ট্রমাটিক ঘটনার পরপরই মানসিক এবং আবেগীয় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে করা হয়ে থাকে। তাছাড়া পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার তৈরি প্রতিরোধ করার জন্য এবং ওই ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব কমানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণত ট্রমাটিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে একটি ডিব্রিফিং সেশন এক থেকে তিন ঘণ্টার হয়ে থাকে। মনোবৈজ্ঞানিক ডিব্রিফ্রিং অনেক সময় গ্রুপেও করা হয়ে থাকে। ঘটনা অনুসারে ডিব্রিফ্রিং এর ধরন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

যদিও ট্রমাটিক ঘটনার পরপরই ডিব্রিফিং সাময়িকভাবে কাজে দেয় তবে এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। একটি গবেষণা থেকে দেখা যায়, মনোবৈজ্ঞানিক ডিব্রিফিং আসলে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এর লক্ষণসমূহ বাড়িয়ে দেয় অথবা চিকিৎসা কে অকার্যকর করে ফেলে। তাছাড়া বলা হয়ে থাকে যে, ডিব্রিফিং পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।